খালেদার মুক্তির দাবিতে পৃথক কর্মসূচি দেবে ২০ দল

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, রোববার, ১০:০৬
বিএনপি চেয়ারপারসন ও জোটের শীর্ষ নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পৃথক কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০ দল। তারই অংশ হিসেবে সোমবার বিএনপি ঘোষিত মানববন্ধনে অংশ নেবেন জোটের নেতাকর্মীরা। রাজধানীতে আগামী সপ্তাহে একটি সমাবেশ করার উদ্যোগ নিয়েছে জোট। এছাড়া প্রত্যেক জেলায় জোটগতভাবে সভা সমাবেশ করবে ২০ দল। এছাড়া বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচির বাইরে তারা পৃথকভাবে এই কর্মসূচি পালন করবেন। কর্মসূচির ধরণ কেমন হবে এ নিয়ে আলোচনা করে জানানো হবে। রোববার সন্ধ্যায় জোটের বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব ও জোটের সমন্বয়ক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৈঠকে নেয়া এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। মির্জা আলমগীর বলেন, সভায় সর্বসম্মতিক্রমে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তার প্রথমটি হচ্ছে সম্পূর্ণ মিথ্যা সাজানো মামলায় জাল একটি নথির উপর ভিত্তি করে জোটের শীর্ষ নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের সাজা দেয়ায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ার নিন্দা জানানো হয়েছে। এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের গ্রেপ্তার সব নেতা-কর্মীর মুক্তির দাবিও জানানো হয়। তিনি বলেন, দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে অদূর ভবিষ্যতে ২০ দলীয় জোট কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপির আগামী কর্মসূচিগুলোতে শরিকদলগুলো কেবল একাত্মতা ঘোষণাই নয় অংশ গ্রহণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ২০ দলীয় জোটের ঐক্যকে আরো প্রসারিত করার জন্য অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট নেতারা কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মির্জা আলমগীর বলেন, সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য রেখেছেন। তার কাছ থেকে আহ্বান এসেছে একটা প্লাটফর্ম তৈরি করে জনগণের জোট তৈরি করতে হবে। এছাড়া খালেদা জিয়া শেষ সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় ঐক্যের যে আহ্বান জানিয়েছিলেন জোটের নেতারা তার সেই বক্তব্য সমর্থন করেছেন। আজকের বৈঠকে জোটের সবাই উপস্থিত ছিলেন। যেসব দলের চেয়ারম্যান অসুস্থ তাদের প্রতিনিধিরা এসেছেন। ২০ দলীয় জোটের নেত্রী কারাগারে সেক্ষেত্রে জোটের প্রধান কেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আলমগীর বলেন, জোট নেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে থাকুক বা যেখানেই থাকুক তিনিই জোটের নেত্রী। তিনিই ২০ দলের শীর্ষ নেত্রী। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সমন্বয়ক হিসেবে আমি কাজ করেছিলাম। এখনো করছি। খালেদা জিয়ার রায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, রায়ের সার্টিফাইড কপি এখনো পাওয়া যায়নি। বৈঠক শেষে বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আমরা বিএনপির কর্মসূচির বাইরে নতুন কর্মসূচি দেয়ার বিষয়ে আলাপ করেছি। শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করবো। কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেছেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে তা প্রচার প্রকাশনার মাধ্যমে দেশবাসীকে অবহিত করতে হবে। ক্ষমতাসীন দল তাদের সকল মামলা প্রত্যাহার করে বিরোধী দলের মামলা সচল করে এই রায় দেয়া হয়েছে জনগনকে তা বলতে হবে। ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি বলেছেন, জোটকে এখন একমুখি সিদ্ধান্ত নিয়ে এগোতে হবে। সকলকে একই সুরে কথা বলতে হবে। এর মাধ্যমে সারাদেশে খালেদা জিয়ার প্রতি অন্যায় আচরণ করা হয়েছে তা প্রকাশ করতে হবে। এছাড়া জোটগতভাবে বিভিন্ন পেশাজীবি, কূটনৈতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সমন্বিত বার্তা
দিতে হবে। এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, জোট নেত্রীর মুক্তির দাবিতে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আলাদা কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কর্মসূচি ঘোষণার আগে জোটের নেতারা বৈঠক করবেন। এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিকেল ৫ টায় শুরু হয়ে বৈঠকটি সোয়া ৬ টায় শেষ হয়। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জাতীয় পার্টির (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য আব্দুল হালিম, ইসলামী ঐক্যজোটের এমএ রকীব, এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাগপার রেহানা প্রধান, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের, এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মূর্তজা, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, বাংলাদেশ ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, অপর অংশের হামদুল্লাহ আল মেহেদি, জমিয়তে উলামা ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, মাওলানা শাহিনুর পাশা, মাওলানা রেজাউল করীম, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ইসলামিক পার্টির সাখাওয়াত হোসেন চৌধুরী ও ডিএল-এর সাইফুদ্দিন মনি উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার তারিখ ঠিক হওয়ার পর গত ২৮শে জানুয়ারি ২০ দলীয় জোটের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

আমানুল্লাহ কবীর আর নেই

ব্রেক্সিটে তেরেসার হার কী ঘটবে বিলেতে

কিলিংমিশনে অংশ নেয়া আসাদুল্লাহ গ্রেপ্তার

টিআইবি’র রিপোর্টের কড়া সমালোচনায় মন্ত্রীরা

ধর্ষিতার কান্না বললেন, আমি বিচার চাই

রাতের ‘আতঙ্ক’

কাভার্ডভ্যানের চাপায় একটি স্বপ্নের মৃত্যু

অনলাইনে বাড়ছে মানবজমিন-এর জনপ্রিয়তা

বিনিয়োগ শিল্পোদ্যোক্তা বাড়ানোই লক্ষ্য

টিআইবির প্রতিবেদন সিইসির প্রত্যাখ্যান

সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে মাদক, অস্ত্র, জড়িত শতাধিক সিন্ডিকেট

শ্রমিক অসন্তোষে ১২ মামলায় গ্রেপ্তার ৪৪

যেভাবে তৈরি হবে আবেদনকারীর ফলাফল

হাসি ফিরলো শাহনাজের

কূটনীতিকদের মুখোমুখি হচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এমপিদের শপথের বৈধতা রিটের আদেশ আজ