ফোর-জির যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৫২
চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল সেবার (ফোর-জি) যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। আগামী ২১শে ফেব্রুয়ারি থেকে ওই সেবা পেতে যাচ্ছেন প্রায় ১৪ কোটি মোবাইল গ্রাহক। এ ধরনের উন্নত মোবাইল সেবাদানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ তরঙ্গ নতুন করে কিনেছে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক। গতকাল রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত তরঙ্গ নিলাম অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিটিআরসি)। নিলাম অনুষ্ঠান থেকে তরঙ্গ বিক্রি ও টেক নিউট্রালিটি থেকে সরকারের আয় হচ্ছে ৫ হাজার ২৬৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা। তরঙ্গ নিলাম অনুষ্ঠানে বাংলালিংক ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ৫ দশমিক ৬ ও ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ৫ মেগাহার্টজ ব্যান্ড তরঙ্গ কেনে।
এছাড়া গ্রামীণফোন ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ৫ মেগাহার্টজ ব্যান্ড তরঙ্গ কেনে 
। এর ফলে দেশের জনগণ ২১শে ফেব্রুয়ারি থেকে ফোর-জি সেবা পাবে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। নিলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ। এছাড়া বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মোবাইল ফোন অপারেটরের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পর্যাপ্ত তরঙ্গ থাকায় নিলাম অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি মোবাইল অপারেটর টেলিটক ও রবি। নিলামে অংশ নিয়ে দেশের দুই অপারেটর বাংলা লিংক ও গ্রামীণফোন মোট তিন হাজার ৮৪৪ কোটি টাকায় ফোর-জি তরঙ্গ বরাদ্দ নিয়েছে। এছাড়া টু-জি ও থ্রি-জি সেবার জন্য বরাদ্দ করা তরঙ্গে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা দিয়ে (যাতে ওই তরঙ্গ যেকোনো প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা যায়) গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবির কাছ থেকে সরকার পেয়েছে ১ হাজার ৪৪৫ দশমিক ০৮ কোটি টাকা। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপারেটর রবি তাদের হাতে থাকা তরঙ্গ প্রযুক্তি নিরপেক্ষতায় রূপান্তর করে ফোর-জি সেবা দেয়ার পরিকল্পনা করেছে। আর বন্ধ হয়ে যাওয়া অপারেটর সিটিসেল নিলামে অংশ না নেয়ায় তাদের পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা আর থাকল না। বিটিআরসি জানিয়েছে, তরঙ্গের প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার সুবিধা পেতে ২০শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক ফোর-জি সেবায় আসতে চাইলে ওই সময়ের মধ্যে তাদের প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার সুবিধা নিতে হবে। চারটি ব্লকে এক হাজার ৮০০ মেগাহার্টজে (প্রথম ব্লক- ৫ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ, দ্বিতীয় ব্লকে ৫ মেগাহার্টজ করে দুটি এবং দুই দশমিক ৪ মেগাহার্টজ আরেকটি ব্লক) এবং দুই হাজার ১০০ মেগাহার্টজের ৫টি ব্লকে (প্রতি ব্লকে ৫ মেগাহার্টজ করে) এ নিলাম হয়। এর মধ্যে গ্রামীণফোন শুধু এক হাজার ৮০০ মেগাহার্টজ এবং বাংলালিংক দুই হাজার ১০০ মেগাহার্টজ ও এক হাজার ৮০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলামে অংশ নেয়। বাংলালিংক এক হাজার ১১৯ কোটি টাকায় ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড এবং এক হাজার ৪৩৯ কোটি টাকায় ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের মোট ১০ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনেছে। অনুষ্ঠানে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমরা টেক নিউট্রালিটি দিয়েছি, তরঙ্গ দিয়েছি। এখন বলতে পারবেন না এগুলো নেই। আপনারা গ্রাহক বাড়াচ্ছেন কিন্তু তরঙ্গ বাড়াচ্ছিলেন না। এই নেই নেই অবস্থা এখন আর নেই। আপনারা যদি বিষয়টি উপলব্ধি করেন তাহলে ভালো হয়। গ্রাহকদের মোবাইল সেবার ব্যাপারে ত্রুটি থাকবে, এটা মেনে নেয়া যাবে না। আমার কাছে গুণগত মানই প্রথম অগ্রাধিকার। টেলিকম অপারেটরগুলোকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, দেশের জনগণ ফুল টাকা দেয় আর সে অনুযায়ি তারা ইন্টারনেটের গতি পায় না, এটা চলবে না। মন্ত্রী নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, মোবাইল ফোন সেবায় অনেক সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে কলড্রপ একটি বড় সমস্যা। এমনও দেখা গেছে বাড়ি থেকে অফিস পর্যন্ত যেতে আটবার পর্যন্ত কলড্রপ হয়েছে। এটা চলতে দেয়া যাবে না। এসব সমস্যা দূর করতে হবে। বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, আশা করছি মোবাইল ফোন অপারেটরদের কোয়ালিটি অব সার্ভিস ভালো হবে। তিনি মালয়েশিয়া ও জার্মানির উদাহরণ দিয়ে বলেন, ১ মেগাহার্টজ তরঙ্গ দিয়ে তাদের তুলনায় বাংলাদেশ ১৫ গুণ বেশি মোবাইল ব্যবহারকারীকে সেবা দেয়। ফলে সেবার মান বাংলাদেশে ভালো নয়। তিনি জানান, টাকার অঙ্ক এখানে বড় বিষয় নয়। আমাদের কাছে বড় বিষয় হচ্ছে গ্রাহকদের উন্নতমানের সেবা নিশ্চিত করা। আমরা সেদিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন কেনা তরঙ্গ দিয়ে আরও উন্নতমানের মোবাইল ফোন সেবা দেয়া সম্ভব হবে। এতে কলড্রপ (কথা বলার সময় হঠাৎ লাইন কেটে যাওয়া) ও নেটওয়ার্ক সমস্যা দূর হবে। এছাড়া এই তরঙ্গ দিয়ে আমরা ফোর জি সেবা দিতে পারবো। তরঙ্গ নিলাম শেষে সাংবাদিকদের জানানো হয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে টেলিকম অপারেটররা ২১০০, ১৮০০ এবং ৯০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডের তরঙ্গ বরাদ্দ নিয়ে ফোর-জি নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করে আসছে। এরমধ্যে ফোর-জির জন্য জনপ্রিয় ব্যান্ড ২১০০ মেগাহার্টজ। নিলাম পরিচালনা করেন বিটিআরসির স্পেকটাম বিভাগের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ।
এদিকে নিলাম শেষে তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলালিংক জানায়, তারা ২১শে ফেব্রুয়ারি থেকে ফোর-জি সেবা চালু করতে যাচ্ছে। এজন্য তাদের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। বাংলালিংকের সিইও এরিক অস সংবাদ সম্মেলনে বিভিণ্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, আশা করি আমাদের সেবার গুণগত মান আরও বাড়বে। গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করতে পারবো বলে আমাদের বিশ্বাস।
সেরা ফোর-জি সেবা দেবে গ্রামীণফোন
প্রযুক্তি নিরপেক্ষে স্পেকট্রামের সঙ্গে নতুন স্পেকট্রাম যোগ হওয়ায় গ্রামীণফোন দেশের সবচেয়ে আধুনিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেরা ফোর-জি সেবা প্রদানে একটি দৃঢ় অবস্থানে পৌঁছে গেল বলে মন্তব্য করেছেন গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি। তিনি বলেন, যখন আমরা ফোর-জি চালু করবো তখনো আমরা গ্রাহকের অভিজ্ঞতার বিষয়ে কোনো ছাড় দেব না। গতকাল রাজধানীর স্থানীয় এক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে ঢাকা ক্লাবে তরঙ্গ নিলামে অংশ নেয় গ্রামীণফোন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন আয়োজিত স্পেকট্রাম নিলামে প্রতি মেগাহার্জ ৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হারে ৫ মেগাহার্জ বেতার তরঙ্গ কিনেছে গ্রামীণফোন। ১৮০০ মেগাহার্জ ব্যান্ড ফোর-জি/এলটিই বিস্তারে সবচেয়ে কার্যকরী স্পেকট্রাম এবং গ্রামীণফোনের নতুন ক্রয় তার শীর্ষস্থানকে আরো জোরদার করেছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি তার সম্পূর্ণ টু-জি স্পেকট্রাম-এর জন্য টু-জি প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা চেয়ে আবেদন করে এবং রেগুলেটরের অনুমতি লাভ করে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রামীণফোন তার নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন করেছে। ফলে গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন এইচডি ভিডিও ও লাইভ টিভি স্ট্রিমিং, ঝকঝকে ভিডিও কল এবং অতি দ্রুতগতির ডাউনলোড করতে পারবেন গ্রামীণফোনের অপ্রতিদ্বন্দী নেটওয়ার্কে। গ্রামীণফোনের আধুনিক নেটওয়ার্ক উপভোগ করার জন্য গ্রাহকদের তাদের থ্রি-জি সিম পরিবর্তন করে ফোর-জি সক্ষম সিম গ্রহণ করতে অনুরোধ জানানো হয়। গ্রামীণফোনের সিইও বিটিআরসি, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সরকারকে সাফল্যের সঙ্গে স্পেকট্রাম নিলাম সম্পন্ন করার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সারা দেশে একটি মানসম্পন্ন ফোর-জি নেটওয়ার্ক বিস্তারে সহায়তা কামনা করেন। তিনি বলেন, এই নিলাম আয়োজন করে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে আরো একধাপ এগিয়ে গেল। আমরা আশা করবো যে সফলভাবে ফোর-জি বিস্তার এবং এর ব্যবসায়িক সাফল্য নিশ্চিত করতে তারা যৌক্তিক নীতি গ্রহণ করবেন। টেলিনর গ্রুপের অঙ্গসংগঠন গ্রামীণফোন ৬৫ মিলিয়ন এরও অধিক গ্রাহক নিয়ে বাংলাদেশের অগ্রণী টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করার পর দেশব্যাপী সর্ববৃহৎ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে গ্রামীণফোন যার মাধ্যমে দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ সেবা গ্রহণ করতে পারে। ব্র্যান্ড প্রতিজ্ঞা ‘চলো বহুদূর’-এর আওতায় গ্রামীণফোন, গ্রাহকদের জন্য সর্বোত্তম মোবাইল ডাটা, ভয়েস সেবা এবং সবার জন্য ইন্টারনেট প্রদানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। গ্রামীণফোন ঢাকা ও স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

azad

২০১৮-০২-১৪ ১৯:৩২:৫৭

আমি বর্তমানে বাংলালিংকের ২ জি এবং গ্রামীনের ৩জি নেটই পাইনা ইন্টারনেট ব্যাবহারে সেখানে ৪ জি কিভাবে পাওয়া সম্ভব।

md zonayed Razvi

২০১৮-০২-১৩ ২২:৫৫:০৬

আমরা ৩জি সেবাই পাইনা। ৪জি কবে থেকে পাব

md.najmul ahsan

২০১৮-০২-১৩ ১৯:৪৬:০৩

Its very good.but it have to controle strictly.our child pls dont go unexcetabl door.

আপনার মতামত দিন

‘ভারতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের নেপথ্যে চীন সমর্থনপুষ্ট পাকিস্তান’

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই

দ্বিতীয় ধাপে আইনি লড়াই, জামিন প্রশ্নে ফয়সালার অপেক্ষা

নেশার ভয়ঙ্কর জগতে শিশুরাও

মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নিতে দ্ব্যর্থহীন সমর্থন দিন

অনিশ্চয়তা প্রভাব ফেলছে অর্থনীতির ওপর

শনিবার কালো পতাকা মিছিল বিএনপি’র

জুয়ার আসরে উড়ছে কোটি টাকা

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ভাষা শহীদদের স্মরণ

কেন মানুষ মাজারে যায়?

শহীদমিনারের স্রোত গ্রন্থমেলায়

শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

চাটখিলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ

চূড়ান্ত বিচ্ছেদ হয়ে যাচ্ছে আজ

'বন্দুক যুদ্ধে' শিশু ধষর্ণ মামলার আসামি নিহত

জুতা পায়ে প্রভাত ফেরি