ভালোবাসার গল্প

সুখে থাকুক শুকুর আলীরা

রকমারি

ফররুখ মাহমুদ | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:৪০
নাসির উদ্দিন
শুকুর মিয়া। বয়স ৫০ ছুঁইছুঁই। গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে টানাপোড়েনের সংসার। স্ত্রী ফাতেমা মানসিক ভারসাম্যহীন। একসময়ের বর্গাচাষী শুকুর মিয়া সচ্ছল জীবনের আশায় পাড়ি জমান জাদুর শহর ঢাকায়।
ওঠেন তেজগাঁওয়ের একটি বস্তিতে। গ্রামে থাকতে শুনেছেন ঢাকা শহরের বাতাসে টাকা ওড়ে। কিন্তু অনেক চেষ্টাতেও সেই টাকা শুকুর আলীর কাছে আজও ধরা দেয়নি। শুকুর আলীর সংসার চালান বিভিন্ন পার্কে প্লাস্টিক, লোহা-লক্কড় কুড়িয়ে। মাঝে মাঝে কাঠ বাদাম কুড়িয়ে বিক্রিও করেন। সেই টাকায় এক বেলা বা আধা বেলা খেয়ে চলে চারজনের সংসার। স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় দুই সন্তানকে সঙ্গে রাখেন তিনি। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালে বাসা থেকে দুই সন্তান রেহানা ও জীবনকে নিয়ে বের হন শুকুর আলী। ঘুরতে ঘুরতে দুপুরে শাহবাগ মোড় আসেন। ফুটপাতে এলিয়ে দেন ক্লান্ত শরীর। পাশে বিক্রি হচ্ছে খিচুড়ি। রেহানা ও জীবনের ক্ষুধার্ত মন বারবার সেই খিচুড়ির দিকে চলে যাচ্ছে। বাবা শুকুর আলী বুঝতে পেরে মাংস ছাড়া ২০ টাকা দিয়ে এক প্লেট খিচুড়ি কেনেন। পরম আদরে খাইয়ে দিতে থাকেন সন্তানদের। বাদ সাধে ছোট্ট জীবন। এক লোকমা খেয়েই মুখ ঘুরিয়ে নেয় সে। বায়না ধরে মাংস দিয়ে খাবে। শুকুর আলী নিরুপায়। মাংস দিয়ে খিচুড়ি খেলে লাগবে ৫০ টাকা। তার পকেটে সেই টাকা নেই। নিজের অক্ষমতা সন্তানকে বোঝাতে শুরু করেন। কিন্তু জীবনও নাছোড়বান্দা। তাদের এই মান অভিমানের দৃশ্য ধরা পড়ে এক পথচারীর চোখে। এগিয়ে আসেন তিনি। খিচুড়ি বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করেন কি সমস্যা। বিক্রেতা জানালেন, মাংস না দেয়ায় বাচ্চাটা খিচুড়ি খাচ্ছে না। তার বাবার মাংস দিয়ে খিচুড়ি কিনে দেয়ার সামর্থ্য নাই। পথচারীর মাংসসহ এক প্লেট খিচুড়ি কিনে তুলে দেন শুকুর আলীর হাতে। কৃতজ্ঞতায় ছলছল করে ওঠে তার চোখ। মুখে হাসি ফুটে ওঠে। খিচুড়ির প্লেটে মাংস দেখে হৈহৈ করে ওঠে জীবন। শুকুর আলী জীবনের এমন উচ্ছ্বাসে মুখ ঘুরিয়ে মাংসসহ খিচুড়ির লোকমা তুলে ধরেন তার দিকে। পাশ থেকে মুখ বাড়িয়ে দেয় রেহানাও। বাচ্চাদের এমন হৈহৈ রব আর শুকুর আলীর হাসি মুখ দেখে গন্তব্যের দিকে পা বাড়ান পথচারী। ভাবেন সুখে থাকুক শুকুর আলীরা। বেঁচে থাকুক ভালোবাসা।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Mes Toma

২০১৮-০২-১৪ ০৬:২০:১৬

আমরা যদি সবাই এমন এক এক জন শুকুর আলিকে এক এক জন সহায়তা করি তাহলে জীবন ও রেহানা দের অনাহারে থাকতে হতো না।

Mizanur Rahman

২০১৮-০২-১৪ ০৬:০৮:১২

Insha'Allah I want to give some money for Shukur Ali. Kindly provide me his address. Anybody can help. Thanks. Cell : 01711328309.

Motin

২০১৮-০২-১৪ ০৫:২৫:৩৮

If anyone give me his home address with contact number i will wish to help him.

Shah Alam

২০১৮-০২-১৪ ০৪:৫৩:১৩

ধন্যবাদ এই পথচারিকে

selina

২০১৮-০২-১৪ ০০:৩৩:১৯

Excellent. feature .

আপনার মতামত দিন

‘ভারতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের নেপথ্যে চীন সমর্থনপুষ্ট পাকিস্তান’

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই

দ্বিতীয় ধাপে আইনি লড়াই, জামিন প্রশ্নে ফয়সালার অপেক্ষা

নেশার ভয়ঙ্কর জগতে শিশুরাও

মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নিতে দ্ব্যর্থহীন সমর্থন দিন

অনিশ্চয়তা প্রভাব ফেলছে অর্থনীতির ওপর

শনিবার কালো পতাকা মিছিল বিএনপি’র

জুয়ার আসরে উড়ছে কোটি টাকা

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ভাষা শহীদদের স্মরণ

কেন মানুষ মাজারে যায়?

শহীদমিনারের স্রোত গ্রন্থমেলায়

শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

চাটখিলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ

চূড়ান্ত বিচ্ছেদ হয়ে যাচ্ছে আজ

'বন্দুক যুদ্ধে' শিশু ধষর্ণ মামলার আসামি নিহত

জুতা পায়ে প্রভাত ফেরি