উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৭ মার্চ ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৭:৩১
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে বেরিয়ে আসছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ এখন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে। এ জন্য বাংলাদেশ তিনটি নির্ণায়ক (ক্রাইটেরিয়া) পূরণ করেছে। তা হলো গড় মাথাপিছু জাতীয় আয় (জিএনআই), মানব সম্পদ সূচক (এইচএআই) ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচক (ইভিআই)। নিউ ইয়র্কে জাতিসয়ঘের সদর দফতরে এক বৈঠকে এ ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ প্যানেল কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি। বাংলাদেশের পাশাপাশি এলডিসির তালিকা থেকে উঠে আসছে আরো দুটি দেশ। তারা হলো মিয়ানমার ও লাওস। উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উঠতে হলে একটি দেশের গড় জাতীয় মাথাপিছু আয় হতে হয় ১২৩০ ডলার বা তারো বেশি।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশের গড় মাথাপিছু আয় এখন ১২৭২ ডলার। অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় আসতে হলে একটি দেশেকে এইচএআই সূচকে ৬৬ বা তারও বেশি স্কোর করতে হয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ৭২.৮। উল্লেখ্য এইচএআই সূচক পুষ্টি, স্বাস্থ্য, বয়স্ক শিক্ষা ও মাধ্যমিক স্কুলগামী শিক্ষার্থীর হারকে বুঝিয়ে থাকে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচকে যদি কোন দেশ ৩২ বা তারও কম স্কোর করে তাহলে ওই দেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ধরা হয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ২৫। এ সূচকটি প্রাকৃতিক ও বাণিজ্য সংক্রান্ত ঝুঁকিকে বুঝিয়ে থাকে।  এখন জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) ২০২১ সালে বাংলাদেশের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে। এরপরই অন্তর্বর্তী তিন বছর পরে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে বেরিয়ে আসবে। যদি বাংলাদেশ আগামী ছয় বছর তিনটি নির্ণায়ক সূচক ধরে রাখে তাহলে এলডিসি ব্লক থেকে বেরিয়ে আসবে ধীরে ধীরে। এ বিষয়ে ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ স্থানীয় অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মিডিয়াকে বলেছেন, একই সময়ে তিনটি নির্ণায়ক পূরণ করা একমাত্র দেশ বাংলাদেশ। আর এর মধ্য দিয়ে তারা এলডিসি ব্লক থেকে বেরিয়ে আসার যোগ্যতা অর্জন করছে। এ জন্য ২০২১ এবং ২০২৪ সালের পর্যালোচনা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এরপরই স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে বাংলাদেশ। এ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে এরই মধ্যে। ২০২৪ সালে এই স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তিনটি নির্ণায়ক বা ক্রাইটেরিয়ায়ই অগ্রগতি টেকসই হিসেবে ধরে রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, অর্থনৈতিক ঝছুকির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তার মতে, গার্মেন্টের ওপর আমরা নির্ভরশীল। আমাদের পণ্য ও সেবার রপ্তানি অনেকাংশে পরিবর্তনশীল। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে ১৭টি দেশকে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা দেয় জাতিসংঘ। এখন এ সংখ্যা ৪৭। এরই মধ্যে পাঁটি দেশ এ তালিকা থেকে বেরিয়ে এসেছে। ১৯৯৪ সালে বোতসোয়ানা, ২০০৭ সালে কেপ ভারডি, ২০১১ সালে মালদ্বীপ, ২০১৪ সালে সামোয়া এবং বিষুবীয় গিনি এ তালিকা থেবে বেরিয়ে আসে গত বছর।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Sharif Hossain Syeed

২০১৮-০৩-১৭ ০৩:০৮:৩৫

'২১৪২ ডলার বনাম ২১৩০ ডলার' এই কনফিউশনটা দূর করা উচিত। LDC Country Report-2015,16, 17 অনুযায়ী উন্নয়নশীল দেশ হতে গেলে জাতীয় গড় মাথাপিছু আয় ১২৪২ মার্কিন ডলার হতে হবে বলেই জানতাম (২০১৫ এর পূর্বে ছিল ১১৯০ ডলার)। আজ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটের উদ্ধৃতি অনুযায়ী পত্রপত্রিকাগুলো লিখেছে ১২৩০ মার্কিন ডলার! দয়া করে বিভ্রান্তি দূর করুন।

কামরুল

২০১৮-০৩-১৬ ২৩:২৭:৩০

শেখ হাসিনা কে শুভেচ্ছা । সপন্ দেখানো ও তা পুরণ করার জন্য ।

আপনার মতামত দিন

নাটক করছে ঐক্যফ্রন্ট

হাসপাতালে যেমন আছেন খালেদা

ইমরুলের ব্যাটে বঞ্চনার ‘জবাব’

অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের তাগিদ

মইনুলের বিরুদ্ধে দুই মামলা, জামিন

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উদ্বেগ প্রশমিত করতে পারে

দেশে ৩ কোটি মানুষ দরিদ্র এক কোটি হতদরিদ্র

আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জে ৫ যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ

স্টেট ডিপার্টমেন্টের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বার্নিকাট

ভোটের হাওয়া ভোটারের চাওয়া

তরুণদের কাছে ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আমীর খসরু কারাগারে

প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তফসিল: ইসি সচিব

সড়কে সেই আগের চিত্র

পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বার্নিকাট

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন কাল