টিলারসনের বিদায়: ট্রাম্পের সামনে লড়াই

বিশ্বজমিন

অ্যান্থনি জারচের | ১৪ মার্চ ২০১৮, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:১০
দীর্ঘদিন ছিলেন কর্পোরেট দুনিয়ায়। এক্সন মবিলের মতো প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীর পদে। সেখান থেকে তাকে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এই পদে টিলারসনকে বেছে নেওয়ায় অবাক হয়েছিলেন অনেকে। অবাক হওয়ার কারণও ছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই টিলারসনের ভবিষ্যৎ যেন সুতোয় ঝুলছিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এমন কর্মকর্তারা তাকে ঠিক বিশ্বাস করতেন না। তাকে দেখতেন বহিরাগত আগন্তুকের মতো। প্রথম প্রথম প্রেসিডেন্টকে দেখে মনে হতো, টেক্সাসের দুর্বিনীত এই লোকটির প্রতি তিনি মুগ্ধ।
কিন্তু তারপরও তাদের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠতে সময় লাগেনি। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউজের সঙ্গে প্রায়ই মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল তার। মাঝে একবার খবরে আসে, প্রেসিডেন্টকে তিনি ‘বেকুব’ বলেছেন। এটিও নিশ্চয়ই তার পক্ষে যায় নি।
অনেক বিতর্কের মধ্যেও টিকে ছিলেন টিলারসন। খবর এসেছিল, গত বছরের শেষের দিকেই তাকে বরখাস্ত করা হতে পারে। সেই হিসেবে অনুমিত সময়ের চেয়ে বেশিই পদে বহাল ছিলেন তিনি। অবশ্য প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ওই খবরের তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন। টিলারসনের পক্ষে টুইট করেছিলেন। তাকে বরখাস্ত করা হবে, এমন গুঞ্জনকে তিনি ‘ফেইক নিউজ’ বা ভুয়া খবর হিসেবেও আখ্যা দেন। যেমন, এক টুইটে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘কিছু কিছু বিষয়ে আমাদের মতপার্থক্য রয়েছে। কিন্তু আমরা একত্রে ভালোই কাজ করছি। আমেরিকাকে ফের সবাই সম্মানের চোখে দেখছে।’
কিন্তু এখন এসে দেখা যাচ্ছে, যেমনটা প্রায়ই হয়ে থাকে যে, ট্রাম্প যেই গুঞ্জনকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, সেটাই সত্য হয়েছে। অর্থাৎ, ট্রাম্প নিজেই নিজের বলা ‘ফেইক নিউজে’র সত্যতা প্রতিপাদন করেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস কিছু সূত্রের বরাতে ছেপেছিল যে, টিলারসনের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌঁড়ে প্রথমেই রয়েছেন সিআইএ পরিচালক মাইক পম্পেও। বাস্তবেও হয়েছে তাই।
টিলারসন মার্চ পর্যন্ত টিকে ছিলেন। কিন্তু এটি স্পষ্ট যে, তাকে বরখাস্তের চিন্তাভাবনা আগে থেকেই করা হচ্ছিল।
গত সপ্তাহে টিলারসন আফ্রিকায় ছিলেন। তখন পম্পেও সহ হোয়াইট হাউজের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট সমেত ওভাল অফিসে বৈঠকে বসেন। তখন বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উত্তর কোরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বাইরে রাখা হচ্ছে। শুক্রবারই টিলারসনকে বলা হয় যে, তাকে আর প্রয়োজন হবে না।
এ কারণেই বোধ হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শেষ বারের মতো হোয়াইট হাউজের কথার বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন টিলারসন। তিনি যুক্তরাজ্যে সাবেক এক রাশিয়ান গুপ্তচরের ওপর বিষ প্রয়োগের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করলেন। যদিও হোয়াইট হাউজ এ নিয়ে তেমন কিছু বলেনি।
আফ্রিকা সফর থেকে ফেরার পথে টিলারসন বিমানেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ততক্ষণে তিনি জেনে গেছেন তাকে বরখাস্তের খবর। আর সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি অন দ্য রেকর্ডে সচরাচর কথা বলেন না। কিন্তু সেদিন বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে তার কথা বলার আগ্রহ থেকে বোঝা যায়, নিজের একটি বক্তব্য প্রকাশ করাতে চাইছিলেন তিনি।
এখন পর্যন্ত যেসব ইঙ্গিত ও আলামত পাওয়া গেছে, তা থেকে এ নিয়ে কোনো সন্দেহই থাকে না যে, টিলারসনকে বরখাস্তের বিষয়টি মোটেই হৃদ্যতাপূর্ণ ছিল না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন উপমন্ত্রী বলেন, বরখাস্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে প্রেসিডেন্ট সরাসরি টিলারসনের সঙ্গে একবারও কথা বলেন নি। ওই উপমন্ত্রী আরও বলেন, টিলারসন এই পদে থাকতে চেয়েছিলেন।
টিলারসন হলেন ট্রাম্পের মন্ত্রীসভার ২০ তম সদস্য, যারা তার ১৩ মাসের শাসনামলে হয় বরখাস্ত হয়েছেন, নয়তো পদত্যাগ করেছেন। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বেশ উত্তাল ছিল। এই কয়েকদিনে পদত্যাগ করেছেন ট্রাম্পের শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা গ্যারি কোন, যোগাযোগ পরিচালক ও দীর্ঘদিনের কর্মী হোপ হিকস ও হোয়াইট হাউজের স্টাফ সেক্রেটারি রব পোর্টার।
কিন্তু টিলারসনকে বরখাস্তের বিষয়টি আলাদা। তাকে বিদায় দিয়ে, প্রেসিডেন্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিআইএ পরিচালক হিসেবে পম্পেও ও গিনা হাসপেলকে মনোনীত করেছেন। তাদের নিয়োগ চূড়ান্ত করবে সিনেট। সিনেটে এ নিয়ে বিশাল লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে ট্রাম্পকে।
আমেরিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে পম্পেও পররাষ্ট্র নীতির দিক থেকে কট্টরপন্থী বলে পরিচিত। তিনি ওবামার আমলে হওয়া ইরান পারমাণবিক চুক্তির কড়া সমালোচনা করেছেন। তবে ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্পের চেয়েও তিনি বেশ সরব ছিলেন।
সিনেটে তার নিয়োগ শুনানি চলাকালে পম্পেও প্রায় নিশ্চিতভাবেই কিছু ইস্যুতে প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কিছু কিছু ইস্যুতে তার দ্বিমত থাকতে পারে। সেসব ইস্যুতে তাকে বিস্তারিত উত্তর দিতে বলা হবে। যেমন, সিআইএ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কমির দেওয়া কিছু তথ্যের গুরুত্ব খাটো করেছিলেন পম্পেও। এ কাজে তাকে প্রশাসন থেকে চাপ দেওয়া হয়েছে কিনা, সেই ব্যাপারে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারেন পম্পেও।
পম্পেও যদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন, তখন সিআইএ পরিচালক হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন ৩০ বছর ধরে এই গোয়েন্দা সংস্থায় কাজ করা গিনা হাসপেল। তার নিয়োগকালীন শুনানিও বেশ তিক্ত হবে। কারণ, সিআইএ’র নিষ্ঠুর নির্যাতন পদ্ধতি নিয়ে চলা বিতর্কে তার নাম বারবার আসে। ৯/১১’র পরে সন্দেহভাজন ইসলামি জঙ্গিদের ওপর নির্মম নির্যাতনের সমর্থক ছিলেন তিনি।
সিনেটে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও, বিভিন্ন ইস্যুতে খোদ তাদের সঙ্গেই প্রেসিডেন্টের বিরোধ দেখা গেছে। এই এপ্রিলে মিসিসিপির রিপাবলিকান সিনেটর থাড কোচরান পদত্যাগ করবেন। ফলে সিনেটে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটদের ব্যবধান হবে মাত্র ১ ভোট। ডেমোক্রেটরা যদি একতাবদ্ধ থাকে, তাহলে মাত্র ১ জন রিপাবলিকান সিনেটরের সমর্থন পেলেই তারা পম্পেও বা গিনা হাসপেলের নিয়োগ ঠেকিয়ে দিতে পারবেন। ফলে বলতেই হচ্ছে, সামনে বরং ঝঞ্ঝাটময় সময় অপেক্ষা করছে প্রেসিডেন্টের জন্য।

(বিবিসি অবলম্বনে)



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় সরকার

হাসপাতালের বেডে থেকেও ভাঙচুর মামলার আসামি

তিন দফা, এক কাতারে বিরোধী আইনজীবীরা

‘সেমিফাইনালে’ চনমনে বাংলাদেশ

সবার জন্য উন্মুক্ত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

ডাস্টবিনের ময়লাও খেয়েছি

খালেদার চিকিৎসা নিয়ে রিটের শুনানি পহেলা অক্টোবর

খালেদা জিয়ার আন্দোলন এখন কারাগারে

সিলেট বিএনপির সেক্রেটারি আলী কারাগারে

পাঁচ লাখ শটগানের কার্টিজ প্রাণঘাতী, ধ্বংসের নির্দেশ

রূপগঞ্জে প্রসূতির ওপর হামলা, যমজ শিশুর মৃত্যু

বিএনপির সমাবেশের পর লিয়াজোঁ কমিটি

ঢাকা দখলের ঘোষণা ১৪ দলের

প্রেসিডেন্টের আশা, সব দল নির্বাচনে অংশ নিবে

বাংলাদেশের রাজীবকে ফেসবুকের ফেলোশিপ প্রদান

শেহজাদের সেঞ্চুরিতে ভারতের বিপক্ষে আফগানদের পুঁজি ২৫২