স্ত্রী-সন্তানের অধিকার পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মা-ছেলে

বাংলারজমিন

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি | ১৯ মার্চ ২০১৮, সোমবার
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের উচ্চমান সহকারী মো. লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী এক সন্তানকে শারীরিক নির্যাতন করাসহ ভরণপোষণ না দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে চলতি বছরের ১৬ই জানুয়ারি পাবনার জেলা প্রশাসকের কাছে লুৎফর রহমানের স্ত্রী মোছা. সেলিনা খাতুন হাসি ও তার পুত্র মো. সারোয়ার হোসেন সবুজ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের এক সপ্তাহ পরেই জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্তের জন্য ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাহফুজা সুলতানাকে লিখিত নির্দেশ দিয়েছেন। দীর্ঘ দুই মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন সেলিনা খাতুন।
অভিযোগে জানা যায়, ১৯৮২ সালে পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন লুৎফর রহমান ও সেলিনা খাতুন। এরপর স্বামীর পৈতৃক ভিটা চাটমোহর উপজেলার বিন্যাবাড়ি গ্রামে বসবাস করছিলেন। বিবাহের দীর্ঘ ১১ বছর পর ওই দম্পতির ঘরে প্রথম সন্তান সারোয়ার হোসেন সবুজ জন্ম নেয়। পরবর্তীতে লুৎফর রহমান ১৯৯৯ সালে প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
এরপর থেকেই লুৎফর রহমান প্রথম স্ত্রীকে অকথ্য নির্যাতন শুরু করেন। বিয়ের দু’বছর পরে লুৎফর রহমান প্রথম স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে রেখে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে চাটমোহর পৌরসভার সাহাপাড়া মহল্লায় বাড়ি করে বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণের ব্যয়ভার বন্ধ করে দেন। তখন সেলিনা ভরণপোষণের জোর দাবি জানালে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেন লুৎফর রহমান। একপর্যায়ে পিতামাতাহীন সেলিনা ছেলেকে নিয়ে উপজেলার চরপাড়া গ্রামে মামা আলাউদ্দিন আলীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে অদ্যবধি বসবাস করছেন। এরপর ২০১১ সালে ছেলে সবুজের পায়ে টিউমার ধরা পড়ে। লুৎফর রহমানের অবহেলা এবং চিকিৎসা খরচ না দেয়ায় সবুজের পা কেটে ফেলতে হয়। অনেক কষ্টে প্রতিবন্ধী ছেলেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করান সেলিনা খাতুন। অনেকবার স্ত্রী ও সন্তানের অধিকার নিয়ে লুৎফর রহমানের কাছে গেলেও তাদের মারধর করে তাড়িয়ে দেয়া হয় বলে জানান সেলিনা খাতুন। বর্তমানে তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
তবে, লুৎফর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘গত বছর আমি সেলিনাকে ডিভোর্স দিয়েছি। আর ছেলে সবুজকে আমি পড়াশোনা শিখিয়েছি ও চিকিৎসার খরচ দিয়েছি। তার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ এরপর তিনি সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানান। সেলিনা খাতুন বলেন, ‘ডিভোর্সের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। স্ত্রী ও আমার সন্তানের অধিকার পেতে কয়েক বছর ধরে আমরা ইউএনও এবং ডিসির দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। আমি এর ন্যায় বিচার চাই। আমি এবং আমার সন্তান অধিকার ফিরে পেতে চাই।’ অভিযোগের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মাহফুজা সুলতানা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নাটক করছে ঐক্যফ্রন্ট

হাসপাতালে যেমন আছেন খালেদা

ইমরুলের ব্যাটে বঞ্চনার ‘জবাব’

অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের তাগিদ

মইনুলের বিরুদ্ধে দুই মামলা, জামিন

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উদ্বেগ প্রশমিত করতে পারে

দেশে ৩ কোটি মানুষ দরিদ্র এক কোটি হতদরিদ্র

আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জে ৫ যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ

স্টেট ডিপার্টমেন্টের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বার্নিকাট

ভোটের হাওয়া ভোটারের চাওয়া

তরুণদের কাছে ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আমীর খসরু কারাগারে

প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তফসিল: ইসি সচিব

সড়কে সেই আগের চিত্র

পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বার্নিকাট

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন কাল