খালেদার পাশে ফাতেমা, সাক্ষাতের অনুমতি পাননি চিকিৎসকরা

পুলিশের আপত্তি, তিন ঘণ্টাতেই শেষ অনশন

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৪৬
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ৬ ঘণ্টার জন্য অনশনে বসলেও পুলিশের আপত্তি এবং বাধার মুখে তিনঘণ্টায় অনশন শেষ করেছে বিএনপি ও ২০ দল। অনশন কর্মসূচিটি সকাল ১০টায় শুরুর পর দুপুর ১টায় শেষ করেন তারা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত অনশন কর্মসূচি থেকে বিরোধী নেতারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায় ও কারাবন্দি  খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনশনে একাত্মতা ঘোষণা করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বিএনপি নেতাদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান। অন্যদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে যেতে না পেরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। দলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বিকাল ৪টায় তাদের অনশন ভঙ্গ করান। নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয় ঘিরে পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকায় তারা গত ৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। ওদিকে খুলনায় মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে অনশন করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।
হবিগঞ্জে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নফল রোজা রেখেছেন সাড়ে ৪শ’ নেতাকর্মী। এছাড়া চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপিসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিএনপি নেতাকর্মীরা এ অনশন কর্মসূচি পালন করেছে। অন্যদিকে গতকাল পর্যন্ত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়ের কপি হাতে পাননি খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। আদালতের নির্দেশে গতকাল খালেদা জিয়ার গৃহকর্মী ফাতেমাকে কারাগারে থাকার অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে কারা সূত্র জানিয়েছে।

শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবে ২০ দল
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন কর্মসূচির সমাপনী বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছে সরকার। আমরা বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনশনের জন্য বসেছিলাম। কিন্তু পুলিশের অনুরোধে বেলা ১টায় শেষ করেছি। তিনি পুলিশের উদ্দেশে বলেন, আমরা আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শেষ করছি। দয়া করে আপনারা পরিবেশ খারাপ করবেন না। আমি আজকের এই অনশন কর্মসূচি থেকে সরকারের কাছে আহ্বান রাখবো আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দিন। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, পুলিশের অনুরোধে দুপুর ১টার মধ্যে আমরা কর্মসূচি শেষ করছি। আওয়ামী লীগ খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে বিএনপিকে দুর্বল করে নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে ছাড়া এদেশে নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, সরকারকে বলতে চাই- দেশনেত্রীকে নিয়ে যে খেলা আপনারা করছেন সেই খেলা আগুন নিয়ে। আপনারা আগুনে হাত দিয়েছেন। নেত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। সেই ষড়যন্ত্র ধ্বংস করে দেশনেত্রীকে মুক্ত করে দাবি আদায় করা হবে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো। আগামী দিনে দেশে যাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় সেই দাবিও আদায় করবো। তিনি বলেন, একটা ভুয়া, বানোয়াট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে। আমরা এ রায় মানি না। এটা জনগণের রায় নয়। এটা হলো বিএনপি চেয়ারপারসনকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার রায়। কিন্তু তিনি এতে দুর্বল হবেন না। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন। আরো আন্দোলন হবে। খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, দেশে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও বাক-স্বাধীনতা নেই। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে এবং নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন চলবে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অনুরোধ করে বিএনপির এ নীতিনির্ধারক বলেন, খালেদা জিয়াকে চারদিন ধরে যারা অন্যায়ভাবে ডিভিশন দেয়নি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হোক। আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি মোকাবিলা করা হোক। তিনি বলেন, চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের কপি পাওয়ার কথা থাকলেও তা মেলেনি। আসলে তাদের দীর্ঘসূত্রতায় প্রমাণিত হয় খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রাখাই তাদের উদ্দেশ্য। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ২ কোটি টাকার জন্য যদি ৫ বছর জেল হয় তাহলে হলমার্কসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের জন্য কত বছরের জেল হবে? সেটা মাথায় হিসাব করা যাবে না। এ জন্য বিচারকদের ক্যালকুলেটর দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে। আমার নেত্রী খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হবেন বাংলাদেশের, ইনশাআল্লাহ। আমরা তাদের বিচার করবো। তিনি বলেন, সরকারকে বলে দিতে চাই, বাংলাদেশের কোনো আদালতের খোঁচায় বা কোনো নির্বাহী আদেশের কলমের খোঁচায় খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা যাবে না, তাকে ছাড়া কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যাবে না। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে শেখ হাসিনার সরকার রেহাই পাবে না। খালেদা জিয়াকে অবশ্যই মুক্তি দিতে হবে। এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রধান, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং প্রবীণ রাজনীতিক খালেদা জিয়াকে বন্দি করে সরকার নৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে। যে দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে ন্যায়বিচার হলে এই মামলাই চলতো না। অন্যদিকে হাজার হাজার কোটি টাকা যারা দুর্নীতি করছে তাদের কোনো শাস্তি হচ্ছে না। কেবল রাজনৈতিক রোষানলের শিকার হয়ে খালেদা জিয়াকে কারাগারে যেতে হয়েছে। বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, আগামী দিনে একটি কু-দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিক খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা। তার প্রতি এ আচরণ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য সুখকর হবে না, হতে পারে না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ায় দেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের মনে রাখা উচিত চলমান রাজনৈতিক সংকট দেশ-জাতি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল বলেন, দেশনেত্রী নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের কথা বলেছেন। আমরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সবাইকে বলে দিতে চাই, এটাকে কেউ দুর্বলতা ভাববেন না। অনশন কর্মসূচিতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, মোহাম্মদ শাহজাহান, নিতাই রায় চৌধুরী, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বরকতউল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, কাদের গনি চৌধুরী, শামীমুর রহমান শামীম, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, হেলেন জেরিন খান, ঢাকা মহানগর নেতা বজলুল বাসিত আঞ্জু, কাজী আবুল বাশার, যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, আসাদুজ্জামান আসাদ, আলমগীর হাসান সোহান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিকসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। অনশনে ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে বিজেপির ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, এলডিপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল করিম, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, ইসলামিক পার্টির এম এ রকীব, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন মনি, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুুরী, জাতীয় পার্টির (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার ও আহসান হাবিব লিংকন, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা ও লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ অংশ নেন। এর আগে একই দাবিতে সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিএনপিসহ ২০ দল। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে অনশনে যোগ দেন জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক আবদুল হালিম। এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অনশন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে বিএনপিসহ ২০ দলের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে। সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও ব্যাপক উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। একপর্যায়ে নেতাকর্মীদের ভিড়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে সচিবালয় মোড় ও হাইকোর্টের কদম ফোয়ারা মোড় পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেলে রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশের অনুরোধে দুপুর ১টায় অনশন কর্মসূচি শেষ করে বিএনপি। ওদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অনশন করেছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি। চট্টগ্রাম বিএনপির কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তারা এ কর্মসূচি পালন করে। উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনশনে সাবেক সহ-সভাপতি এমএ হালিম, চাকসু ভিপি মো. নাজিম উদ্দিন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবু তাহের, আবদুল আউয়াল, নুরুল আমিন, নুর মোহাম্মদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন সালাম মিঠুসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সিনিয়র নেতারা বক্তব্য দেন।

ফাতেমাকে পেলেন খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে গৃহকর্মী ফাতেমার কারাগারে থাকার অনুমতি দিয়েছে কারাকর্তৃপক্ষ। এ অনুমতি পাওয়ার পর ফাতেমা কারাগারে প্রবেশ করেছেন বলে কারা সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাদণ্ড হওয়ার পর ফাতেমাকে খালেদার সঙ্গে নেয়ার আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবীরা। বলা হচ্ছিল ফাতেমা খালেদা জিয়ার সঙ্গেই আছেন। তবে একদিন পর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসে জানান ফাতেমা খালেদা জিয়ার সঙ্গে নেই। এরপর থেকেই তাকে নিয়ে ধূম্রজাল দেখা  দেয়। গতকাল কারাগারের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারী থেকে কর্মকর্তা পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, কারাগারের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে রাখা হয়েছে খালেদা জিয়াকে। ৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন চার জন মহিলা কারারক্ষী। এছাড়াও চিকিৎসার জন্য রয়েছেন একজন ডিপ্লোমা নার্স। সার্বক্ষণিক তারাই আছেন।

৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার শাস্তি হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনজীবীরা খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনা করে গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকে তার সঙ্গে যাওয়ার অনুমতি চান। আইনজীবীরা জানান, তারপর ফাতেমাকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে পাঠানো হয়েছে। কারাগারসূত্রে জানা গেছে, কারাগারে মূল ফটকের ভেতরে নেয়া হয়নি ফাতেমাকে। ঘণ্টাখানেক পরে তাকে সেখানে রাখা যাবে না জানিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার বলেন, ৮ই ফেব্রুয়ারি পুলিশের গাড়িতে করেই ফাতেমাকে ম্যাডামের সঙ্গে পাঠানো হয়েছে।

গত শনিবার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ পাঁচ আইনজীবী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গণমাধ্যমকে জানান, খালেদা জিয়াকে একটি পরিত্যক্ত নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছে। ফাঁসির আসামিদের যেভাবে রাখা হয় সেভাবে রাখা হয়েছে। সেখানে ফাতেমা নেই। ওই সময় পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেয়া হয়নি। পরদিন রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেন, প্রথম দিন পুলিশ ফাতেমাকে দিয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু জেল কোড অনুসারে গৃহপরিচারিকা রাখার সুযোগ না থাকায় এক ঘণ্টা পরে আমরা তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি।

ওইদিনই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দিতে নির্দেশ দেন আদালত। আদালতের ওই নির্দেশ নিয়ে কারা অধিদপ্তরের অফিসে যান সানাউল্লাহ মিয়াসহ বিএনপিপন্থি কয়েকজন আইনজীবী। আইনজীবীরা জানান, জেল কোডের ৬১৭ ধারা অনুসারে আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ডিভিশন মঞ্জুর করেন। সেইসঙ্গে আদালতের নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে যেহেতু খালেদা জিয়া অসুস্থ এবং বয়স্ক সে হিসেবে তিনি একজন গৃহপরিচারিকা পেতে পারেন।

এদিকে, গতকাল দুপুরে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যান সাত চিকিৎসক। তারা খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে জেল সুপারের কাছে আবেদন করেন। দীর্ঘ প্রায় দু’ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করলেও কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পেয়ে ফিরে যান তারা। চিকিৎসকদের মধ্যে ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, খালেদা জিয়া বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। আমরা দীর্ঘদিন তাকে চিকিৎসা দিয়ে আসছি। আজ আমরা তার চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে এসেছিলাম। দেশবাসীর মতো তার চিকিৎসা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা আইজি প্রিজন ও অতিরিক্ত আইজি প্রিজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। কিন্তু তারা আমাদের অনুমতি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। আমরা তাদের বলেছি, নির্জন এই কারাগারে যদি তার কোনো ক্ষতি হয় তাহলে সরকার ও আপনারা দায়ী থাকবেন।

চিকিৎসকদের মধ্যে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. মো. শাহাব উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল কুদ্দুস, অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম সেলিম, ডা.  মো. ফাওয়াজ হোসেন শুভ ও ডা. মনোয়ারুল কাদির বিটু।

বিএনপির সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধি দলের বৈঠক
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার রায় ও তাকে কারাগারে পাঠানোসহ সার্বিক রাজনৈতিক বিষয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেছে বিএনপি। গতকাল রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সফররত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের পর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের একথা জানান। তিনি বলেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা, দেশনেত্রীর মামলার রায় এবং বর্তমানে গণতন্ত্রের যে অবস্থা রয়েছে সে বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশনেত্রীর রায়ের বিষয়টি আমরা তাদেরকে অবহিত করেছি। এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই রায়টি আগামী নির্বাচনে অন্তরায় হবে কিনা সেই বিষয়টা তারা দেখছেন। অবজারভার পাঠানোর জন্য নির্বাচন কমিশন তাদেরকে চিঠি দিয়েছেন, তারা পাঠাবেন কি পাঠাবেন না- প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন না হলে সাধারণ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক তারা পাঠান না। গতবার (দশম সংসদ নির্বাচন) তারা পাঠাননি। মির্জা আলমগীর বলেন, এই বিষয়গুলো খুব পরিষ্কার যে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে পরেও গোটা বিশ্বের যে প্রতিক্রিয়া ছিল, তারা বলেছে যে, একটা ফ্রড ইলেকশন হয়েছে এবং নির্বাচনটা গ্রহণযোগ্য নয়। এখনো তারা আশা করে যে, ইনক্লুসিভ ইলেকশন হবে। সেজন্য তারা কাজ করছে। নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের সাথে তারা কথা-বার্তা বলছেন। মির্জা আলমগীর আরেক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার আমাদের কোনো কর্মসূচি নেই। সম্ভবত আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে। দলীয় সূত্রে জানায়, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী লিফলেট বিতরণ, গণস্বাক্ষর, মৌন মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদানসহ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। এর আগে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রবেশ করেন ইইউ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। সন্ধ্যা ৬টা ৫৬ মিনিটে শুরু হয়ে প্রায় একঘণ্টা চলে এ বৈঠক। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ইইউ সদস্যরা গুলশান কার্যালয় ত্যাগ করেন। ইইউ প্রতিনিধিদলে ছিলেন বাংলাদেশ সফররত দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জিন ল্যামবার্ট, জেমস নিকলসন রিচার্ড করবেট, ওয়াজিদ খান ও সাজ্জাদ করিম। বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী,চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, আবদুল কাইয়ুম, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন ও বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে খালেদা জিয়ার গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিদেশি কূটনৈতিকদের সঙ্গে ব্রিফ করেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। সেখানেও দলীয় চেয়ারপারসনের সাজা ও সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁদের অবহিত করা হয়। উল্লেখ্য, বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার বৈঠক করেন ইইউ প্রতিনিধি দল। এ সময় ইইউ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সিইসির কাছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন কিনা জানতে চান।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে

লাহোরে শিশু জয়নাবের ধর্ষক ও হত্যাকারীর ফাঁসি কার্যকর

বাহুবলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক আটক

তিতাসের ৫ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

পাকিস্তান চায় মার্কিন সেনারা আফগানিস্তানে থাকুক

ঢাবিতে 'গ' ইউনিটে ফেল করা পরীক্ষার্থী 'ঘ' ইউনিটে প্রথম

কুচকাওয়াজে হামলার মূল হোতাকে হত্যার দাবি ইরানের

‘সরকারের হুকুমে আরেকটি ফরমায়েসী রায়ের দিন ধার্য’

শবরীমালা মন্দিরে নারী প্রবেশ নিয়ে উত্তেজনা, গন-আত্মহননের হুমকি

সোমালিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় ৬০ জঙ্গি নিহত

মাধবদীর জঙ্গি আস্তানায় দুই নারীর আত্মসমর্পণ

এনডিপির খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজাকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে বহিস্কার

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৬২

ইরানের ১৪ নিরাপত্তারক্ষীকে অপহরণ করেছে পাকিস্তানি জঙ্গিরা

উত্তরখানের অগ্নিদগ্ধে আরো দুইজনের মৃত্যু

খাসোগি হত্যাকান্ডের ১১ মিনিটের নতুন অডিও তুরস্কের কাছে