রেজুখাল ভরাটে মরু উখিয়া

বাংলারজমিন

সরওয়ার আলম শাহীন, উখিয়া (কক্সবাজার) থেকে | ১৩ মার্চ ২০১৮, মঙ্গলবার
কক্সবাজারের সর্বদক্ষিণে মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন ২৬১.৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের উখিয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবহমান প্রায় ১৩টি খাল শুকিয়ে মরুতে পরিণত হয়েছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য বঙ্গোপসাগরের মোহনা রেজুখাল অন্যতম। নাব্য হারিয়ে এসব খালগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়ার কারণে বোরোসহ রবিশস্য উৎপাদন নিয়ে কৃষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে হতাশা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া বেগুন, মরিচ, ভেন্ডি, শিম, ফলুকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি আবাদ করা হয়েছে খালের পাড়ে। কৃষকদের অভিমত খালের পানি দিয়ে তারা শাকসবজি আবাদ করে পরিবারের চাহিদা পূরণ করে উদ্বৃত্ত তরিতরকারি বাজারজাত করে পরিবারের চাহিদা মেটায়। রেজুখালের পাড়ে বসবাসরত কৃষক শামশুল আলম (৬০), জসিম উদ্দিন (৪৫) জানায়, বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কাটা, মাটি ও বালির পলি জমে রেজুখালটি ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে জোয়ারভাটা হচ্ছে না।
যে কারণে খালের উভয়পার্শ্বে বসবাসরত পরিবারগুলো তাদের আবাদ করা বোরোসহ শাকসবজি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষিবিদ জামাল উদ্দিন জানান, এ উপজেলার খালগুলো কখনো ড্রেজিং করা হয়নি। উপরন্তু খাল-ছড়া দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণসহ পাহাড় কাটা মাটি ও বালিতে নাব্য হারিয়ে ফেলার কারণে শুষ্ক মৌসুমে খালগুলো শুকিয়ে মরুতে পরিণত হয়। বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহে বাধা প্রাপ্ত হওয়ায় জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে খালের দু’পাড়ে বসবাসরত অসংখ্য পরিবারকে পোহাতে হয় নানা সমস্যা। স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিবর্গের তথ্যমতে মিয়ানমারের ওয়ালিদং পাহাড়ের পাদদেশ থেকে সৃষ্ট ঐতিহ্যবাহী এ রেজুখালটি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় এ খালে নিয়মিত জোয়ার ভাটা হয়ে আসছিল যুগ যুগ ধরে।
পশ্চিম ডিগলিয়া রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির আওতাধীন কৃষক আবদুর রহমান জানান, ২০০৫ সালেও রেজুখালের পানি দিয়ে ডেইলপাড়া, চাকবৈঠা, দরগাহবিল, টাইপালং, হিজলিয়া, রাজাপালং, খারাশিয়া, সাদৃকাটা, তুতুরবিলসহ বেশকিছু এলাকায় হাজার হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষসহ বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি উৎপাদন হয়েছে। জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী জানান, রেজুখাল থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধ বালি উত্তোলন ও খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় এ খালটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এ খালটি ড্রেজিংয়ের আওতায় আনা হলে নির্ধারিত বোরো আবাদসহ বেশ কিছু রবি শস্য উৎপাদনে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় খালের পাড়ে বসবাসরত পরিবারগুলোকে পানির অভাবে শাকসবজি উৎপাদনসহ নিত্য ব্যবহার্য্য পানি সংকটে তাদের দিন কাটাতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে কৃষি অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে খালগুলো শুকিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অধিকাংশ অগভীর নলকূপেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে, এতে বোরো উৎপাদনের কোনো ক্ষতি হবে না বলে আশ্বস্ত করেন ওই কর্মকর্তা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ৫ হাজারের মতো গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। যার ফলে বোরো চাষাবাদসহ বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত অগভীর নলকূপে পানি শুকিয়ে যেতে পারে। তিনি বিভিন্ন খালে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালুখেকোদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বস্ত করে বলেন, যে সমস্ত খাল বেদখল করা হয়েছে সেগুলো দখল মুক্ত করে পানি সমস্যা দূরীকরণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সড়কে মৃত্যুর মিছিল

বর্ধিত সভায় নির্বাচনী বার্তা হাসিনার

শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় সরব গাজীপুর

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ স্থগিত

গোল উৎসব বেলজিয়ামের

এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে জাপান

মেইড ইন বাংলাদেশেই আস্থা রুশ তারকার

কঠিন শর্তের জালে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও

সিলেটে পুলিশ ছাত্রদল সংঘর্ষ, গুলি, আহত ১৫, আটক ২০

‘ত্রাণ চাই না বাঁধ রক্ষা করুন’

ব্রাজিলকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাপ কমাতে হবে

কামরানের শোডাউন আরিফের অপেক্ষা

মহানগর উত্তরের সংকট সমাধানে সময় নিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব

জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে আসছেন

আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থান থেকে যেভাবে রক্ষা পেলো মিয়ানমার

শেষ ষোলোতে বেলজিয়াম