বিদেশি অংশীদারিত্ব পেতে ধীরে চলো নীতিতে ডিএসই

শেষের পাতা

এম এম মাসুদ | ২৩ মার্চ ২০১৮, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:০৩
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী গ্রহণের কার্যক্রমে ধীর গতি সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ডিএসই’র দেয়া চীনের কনসোর্টিয়াম বা জোটের প্রস্তাবটিতে অসম্পন্ন, ত্রুটিপূর্ণ ও নানা অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এজন্য ডিএসইকে প্রস্তাব সংশোধন করতে বলেছে বিএসইসি। গত মাসে অনুমোদনের জন্য চীনের প্রস্তাবটি  বিএসইসিতে পাঠিয়েছিল ডিএসই। ফলে বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে ডিএসই সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিএসই বা চীনা জোটের প্রস্তাবে সমস্যা থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ হলো সমস্যা খুঁজে বের করে সেটার সমাধান করা। কোনো কারণে বাতিল হলে পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তারা।

ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, চীনের বিনিয়োগ পাওয়ার ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী।
ইতিমধ্যেই বিএসইসি সংশোধনের জন্য বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে। ডিএসই সেগুলো মানতে রাজি হয়েছে। তবে এসব শর্তগুলো পরিপালন করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হবে। ইজিএম করতে হবে। পর্ষদের সভা করতে হবে। এগুলো করতে যতটুকু সময় লাগবে এর মধ্যেই আশা করি চীনের বিনিয়োগ নিশ্চিত হয়ে যাবে। বিষয়টা ঝুলে গেল এমন নয়। তিনি বলেন, চীন প্রস্তুত। এখন শুধু আমাদের পক্ষ থেকে কাজগুলো গুছিয়ে নিতে যে সময়টুকু লাগে এর বেশি কিছু না।

ডিএসই সূত্র মতে, চীনা জোটের মতো ভারতের জোটও ডিএসইতে ত্রুটিপূর্ণ প্রস্তাব জমা দেয়। ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারীর প্রস্তাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার জন্য বিএসইসি গত ২২শে ফেব্রুয়ারি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি এক সপ্তাহ আগে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। পরে পর্যালোচনা শেষে চীনের শেনচেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জকে কৌশলগত অংশীদার করার বিষয়ে ডিএসইকে প্রস্তাব সংশোধন করতে বলেছে বিএসইসি।

বিএসইসি জানিয়েছে, সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ এবং শেনচেন স্টক এক্সচেঞ্জকে নিয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামের শেয়ার ক্রয় চুক্তিসহ কৌশলগত অংশীদার নেয়ার যে প্রস্তাব কমিশনের কাছে জমা দেয়া হয়েছে, যাচাই কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী তা অনুমোদনযোগ্য নয়। তবে দেশের আইন ও ডিএসইর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের পরিপন্থি প্রস্তাবের বেশিরভাগ শর্তাবলী প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে চীনা কনসোর্টিয়াম এর মধ্যেই ডিএসইকে নিশ্চিত করেছে। কমিশন বলেছে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের স্বার্থে কিছু শর্ত পূরণসাপেক্ষে সংশোধিত প্রস্তাব জমা দিতে ডিএসইকে সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। শেয়ার ক্রয় চুক্তিতে এমন কোনো শর্তাবলি রাখা যাবে না, যা দেশের আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ডিএসইর সাধারণ শেয়ারহোল্ডার এবং শেয়ারবাজারের উন্নয়নবিরোধী। কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব গ্রহণের স্বার্থে সংশোধিত প্রস্তাবে ডিএসইর বর্তমান সংঘবিধি ও সংঘস্মারকে কোনো সংশোধনের শর্ত রাখা যাবে না।

চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কৌশলগত বিনিয়োগকারীর প্রস্তাব শেয়ার ক্রয় চুক্তি বিএসইসিতে পাঠানোর আগে ডিএসইর সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে হবে। বিএসইসির যাচাই কমিটির প্রতিবেদন ও কনসোর্টিয়ামের শর্তাবলি প্রত্যাহারের বিষয়ে ডিএসইকে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে সাধারণ সভার নোটিশসহ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করতে হবে। সাধারণ সভার বিবরণীর সঙ্গে কনসোর্টিয়ামের চূড়ান্ত প্রস্তাব, সংশোধিত চুক্তি ও অন্য নথিপত্র ডিএসইকে কমিশনের কাছে দাখিল করতে হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিলে দেখা যাচ্ছে কৌশলগত বিনিয়োগকারী পেতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে বলে ডিএসই কর্মকর্তারা জানিয়েছে। তবে বিএসইসি সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

চীনা জোটের প্রস্তাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, এতে ১৫টি শর্ত রয়েছে। অন্যতম শর্ত হচ্ছে চুক্তি হবে যুক্তরাজ্যের আইনে এবং বিবাদের সমাধানও করতে হবে যুক্তরাজ্যের আদালতে। জোটটি ২৫ শতাংশ শেয়ারের দাম ধরেছে ৯৯২ কোটি টাকা, প্রতি শেয়ারের দাম ২২ টাকা। এছাড়া কারিগরি সহায়তা বাবদ ৩০০ কোটি টাকাও দিতে পারে। ডিএসইর পর্ষদে একটি পদ চায় তারা। নতুন শেয়ার ছাড়া, পরিচালকের সংখ্যা পরিবর্তন, ২৫ শতাংশ শেয়ার ধারণ করা অবস্থায় নতুন কৌশলগত বিনিয়োগকারী নেয়া, ডিএসইর সংঘ স্মারক ও সংঘবিধি পরিবর্তন, মেধাস্বত্ব অর্জন এবং ডিএসইর প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) বিষয়ে যে কোনো বিষয়, অর্থাৎ শেয়ারের মূল্য, অবলেখক নিয়োগ ও প্রসপেক্টাস অনুমোদনের কাজ চীনা জোটের সম্মতি ছাড়া করা যাবে না-এসব শর্তের কথাও রয়েছে প্রস্তাবে।

এদিকে বিএসইসি গত ২৭শে ফেব্রুয়ারি শর্তগুলোর বিষয়ে ডিএসইর কাছে ব্যাখ্যা চায়। ৪ঠা মার্চ ডিএসই জানায়, দুটি ছাড়া সব শর্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছে চীনা জোট। চুক্তি হবে বাংলাদেশি আইনে, তবে বিবাদের সমাধান হবে যুক্তরাজ্যের আদালতেই। একক বা যৌথভাবে ঋণ, চুক্তি ও বিনিয়োগের টাকার পরিমাণ ১০ কোটির বদলে হবে ১০০ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথক করা-সংক্রান্ত ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী ডিএসইর মোট শেয়ার ২৫০ সদস্যের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা আছে। এসব শেয়ারের মধ্যে ৪০ শতাংশ ডিএসইর সদস্যদের জন্য রাখা আছে। বাকি ৬০ শতাংশ শেয়ার আলাদা করা আছে সদস্যদের বাইরে দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে বিক্রির জন্য। এর মধ্য থেকে ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ১২৫টি শেয়ার বিক্রির উদ্যোগ নেয় ডিএসই।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নাটক করছে ঐক্যফ্রন্ট

হাসপাতালে যেমন আছেন খালেদা

ইমরুলের ব্যাটে বঞ্চনার ‘জবাব’

অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের তাগিদ

মইনুলের বিরুদ্ধে দুই মামলা, জামিন

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উদ্বেগ প্রশমিত করতে পারে

দেশে ৩ কোটি মানুষ দরিদ্র এক কোটি হতদরিদ্র

আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জে ৫ যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ

স্টেট ডিপার্টমেন্টের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বার্নিকাট

ভোটের হাওয়া ভোটারের চাওয়া

তরুণদের কাছে ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আমীর খসরু কারাগারে

প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তফসিল: ইসি সচিব

সড়কে সেই আগের চিত্র

পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বার্নিকাট

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন কাল