টকশো থেকে

সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অপরাধী বলা যাবে না

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৪০
সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অপরাধী বলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী সলিমুল্লাহ খান। গত ৮ই ফেব্রুয়ারি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ ২৪-এ প্রচারিত জনতন্ত্র-গণতন্ত্র শীর্ষক টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌসের সঞ্চালনায় টকশো অনুষ্ঠানে আরো অংশ নেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. সাদত হুসাইন, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, খালেদা জিয়ার আইনজীবী এডভোকেট মাসুদ আমেদ তালুকদার, আওয়ামী লীগের এমপি এডভোকেট নূরজাহান বেগম ও দুদকের প্রধান আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। যে বিচারটা হয়েছে তার তাৎপর্য রাজনীতিতে দুরকম হতে পারে। একটা হচ্ছে গণতান্ত্রিক। প্রধানমন্ত্রী হয়েছি তাই বলে আমি শাস্তির ঊর্ধ্বে এই যদি ভেবে থাকি এবং এটার ভবিষ্যৎটা হচ্ছে খেলা বদলাচ্ছে। জেনারেল এরশাদ একজন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, জেল খেটেছেন। তখন মনে করেছি এরশাদ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন বলে জেল খেটেছেন।
যারা বৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছেন তাদের ওপরও হতে পারে। এটা আগাম সতর্কতা। এটাও ভালো। মানে আল্লাহতায়ালা সব অমঙ্গলের মধ্যেও মঙ্গল রেখেছেন। কথাটা যদি আমরা এভাবে ধরি। ভবিষ্যতে সবাই সাবধান হবে। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আরো বড় বড় দুর্নীতি হচ্ছে। সেগুলোর তো বিচার হচ্ছে না। এটা কোনো যুক্তিতে টিকবে না। কারণ ডাকাতি করতে এসেছেন দশজন। নয়জন পালিয়ে গেছে। যাকে ধরা হয়েছে তার শাস্তি হতে পারে। এইখানে সমস্যা হচ্ছে মানুষ কিভাবে নিচ্ছে। আমি রাজনীতিতে এভাবে বোঝাবো। খালেদা জিয়া দুর্নীতি করেছে এটা বলতে পারে। আমিও এর চেয়ে বড় দুর্নীতি করেছি বলতে পারেন। মানুষ মনে করে দুর্নীতি করেছি বলে শাস্তি হয়েছে কথাটা ঠিক নয়। অন্য কোনো অপরাধ আছে যেটা এখানে মামলায় ওঠেনি। আমরা এভাবে দেখছি, জনগণ 
দেখছে। ফলে জনগণের পারসেপশন রাজনীতিতে একটা ফ্যাক্টর। এটা বোঝা যাবে কী করে? দুনিয়াতে নিরপেক্ষ নির্বাচন বলতে কিছু নেই। আমি অন্তত বিশ্বাস করি না। কল্পনা করুন মঙ্গলগ্রহ থেকে একটা নির্বাচন কমিশন এসে নির্বাচন পরিচালনা করছে। কাজেই খালেদা জিয়ার ভোট বাড়বে না কমবে এই শাস্তির ফলে। আমার ধারণা বাড়বে। জাফরুল্লাহ চৌধুরী একটা আলোচনা সভায় বলেছিলেন, খালেদা জিয়ার যদি শাস্তি না হয় তাহলে আওয়ামী লীগের লাভ হবে। আর যদি শাস্তি হয় আওয়ামী লীগ বোকামির পরিচয় দেবে। এটা তার দৃষ্টি। আমি তার সঙ্গে একমত পোষণ করিনি। আগে হঠাৎ করে সামরিক শাসকরা আসতো। এবডো করে কত শাস্তি দিয়েছে সামরিক শাসনের সময়। সেগুলোর পর কি আমাদের দেশ থেকে দুর্নীতি দূর হয়েছে। পাকিস্তানি-পাঞ্জাবিদের দুর্নীতি আজও দূর হয়েছে পাকিস্তানে? কাজেই এই বিচারগুলো জাতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে আমাদের কোনো শিক্ষা দেবে না। এর মাধ্যমে কী পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হবে? আমাদের জাতীয় সমস্যা কি? এখন যে সংকটে আছি স্বয়ং অ্যাটর্নি জেনারেল যে দীর্ঘ তালিকা হাজির করেছেন আদালত থেকে তাতে আদালত সম্পর্কে মানুষের শ্রদ্ধা থাকবে কি করে? আদালত ব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার দৃষ্টিতে ভেঙে পড়েছে, যেখানে শিক্ষা ব্যবস্থা বলতে গেলে ধরনী দ্বিধা হও, সেই অবস্থায় বিচার যে ন্যায় হয়েছে সেটা মানুষ কী মনে করবে? আমি এই বিচার ন্যায় হয়েছে সেটা বলছি না। আমার ধারণা সম্ভবত একটা ভুল হয়েছে। এটা সজ্ঞানে হোক, অজ্ঞানে হোক। অডিট বা ট্যাক্স অফিসার না থাকার কারণে হোক তারা তহবিলের অনিয়ম করেছেন। সুতরাং দুদকের কথা বোধ হয় সম্পূর্ণ অস্বীকার করা যাবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়া সামাজিকভাবে সম্মানিত লোক। তাকে সেভাবেই রাখা হবে। আমরা কারাগারে কাউকে ডিভিশন দেই, কাউকে দেই না। এটা অদ্ভুত ব্যাপার। ৪৭ সালের আগে মানুষকে দ্বীপান্তরে পাঠানো হতো, দাসত্ব করানো হতো। কিন্তু উপনিবেশ আমলের জেল কোড কিন্তু পুরোপুরি বদলায়নি। কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে কাউকে আমরা ভালো ব্যবস্থা দেই। এটা আমি ন্যায়সঙ্গতই মনে করি। খালেদা জিয়া বললেন, আমার গৃহপরিচারিকাকে সঙ্গে থাকতে দেয়া হোক। তার বয়সের কারণে। আবার বিচারে তাকে ৫ বছরের সাজা কম দেয়া হয়েছে বয়সের কারণে। এসব যদি বিবেচনা করা হয় তাহলে ৫ বছর দিলেন কেন? দু’বছরের কম দিলে পারতেন যেন নির্বাচন করতে পারেন। কাজেই এখন আইনমন্ত্রী বলছেন, সেটা সুপ্রিম কোর্ট ঠিক করবেন। আইনের ক্ষেত্রে অনেক দ্বিধা আছে আমাদের। এক রায়ে বলছে যাদের দু’বছরের বেশি শাস্তি হবে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। আরেক দিকে বলছে পারবে। আমরা দেখি ভবিষ্যতে কী হয়!
দুর্নীতি দমন ব্যুরো থেকে কমিশন হয়েছে। আমরা দুদককে শক্তিশালী করার কথা বলি। তারা কার বিরুদ্ধে মামলা করবে, কার বিরুদ্ধে করবে না সেটা তাদের ব্যাপার। হাসান মশহুদ চৌধুরী এই মামলাটা করেছিলেন। তারা বেছে বেছে দুই নেত্রীকেই জেলে নিয়েছিলেন। এরপর নির্বাচনে একদল জিতেছে, আরেকদল জিতেনি। রাজনৈতিক পটভূমি বিস্মৃত হয়ে, ভুলে গিয়ে কিন্তু এই বিচার করা যাবে না। রাজনীতিতে মুখে একটা, মনে একটা। আমি উকিলদের পক্ষ নিয়ে বলবো না। এখানে নিয়ম হয়েছে না অনিয়ম হয়েছে সেটা কথা নয়। এর চেয়ে বড় বড় অনিয়ম তো দেশে হচ্ছে। আমরা যে বিচারগুলো করেছি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, জেল হত্যার বিচার থেকে সবই হচ্ছে রাজনৈতিক বিচার। কিন্তু এটা হচ্ছে এক ধরনের অর্থনৈতিক দুর্নীতির বিচার। জেনারেল এরশাদের বিচার হয়েছে দুর্নীতির বিচার। তিনি প্রকৃত অপরাধ যেটা করেছিলেন ক্ষমতা দখল। এটার বিচার হয়নি। কারণ এটার বিচার করতে কেউ সক্ষম নয়। বেগম জিয়ার স্বামীকে কে বা কারা খুন করেছে এরশাদের সময় এটার বিচার হয়েছিল। কিন্তু বেগম জিয়া বলেছিলেন তিনি এই বিচারের সঙ্গে একমত নন। কিন্তু পুনর্বিচার করেননি। বড় বড় অপরাধের বিচার হচ্ছে না। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কার কথা স্মরণ করেন কি হচ্ছে সেখানে। ভারতে বহু মুখ্যমন্ত্রী জেলে গেছেন। কাজেই জিনিসটা তো অভূতপূর্ব নয়। বহু প্রধানমন্ত্রী জেলে যান। এজন্য সংসার ভেঙে পড়বে এর কোনো কারণ নেই। অনেকেই ইমোশনালি নিচ্ছে। উনি মা, উনি নেত্রী। সেটা ঠিক আছে। কিন্তু রাজনীতির ক্ষেত্রে আমরা সবাই নাগরিক। সেখানে আমি যদি অপরাধ না করে থাকি, মামলা তো শেষ হয়নি। আদালত যদি ভুল রায় দিয়ে থাকে সেটা তো উচ্চ আদালতে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিচারাধীন। তিনি দণ্ডিত অপরাধী নন। তাকে সাময়িক দণ্ড দেয়া হয়েছে। এডহক চাকরির মতো, এডহক শাস্তি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপরাধী বলা যাবে না।
নির্বাচনের ওপর কি ধরনের প্রভাব পড়বে?
শুধু এই মামলা নয়। আরো মামলা আছে। আইয়ুব খানের কথা স্মরণ করি। পাকিস্তানে প্রথম দশ বছর কোনো স্থায়ী সরকার গঠন হতে পারেনি। ১৯৫৪ সালে সরকার গঠন হয়নি। পাকিস্তানিরা তারপর সামরিক শাসন জারি করে। তখন তারা বিরাট আন্দোলন শুরু করে। চুল কাটাবে, মানুষের গা পরিষ্কার করবে। কিন্তু সেগুলো আসল কারণ ছিল না। ইংরেজিতে বলে বিকার। আমরা বিকার নিয়ে আলোচনা করি। আসল রোগের কাছে যেতে পারছি না। আমাদের সময় দুর্নীতি অনেক রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। আমরা সেটা দূর করতে পারছি না। যখন নির্বাচনের প্রসঙ্গ আসে আমাদের দুটো বড় দলের ভেতরে ভোট ভাগাভাগি হয়। এখন প্রভাব কি সেটা নির্বাচনই বলবে। আগে থেকে ভবিষ্যদ্বাণী করবো না। অনেক সময় বিচার যেটা ফরমালি ঠিক হয় জনগণ সেটা মানে না। একটা ঐতিহাসিক উদাহরণ দেই। বিখ্যাত সক্রেটিসের বিচারের সময় বিচারক ছিল ৫০০ জন। ওইটা পার্লামেন্টে বিচার করতো। সেই বিচারে প্রথমবার দেখা গেল তাকে অপরাধী সাব্যস্ত যারা করেছেন তারা তাকে অপশন দিয়েছিলেন। অল্প ব্যবধানে হয়েছিল এটা। একদিকে ২৬০, আরেকদিকে তার চেয়ে একটু কম। একদিকে বলল আপনি দেশের বাইরে চলে যেতে পারেন। আর না-হলে দেশে থাকতে হলে আপনার মৃত্যুদণ্ড হবে। উনি বললেন, আমি নিরপরাধ। আমি মৃত্যুদণ্ড নেব। পরে যখন দ্বিতীয়বার ভোটাভুটি হলো তখন ওনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলো। কিন্তু আড়াই হাজার বছর পরেও মানুষ বলছে ওনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়াটা ঠিক হয়নি। এক্সট্রিম জাস্টিস সামটাইমস প্রিসিপিটেস ইনজাস্টিস। রাজনৈতিক কারণে অনেক সময় বিচার আমাদের এখানে ক্ষমা করে। যেমন খালেদার বয়সের কথা বিবেচনা করে, ‘মর্যাদার কথা বিবেচনা করে ওনার শাস্তি কম দেয়া হয়েছে অন্যদের চাইতে। সেটা যদি হয়, তাহলে যাহা বায়ান্ন তাহাই তেপ্পান্ন বলি আমরা। যাহা দশ তাহা পাঁচ হতে পারে, যাহা পাঁচ তাহা শূন্য হতে অসুবিধা কি! অসুবিধা আছে। সেজন্যই তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। এখন দেখার বিষয় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কি হবে। দেশের মানুষ এটাকে রাজনৈতিক বিচার হিসেবে নিচ্ছে। কথাটা বেদনাদায়ক হলেও সত্য।’ তিনি দুর্নীতি করেননি এটা আমি বলবো না। এটা তার আইনজীবী বলবেন। কিন্তু আদালতের রায়ে মোটামুটি এটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা অপেক্ষা করবো চূড়ান্ত রায় পর্যন্ত। দুটো প্রসঙ্গ দেখতে হবে। একটা হচ্ছে সাবট্যান্স আরেকটা প্রসিডিউর। সাধারণত আমরা যখন আপিলে যাই প্রসিডিউর ঠিকমতো করা হয়েছে কি-না, এটা হচ্ছে বিচার্য বিষয়। রাজনীতিতে আরেকটি বিষয় আছে। যেটার কথা আপনি বলছেন আগামী নির্বাচন কেমন হবে? মানুষ এই বিচারের ওপর নির্ভর করে ভোট দেবে না। মানুষ ভোট দেবে অন্য প্রশ্নে। মানুষ ভালো আছে কিনা। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে আমরা উন্নতির দিকে যাচ্ছি। কিন্তু এর সঙ্গে তো আরো ঘটনা ঘটছে। দেশে সামাজিক দুর্নীতির কথা বলছি। পরীক্ষা একটা লক্ষণ। ব্যাংকগুলোর কথা না বলা ভালো। একটা পরিবারকে ৫ হাজার কোটি টাকা লোন দেয়া হচ্ছে। সেটা সরকার কিরকম সলজ্জভাবে বলছে। প্রধানমন্ত্রী সিলেটে যেভাবে বলেছেন সেটা বলা ঠিক হয়নি যে, লজ্জা থাকলে তিনি (খালেদা) আর দুর্নীতি করবেন না। প্রধানমন্ত্রী এটা না বললেও পারতেন। প্রধানমন্ত্রীকে আমি বলতে পারি না। কিন্তু মুহিত সাহেবকে বলতে পারি। মুহিত সাহেব বলেছেন, বারাকাত এসব টাকা দিয়েছে। বারাকাতকে তো মুহিত সাহেব এসব টাকা দিয়েছেন। কাজেই আপনাকে তো এর দায়িত্ব নিতে হবে। দুবছর পর বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ফিলিপাইনের বিরুদ্ধে মামলা করবে। এ সমস্ত জিনিসের বিচার করবে কে? তারা বলছে শিক্ষামন্ত্রী একজন সরল মানুষ। জাফর ইকবাল বলছেন সাদা মনের মানুষ। আফসান চৌধুরী যোগ করেছেন ফেসবুক স্ট্যাটাসে। আতিউর রহমান একজন সরল মনের মানুষ। এরকম করে আরো কয়েকজনের নাম নিছে। এমনকি প্রফেসর মুনতাসির মামুনও সাদা মনের মানুষ। এই যে সাদা মনের মানুষ বলে আমরা নিষ্কৃতি পাবো না। আগামী নির্বাচনে কিন্তু এসবের প্রভাব পড়বে। এই মামলা কিন্তু ক্ষুদ্র জিনিস হয়ে থাকবে। আমাদের দেশে আইনকে উল্টাতে কতদিন লাগে? একটা সিনারিওর কথা বলি। ধরি আগামী নির্বাচনে খালেদা নির্বাচন করলেন না। কিন্তু বিএনপি বা তার জোট জিতে এলো। তখন তারা তো সব আইন বদলাবে। তখন কি ঠেকাতে পারবেন? এগুলো তো সাময়িক ব্যাপার। হয়তো বেগম জিয়াকে দু’দিন পর জামিন দেবে। তাকে জেলে রাখা সম্ভব না। যেমন এরশাদ বাইরে আছেন। সে সমস্ত কথা বাদ দিয়ে বলবো নির্বাচনে কি প্রভাব পড়বে। অন্য জিনিস থেকে প্রভাব পড়বে। এসবে না। আগামী নির্বাচন আদৌ হবে কি-না অনেকে গুজব প্রচার করছে। নির্বাচন হবে। নির্বাচন না হয়ে উপায় নেই। হয়তো বিএনপিও নির্বাচনে আসবে। কিন্তু মানুষের ভোট কোনদিকে যাবে আগে থেকে বলা যাবে না। কাজেই কতগুলো জিনিসের ওপর নির্ভর করছে। এক নম্বর হচ্ছে- এখন যে ক্রাইসিস চলছে অদ্ভুত ব্যাপার। এরকম বড় আকারের ব্যাংকিং ক্রাইসিস এর আগেও বলেছি- জার্মান একটা কথা। ব্যাংক ডাকাতি তো কোনো অপরাধ নয়, ব্যাংক স্থাপনের অনুমতি পাওয়ার তুলনায়। এখন যা হচ্ছে ফারমার্স ব্যাংকের জন্য টাকা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। জলবায়ু ফান্ডের টাকা কেন রাখা হলো? আমার মনে হয় জনগণ এগুলোর বিচার করবে।
একটা শুভ লক্ষণ দেখা যাবে বিএনপি যে প্রতিবাদ দিবস দিয়েছে এটা রাজনীতিতে ন্যূনতম কর্মসূচি। তারা যে হরতাল ডাকেনি, ভবিষ্যতে ডাকবে কি-না জানি না। সরকার বলছে আমরা এত বেশি সন্ত্রাস তৈরি করেছি, সন্ত্রাস মানে মানুষকে ভয় পাওয়ানো তো। কি জন্য? কারণ বিএনপির সন্ত্রাসের ইতিহাস আছে। সন্ত্রাস দিয়ে সন্ত্রাস ঠেকাতে হবে। বিষ দিয়ে বিষকে ঠেকাতে হবে। বেগম জিয়া প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদের মতো বলেছেন, আপনারা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করুন। সহিংসতায় যাবেন না। তাতে মনে হচ্ছে বিএনপির নির্বাচনে আসা এবং কৌশলও আছে। এটা দেশের জন্য আশা করি ভালো হবে। কাজেই সমস্ত অমঙ্গলের মধ্যে যেহেতু মঙ্গল আছে। কাজেই ধর্মীয় উদ্ধৃতি দিয়ে শেষ করি। বেগম জিয়ার জন্য আপাতদৃষ্টিতে যা খারাপ, তার দলের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসতে পারে। কিন্তু তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার লক্ষণ এখন দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচন যদি হয়, নির্মলেন্দু গুণ একবার লিখেছেন, নির্বাচন যদি হয় আমি দাঁড়াব।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Engr. Mostafa Kamal

২০১৮-০২-১৬ ০৭:০১:৩৭

Thanks

আপনার মতামত দিন

সরল দোলকের মতো দুলছে তেরেসা মের ভাগ্য

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক রুবেল আটক

কুলিয়ারচরে নির্বাচনী পথসভায় হামলা, বিএনপি প্রার্থী শরিফুল আলম আহত

ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্ণর পদে এবার আমলা

ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকবে অধিকার

সেনা মোতায়েনের তারিখ পেছানোর ষড়যন্ত্র চলছে

আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে: আফরোজা আব্বাস

দোহারে বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ, প্রার্থীসহ আটক ১০ (ভিডিও)

দিরাইয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের চোখ তুলে নেওয়ার হুমকি আওয়ামী লীগ নেতার (ভিডিও)

পুলিশ প্রটোকলে আইনমন্ত্রীর গণসংযোগ

যত বাধাই আসুক নির্বাচনে থাকব

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নির্মোহ ও নিরপেক্ষ: এইচ টি ইমাম

আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হয়ে রিকশাচালককে মারধরকারী নারী যা বললেন

‘২০১৪-তে মানুষ ভোট দিয়েছে বলেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল’

টাইমের বর্ষসেরা ব্যক্তিত্বের তালিকায় শহিদুল আলম

সিলেটে ঐক্যফ্রন্টের পথসভায় বাধা, মাইক খুলে নিয়েছে পুলিশ