প্রেম প্রত্যাখ্যান করায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে | ১১ মার্চ ২০১৮, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:০৫
কিশোরগঞ্জে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে জনসমক্ষে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করেছে ইমরান নামে এক সহপাঠী। গুরুতর আহত অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা  কিশোরগঞ্জ জেনারেল
হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের খরমপট্টি এলাকার ভূমি অফিস সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই ইমরান গাঢাকা দিয়েছে। সে কিশোরগঞ্জের ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ শেষবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহরের নগুয়া হাসমত উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দা রতন মিয়ার ছেলে। আহত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর নাম সৈয়দা ইলমী সুলতানা (২১)।
সে ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহরের হারুয়া এলাকার অ্যাডভোকেট সৈয়দ সেলিম জাহাঙ্গীরের মেয়ে। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় ইমরানকে আসামি করে মামলা করেছেন।
কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আহত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে একই সেমিস্টারে পড়ার সুবাদে ইমরান ও ইলমীর পরস্পরের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয়। এই পরিচয়ের সূত্র ধরে দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাস ছয়েক ধরে ইমরান প্রায়ই ইলমীকে প্রেমের প্রস্তাবসহ নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতো। কিন্তু ইলমী তাতে পাত্তা না দিয়ে নানা কৌশলে ইমরানকে এড়িয়ে চলতো। শনিবার দুপুরে শহরের নীলগঞ্জ রোড এলাকার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। অপ্রীতিকর এই ঘটনার পর ইলমী বাসার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে রিকশাযোগে বের হলে ইমরান তার পিছু নেয়। শহরের শোলাকিয়া চৌরাস্তা নীলগঞ্জ মোড় এলাকায় ইমরান জোর করে ইলমীর সঙ্গে রিকশায় চেপে বসে। রিকশাটি কিছুদূর এগোনোর পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের খরমপট্টি এলাকার ভূমি অফিস সংলগ্ন সড়কে ইমরান তার সাথে আনা চাকু দিয়ে ইলমীর মুখ ও ঘাড়ে উপর্যুপরি আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করে। রক্তে ইলমীর পরনে থাকা শাড়ি রক্তাক্ত হয়ে যায়। এ সময় রিকশাচালকের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে ইমরান পালিয়ে যায়। এ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় এলাকাবাসী ইলমীকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে ইলমীর বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজন ছাড়াও ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার চৌধুরী খায়রুল হাসান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে ছুটে যান।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. রমজান মাহমুদ জানান, ইলমী সুলতানা এখন আশঙ্কামুক্ত। তার মুখে তিনটি ও ঘাড়ে একটি আঘাতের চিহ্ণ রয়েছে। তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহ সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আবু শামা মো. ইকবাল হায়াত জানান, আসামিকে ধরতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে।


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

শেষ ষোলোতে বেলজিয়াম

বান্দরবানে বিএনপির সভানেত্রী ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৮০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

ভারতীয় তরুণী ফিরে পেল বাবা-মাকে

‘এত উন্নয়নের পরও জনগণ ভোট না দিলে দায়ী থাকবেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা’

কেরালায় নিখোঁজ মেসির ভক্ত, আত্মহত্যার চিরকুট উদ্ধার

এবং মেসি.....

মেসির স্ত্রীকেও তিরস্কার!

পাচার বিরোধী ৫ নারী গণধর্ষিত

গোলাগুলিতে তিন মাদক ব্যবসায়ী নিহত

চুক্তি ছাড়াই শেষ হবে ব্রেক্সিট!

‘এরচেয়ে ভয়ংকর কিছু হতে পারে না’

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণ

ট্রাম্পের সুর বদল

আওয়ামী লীগের নিজস্ব ভবন উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা

বিশ্বকাপ চলাকালে কোন দল যৌন সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ পায়!

যশোরে বোমা হামলায় যুবলীগ কর্মী নিহত