চোখের নিরব ঘাতক গ্লুকোমা ও চিকিৎসা

শরীর ও মন

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ | ১৩ মার্চ ২০১৮, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৪০
গ্লুকোমা এক ধরনের চোখের উচ্চচাপ জনিত রোগ। এই রোগ চোখের নিরব ঘাতক হিসেবেও পরিচিত। চোখের উচ্চ প্রেসারকে অকুলার হাইপার টেনশন বলে। এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক চোখের চাপ ১১-২১ মি. মি. মার্কারীর চেয়ে বেশি হলেই অকুলার-হাইপার টেনশন বলে। যদিও অপটিক স্নায়ু বা দৃষ্টি পরিধি (ভিস্যুয়াল ফিল্ড) এর কোন পরিবর্তন নাও হতে পারে। তবে যখনই অপটিক স্নায়ু বা ভিস্যুয়াল ফিল্ড এর ক্ষতি হয় এবং চোখের উচ্চ প্রেসার থাকে তাকে গ্লুকোমা বলে।
গ্লুকোমা কেন হয়?
চোখের অবস্থান ঠিক রাখার জন্য সিলিয়ারী এপিথিয়াম থেকে যদি পানি জাতীয় প্রত্যক্ষ নিঃসরণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়।
পরোক্ষ নিঃসরণ ২০ শতাংশ স্বাভাবিক। যদি কোন কারণে (ওষুধ দ্বারা) এর চেয়ে কম হয় তাহলে গ্লুকোমা হয়। যদি ট্রাবিকুলাম, কর্নিও স্কে¬রাল মেসওয়ার্ক, স্মেস ক্যানাল প্রভৃতি কোন পথে প্রতিবন্ধকতা হয় তাহলে গ্লুকোমা হয়।
গ্লুকোমা আছে কি-না কিভাবে জানা যায়?
চোখের প্রেসার যন্ত্র টনোমিটার দিয়ে। ১১-২১ মি. মি.- এর বেশি হলে গ্লুকোমা অফথালমোসকোপ দিয়ে অপটিক স্নায়ুর পরিবর্তন হয়েছে কি-না দেখা। দৃষ্টি পরিধি বা ভিস্যুয়াল ফিল্ড দেখার যন্ত্র পেরিমিটার/এনালাইসার (হামফ্রে বা অক্টোপাস দিয়ে)। চোখের কোণ সরু কি-না দেখে। চোখের দৃষ্টিশক্তির লক্ষণগুসমূহ আলোচনা। আলোর পার্শ্বে রংধনুর মত দেখা। চোখে ব্যথা হওয়া। মাথা ব্যথা ও মাথা ঘোরা। চোখ লাল হওয়া/ঝাপসা দৃষ্টি। চোখ দিয়ে পানি পড়া। চোখে ঝাপসা দেখা। বমি হওয়া, দৃষ্টি পরিধি কমে যাওয়া (ভিস্যুাল ফিল্ড), মনি বড় হওয়া (মিড ডাইলেটেড পিউপিল), শেষের দিকে চোখ সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যাওয়া। সবচেয়ে মারাত্মক হলো কখনো  কোন লক্ষণ ছাড়াই চোখের প্রেসার মানুষ ঘুন ধরার মত অন্ধত্ববরণ করে।
চোখের উচ্চ চাপের প্রকারভেদ বা গ্লুকোমার প্রকারভেদ: (ক) জন্মগত: গ্লুকোমা বা বুথথালমোস। (খ) একোয়ার্ড বা জন্ম পরবর্তী সংশ্লিষ্টতা। ১. প্রাইমারী : (ক) চোখের কোণ ছোট হওয়া। (খ) কোণ থাকা সিম্পল গ্লুকোমা বা ক্রনিক গ্লুকোমা) ২. সেকেন্ডারী: চোখের অন্য রোগের কারণে-ইউভিয়াইটিস, কর্নিয়ায় ক্ষত, চোখের টিউমার, ভিট্রাসে বা এ্যাসিতে রক্ত জমা, ছানি রোগের অপারেশন না করা।
চিকিৎসা: চোখের ওষুধ-চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শমত-পাইলো ড্রপ, টিমো ড্রপ, ল্যাটোনো প্রষ্ট, প্রষ্টাগামিন, আলফাগান, বেটাগান। খাওয়ার বড়ি- এসিমক্স, ইলেকট্রো-কে। ট্রাবিকুলোপ্লাষ্টি- লেজার। অস্ত্রপাচার- আইরিসে ছিদ্র করা, ট্রাবিকুলেক্টমি/ট্রাবিকুলেক্টটিম, সিজ বা ফিল্টারিং অপারেশন। সেকেন্ডরী গ্লুকোমার কারণসমূহ দূর করা। যেমন- ছানি রোগ দীর্ঘদিন অপারেশন না করালে, ছানি অপারেশনের পরে ইউভিয়াটিস বা কর্নিয়ার ক্ষত চিকিৎসা।
লেখক: প্রো-ভিসি (প্রশাসন),অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান কমিউনিটি অফথালমোলজি বিভাগ,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বস্তিবাসীদের জন্য গড়ে তোলা হবে বহুতল ভবন: প্রধানমন্ত্রী

ট্রেনের শিডিউল লণ্ডভণ্ড, দুর্ভোগ

নওশাবার মুক্তি চেয়ে শিল্পী সংঘের বিনীত অনুরোধ

শহিদুল ও আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি দাবি

অবশেষে ৪২ শিক্ষার্থীর জামিন, পরিবারে স্বস্তি

আলোর মুখ দেখছে সরকারি চাকরি আইন

কোটা আন্দোলনের নেতাদের পরিবারে কান্না

পবিত্র আরাফাত দিবসে আজ হজ

জমে উঠেছে পশুর হাট, বেড়েছে বিক্রি

অবরুদ্ধ করে মওদুদের গুরুত্ব কেন বাড়াবো

পুলিশ আমাকে বলেছে, বাড়ি থেকে যেন বের না হই

সৌদি থেকে নির্যাতিত নারীর করুণ আর্তি

সরকার নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর বিতর্কিত আইনের অপপ্রয়োগ করছে- সুপ্রিম কোর্ট বার

শতাধিক নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের উদ্যোগ বিএনপির

জাতীয়করণ হওয়া ২৭১ কলেজ পরিচালনা নিয়ে গোলকধাঁধা

অনলাইনে জমজমাট পশুর হাট