রায়ের বিরুদ্ধে খালেদার আপিল

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১২
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ১২২৩ পৃষ্ঠার এই আপিল আবেদনে ৪২টি যুক্তি (গ্রাউন্ড) দেখিয়ে খালেদা জিয়ার খালাস চেয়েছেন তার আইনজীবীরা।
এই আপিল আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানির জন্য বৃহস্পতিবারের (আগামীকাল) কার্যতালিকায় রেখেছেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানান, আপিলের গ্রহণযোগ্যতার শুনানির পরপরই খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন করা হবে। গতকাল দুপুরে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবীরা আপিল আবেদন করেন। এরপর হাইকোর্টের ওই বেঞ্চে আপিলের বিষয়টি উপস্থাপন (মেনশন স্লিপ) করেন খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। এসময় আপিলের অনুলিপি মঙ্গলবারের (গতকাল) মধ্যেই রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে সরবরাহ করতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের নির্দেশ দেন আদালত। এছাড়া খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন করা হলে তার কপিও রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে সরবরাহ করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে আপিলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানির জন্য বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকায় রাখেন আদালত।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী জমিরউদ্দিন সরকার, মওদুদ আহমদ, সানাউল্লাহ মিয়া, মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ অন্য আইনজীবীরা এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী খুরশিদ আলম খান উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল বিকালে হাইকোর্টে আপিল আবেদন উপস্থাপন করার পর খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, আপিল গ্রহণের ওপর শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করা হয়েছে। আপিল গ্রহণ করা হলে ওইদিনই আমরা জামিনের আবেদন করব। আশা করি উনি (খালেদা জিয়া) জামিন পাবেন।
বিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আদালতে আমি বলেছিলাম, যেহেতু ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়, তাই, শুনানির এটি বৃহস্পতিবার না এনে আগামী রোববার আনলে ভালো হয়। রায়ের সবটা ভালোভাবে দেখে নিতে পারি। তিনি বলেন, তারা (খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) যে দরখাস্ত দিয়েছে, সেই দরখাস্তের কপি আমাদের দিতে হবে। সেই কপিটা পেলে আমরা দেখবো, তারা কী কী গ্রাউন্ডে আপিল করেছে। এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, স্বাভাবিকভাবে আপিল অ্যাডমিশন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জামিনের আবেদন করা হয়। সেই জন্য আমরা বলেছি, তারা যদি জামিনের প্রার্থনা করে, এর কপি যেন আমাদের আগেই দেয়া হয়। দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, এ মামলায় খালেদা জিয়ার আপিলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার তালিকায় আসবে। তিনি বলেন, আমরা আপিলে মোকাবিলা করবো। সর্বতভাবে আমরা প্রস্তুত আছি।
এর আগে গত ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। রায় ঘোষণার ১১ দিন পর সোমবার রায়ের সার্টিফায়েড কপি (প্রত্যায়িত অনুলিপি) হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। একই সঙ্গে দুদকের আইনজীবীরাও রায়ের অনুলিপি পান। পরে খালেদা জিয়ার আপিল ও জামিনের আবেদনের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে ওইদিন রাতেই সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলীর ধানমন্ডিস্থ চেম্বারে জরুরি বৈঠক করেন আইনজীবীরা। এরপর গতকালও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের তৃতীয় তলায় সমিতির সম্মেলন কক্ষে সকাল ও দুপুরে দুই দফা বৈঠক করেন আইনজীবীরা। বৈঠকের মধ্যেই খালেদার আইনজীবী প্যানেলের দলের সদস্য ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দুপুরে হাইকোর্টের সংশ্লিট শাখায় আপিল আবেদন জমা দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী জমিরউদ্দিন সরকার, আব্দুর রেজাক খান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমদ, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, শাহ খসরুজ্জামান, নিতাই রায় চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, জাকির হোসেন ভূঁইয়াসহ খালেদার অন্য আইনজীবীরা।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালতের বিচারক। একই সঙ্গে মামলার অন্য পাঁচ আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপি নেতা তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ জনের প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলেও খালেদা জিয়ার সামাজিক ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায়ের পরই খালেদাকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে তিনি ডিভিশনপ্রাপ্ত কারাবন্দি হিসেবে রয়েছেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘জনগণের কাছে ক্ষমা চাইলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্য হতে পারে’

আদালতের প্রতি দুই আসামীর অনাস্থা একজনের জামিন বাতিল

২৭শে সেপ্টেম্বর বিএনপির জনসভার ঘোষণা

আপিলেও বৃটিশ যুবতীর জেল বহাল

বাংলাদেশের ইতিহাসে যেখানে মাশরাফিই প্রথম

বিশ্বের সবচেয়ে দামি বাড়ি, আছে ৩টি হেলিপ্যাড, সিনেমা হল, ৬০০ কাজের লোক (ভিডিও)

‘সরকার উৎখাতে দুর্নীতিবাজরা জোট বেঁধেছে’

‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ টিকবে না

ছেলের দুধ কিনতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন বাবা

‘গাড়িপ্রস্তুতকারক প্রোটন সফল ছিল’

চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী নিহত

কথিত অবৈধ বাংলাদেশীদের উইপোকা বলে অমিত শাহ ভারতের ক্ষতি করছেন

রাজধানীসহ সারাদেশে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

মিয়ানমারের দাবি তালিকায় ৫০ সন্ত্রাসীর নাম, ফেরত পাঠানোর আহ্বান

‘আমি কচ্ছপ গতিতে চলতে পছন্দ করি’

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জাতীয় ঐক্যের পর্যালোচনা করেছে বিএনপি