হাওর কন্যা লক্ষ্মী বাঁওড়

বাংলারজমিন

মখলিছ মিয়া, বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) থেকে | ১৩ মার্চ ২০১৮, মঙ্গলবার
ভূ-গঠনিক অবনমন ভূমির রূপ-বৈচিত্র্যের ধারক নদ-নদী, হাওর-বাঁওড় ও জলাভূমি অধ্যুষিত অঞ্চল বানিয়াচং। বর্ষার ছয় মাস হাওরে রাশি রাশি জলের উচ্ছ্বলতা আর শুষ্ক মৌসুমে নয়ন জুড়ানো দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ। এই রূপ-বৈচিত্র্যের সুবর্ণভূমিকে আরো লীলাময় করে তুলেছে জলজবন ‘হাওর কন্যা লক্ষ্মী বাঁওড়’। সৃষ্টি করেছে এক মোহিনী পরিবেশ। পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচং থেকে প্রায় ৬/৭ কিলোমিটার দূরবর্তী উত্তরের হাওরে এ জলজবনের অবস্থান। চারদিকে বিস্তীর্ণ হাওর। ধারণা করা হয় লক্ষ্মী নামক বাঁওড় (নদী নয়, নদীর মতো ৪/৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের জলা ভূমি) পলি মাটি জমে চর গজিয়ে উঠে এবং প্রাকৃতিকভাবেই ৫শ’ থেকে ৬শ’ বছর আগে এ বন গড়ে উঠে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বাঁওড়ের নামেই এই বন ও হাওরের নামকরণ হয়েছে।
লক্ষ্মী বাঁওড় জলজবনটি মূলত একটি সমন্বিত সোয়াম্প ও রিড ফরেস্ট। নল, খাগড়া, তৃণ গুল্ম লতা ও বিভিন্ন প্রজাতির ফার্নে গড়ে উঠা বনকে ফরেস্ট এবং হিজল, করচ, বরুণসহ বিভিন্ন উভজীবী প্রজাতির উদ্ভিদ বনকে সোয়াম্প ফরেস্ট বলা হয়ে থাকে। এ ছাড়া হাওরে ছোট ছোট হিজল-করচ বৃক্ষবনকে ‘বাগ’ বলা হয়। যে বনভূমিতে জোয়ার-ভাটার পানি উঠানামা করে এবং হাওরে ছয় মাস শুকনো ও বাকি ছয় মাস জলমগ্ন থাকে এ জাতীয় বনই সোয়াম্প ও রিড ফরেস্ট হিসেবে স্বীকৃত। বৈচিত্র্যময় এ জলারণ্যকে প্রাকৃতিক কন্যা ও হাওরাঞ্চলে হাওর কন্যা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী চার লাখ ৪০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সারা বিশ্বে এ জাতীয় ২৬টি সোয়াম্প ও রিড ফরেস্ট রয়েছে। এ তালিকায় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট তালিকাভুক্ত হলেও হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার লক্ষ্মী বাঁওড় সোয়াম্প ও রিড ফরেস্ট অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বানিয়াচং সদরের সৈদরটুলা (সাতমহল্লা) ছান্দের মালিকানাধীন প্রায় ৩শ’ একর আয়তন বিশিষ্ট এই বনের ভেতর পাঁচ একরের নিচে ২৬টি বিল ও ডোবা রয়েছে। বর্ষার পানি উঠার পর এ বন মাছের অভয়াশ্রম এবং শীতকালে ও অন্যান্য মৌসুমেও নিরাপদ অনুকূল পরিবেশে হয়ে উঠে পাখির অভয়াশ্রম। বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে ভিন্ন ভিন্ন রূপ বৈচিত্র্যে আবির্ভূত হয়ে এ রূপসী বন। শুষ্ক মৌসুমে (শীত ও বসন্তকালে) এ রূপসী ‘হাওর কন্যার’ চারদিকের দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠে সবুজ ধান গাছের কচি ডগায় মৃদু হাওয়ায় দুলে উঠা ঢেউয়ের খেলায় জুড়িয়ে যায় মন। ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ী পাখির উড়াউড়ি ও কিচিরমিচির কল-কাকলিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠে সৌম্য এ বন। দেখা মিলে দেশজ প্রজাতির বিরল পাখি ডাহুক, কালীম, শিকারী কুড়া, সবুজ তেওড়া। শামুক ভাঙ্গা, গুটি ঈগল, কুড়া ঈগল, কালো বক, লাল বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির বক। পানকৌড়ি, ভুবন চিল, শঙ্খ চিল ও গাংচিল। মাঝে মধ্যে রাজ শকুন ও বাংলা শকুনেরও দেখা মেলে।
এ ছাড়া নানা প্রজাতির উভচর প্রাণি গিরগিটি, সরীসৃপ, সাপ ও কীটপতঙ্গের বিচরণ রয়েছে। গ্রীষ্মকালে (বৈশাখ মাসে) সোনালী হয়ে উঠে ধানসিঁড়ি ফসলের মাঠ। পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধে ও নবান্নের কলতানে মুখরিত হয়ে উঠে মাঠ-ঘাট তেপান্তর। বর্ষায় হাওরে থৈ থৈ জলকেলির সঙ্গে সবুজ বনের মিতালিতে রূপ বৈচিত্র্যে নতুন মাত্রা যোগ করে। ৩/৪ মিটার পানিতে ডুবে থাকা পুরো বনের ছোট বৃক্ষের পুরো অংশ ও নল, খাগড়াসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার বৃক্ষের অর্ধেক অংশ ডুবে থাকা স্বচ্ছ পানিতে দৃশ্যমান হয়ে এ জলারণ্য অপূর্ব রূপ ধারণ করে। অপরূপে বিমোহিত করা নয়নাভিরাম এ জলারণ্য পরিদর্শনে গত কয়েক বছর ধরে বর্ষা কালেই সৌন্দর্য পিপাসু ও প্রকৃতি বিলাসী দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন ঘটে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ফের দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ে হারলো বাংলাদেশ

খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ

কসবায় ট্রেন লাইনচ্যুত, বন্ধ ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলযোগাযোগ

পরাজয়ের বৃত্তে বাংলাদেশ

শোকে মাতমে তাজিয়া মিছিল

নাঙ্গলকোটে বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে পড়ে চারজন নিহত

বইটি তিনি এসময় প্রকাশ না করলেও পারতেন

দেশবাসীর প্রতি অঙ্গীকার ঘোষণা আসছে শনিবারের সমাবেশে

‘বঙ্গভবনে পৌছে দেখলাম...’

‘ভুয়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশে ইন্ধন দিচ্ছে সরকারী এজেন্সিগুলো’

আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধ

খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচার কাজ বেআইনি : ফখরুল

জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

বেনাপোল সীমান্ত থেকে বিপুল পরিমান অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার

‘শুরু থেকেই চাপ ছিল, আমি যেন বলি অসুস্থ’

চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ প্রকাশ্যে অস্ত্রধারী সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার