বাহুবলে চা বাগান দখলমুক্ত করতে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১৫

দেশ বিদেশ

বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:২৩
বাহুবলে চা বাগানের জায়গা দখলমুক্ত করাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও গ্রামবাসীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে ৮ জন গুলিবিদ্ধসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইদ্রিছ মিয়া (৬৫) নামে একজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও অন্যদের বাহুবল এবং হবিগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের শুরু গতকাল বেলা ১১টার দিকে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকাল ৫টা) আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রশাসন ও গ্রামবাসী মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। উভয়পক্ষে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গ্রামবাসীকে হঠাতে পুলিশ দফায় দফায় শর্টগানের গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে।
সূত্র জানায়, বাহুবল উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের সুন্দ্রাটিকি গ্রামের নিকটবর্তী ১৭ একর ৫৭ শতক ভূমি শ’ শ’ বছর ধরে গ্রামবাসী গোচারণভূমি, গাছবাগান ও বাড়িঘর স্থাপন করে ভোগদখল করে আসছে।
ইদানীং ফিনলে চা কোম্পানির রশিদপুর ডিভিশনের আওতাভুক্ত রামপুর চা বাগান কর্তৃপক্ষ ওই ভূমি তাদের লিজকৃত দাবি করে দখলে নেয়ার পাঁয়তারা শুরু করে। এ অবস্থায় সুন্দ্রাটিকি গ্রামবাসীর পক্ষে আমির উল্লা, উস্তার মিয়া, আকল মিয়া, আব্দুল হাই, তাহির মিয়া, জাহিদ মিয়া ও আউয়াল মিয়া বাদী হয়ে গত ১৮ই ডিসেম্বর আদালতে মামলা করেন। মামলায় গ্রামবাসী তাদের দখলীয় ভূমি থেকে বাড়িঘর ভেঙে উচ্ছেদের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়। এ প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত বাগান কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। এ বিষয়টিকে ঘিরে বাহুবল উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা চালান। এ অবস্থায় উক্ত ভূমিতে গ্রামবাসী নতুন করে ঘরবাড়ি তৈরি করছে বলে বাগান কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করলে বুধবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জসীম উদ্দিন ও বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাসুক আলীর নেতৃত্বে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। তাদের দেখে গ্রামবাসীও জড়ো হলে উভয়পক্ষে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি চালালে উল্লিখিত পরিমাণ লোক আহত হয়। এরপর থেকে দিনব্যাপী উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে।
সুন্দ্রাটিকি গ্রামের পক্ষে আদালতে দায়েরকৃত মামলার বাদী আউয়াল মিয়া বলেন, উক্ত ভূমি আমাদের গ্রামবাসী কয়েকশ’ বছর ধরে ভোগদখল করছে। এ ভূমিতে আমাদের লোকজনের বাড়িঘর, গাছপালা রয়েছে। ইদানীং বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের লিজকৃত ভূমি দাবি করে আমাদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা শুরু করলে আমরা আদালতে মামলা দায়ের করি। এ অবস্থায় বাগান কর্তৃপক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন একটি অভিযোগ দায়ের করে। এ নিয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ন্যায় বিচার আশা করছিলাম। কিন্তু আজ তিনি পুলিশ নিয়ে এসে আমাদের বাড়িঘর ভেঙে উচ্ছেদের চেষ্টা চালান। আমরা এর শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলে আমাদের ওপর নির্বিচারে গুলি করা হয়। কয়েকজন গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জসীম উদ্দিন বলেন, গ্রামবাসী জায়গাটি নিয়ে মামলা করেছে। মামলাতেও তারা জায়গাটি সরকারের স্বত্ব বলে স্বীকার করেছে। তারপরও তারা বেআইনি অবস্থান নিচ্ছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে জাগপাকেও পাশে চায় বিএনপি

ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

কক্ষপথে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট

মাদক নির্মূলে বন্দুকের ব্যবহারে উদ্বিগ্ন সুলতানা কামাল

বিদেশ পালাচ্ছে চট্টগ্রামের মাদক ব্যবসায়ীরা!

২রা জুন থেকে ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু

দুদকের দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

মন্ত্রী-সচিবরা ফোন কেনার জন্য ৭৫ হাজার টাকা পাবেন, ব্যবহারে থাকছে না কোনো নির্ধারিত সীমা

কক্সবাজারে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, যাচ্ছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে

নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড়ের মাটিধসে নিহত ৩

রাজবধু মেগানের ভাতিজার হাতে ছুরি

নোম্যান্স ল্যান্ড ছাড়তে রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের নির্দেশ

ট্রাম্প শিবিরে সৌদি-আমিরাতের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা?

নির্বাচনকে সামনে রেখে হাসিনা-মোদি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হবে

রাজীবের পরিবারকে ক্ষতিপূরণে বাস কর্তৃপক্ষের করা লিভ টু আপিলের আদেশ কাল

চিকুনগুনিয়া সংকট: বর্ষার আগে ভরসা কতটা?