স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষে ভারত

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, রোববার
প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিলিস্তিন সফরে গেছেন নরেন্দ্র মোদি। শনিবার সকালে জর্ডান থেকে তিনি ফিলিস্তিনের রামাল্লায় পৌঁছান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী রামি হামদাল্লাহ। পরে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সফরে ফিলিস্তিনের প্রয়াত নেতা ইয়াসির আরাফাতের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানাবেন মোদি। এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
আব্বাসের সঙ্গে আলোচনা শেষে মোদি জানান, ভারত আলোচনার মাধ্যমে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন দেখতে চায়।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিপক্ষীয় সমপর্ক ঘনিষ্ঠ করে তোলার উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন দুই নেতা। হারেৎসের এক খবরে বলা হয়েছে, শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে সরানোর বিষয়ে মোদির সঙ্গে কথা বলতে পারেন আব্বাস। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এমনটা ঘটার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে, মোদির আঞ্চলিক সফর নিয়ে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের পররাষ্ট্র নীতিমালা ঠিক করার উদ্দেশ্যেই এই সফর করছেন মোদি। ফিলিস্তিনে যাওয়ার আগে তিনি জর্ডানের বাদশা আবদুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া, ফিলিস্তিন সফর শেষে রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান সফর করার কথা রয়েছে মোদির।
সফরের বিষয়ে টুইটারে মোদি বলেন, আবু আম্মার (আরাফাত) ছিলেন বিশ্বের মহৎ নেতাদের একজন। ফিলিস্তিনে তার অবদান ঐতিহাসিক। তিনি ভারতের ভালো বন্ধু ছিলেন। রামাল্লাহতে আমি তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই ঐতিহাসিক সফরের উদ্দেশ্য হচ্ছে ফিলিস্তিনের সঙ্গে ভারতের সমপর্ক ঘনিষ্ঠ করে তোলা। মন্ত্রণালয়টি আরো জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে ফিলিস্তিনি আন্দোলনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে ভারত। প্রসঙ্গত, গত বছরের জুলাই মাসে ইসরাইলে সফর করেন মোদি। সেটি ছিল কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইল সফর। ওই সফরে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ব্যক্তিগতভাবে মোদিকে পুরো দেশ ঘুরিয়ে দেখান। সেসবের মধ্যে ইসরাইলের উন্নত পানি প্রযুক্তিও ছিল।
এ ছাড়া, সমপ্রতি ভারত সফর করেছেন নেতানিয়াহু। ছয় দিনের ওই সফরকে তিনি ভারত-ইসরাইল বন্ধুত্বের নতুন যুগ বলে বর্ণনা করেন তিনি। মোদির ইসরাইল সফরের প্রায় ছয় মাস পরে ভারত সফর করেন নেতানিয়াহু। মোদি ফিলিস্তিন সফরের মতো ইসরাইল সফরটিকেও ঐতিহাসিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। নেতানিয়াহুর ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বিষয়ক একটি কেন্দ্র উদ্বোধন করেন দুই নেতা। উভয় দেশের মধ্যে সমপর্ক ঘনিষ্ঠ করে তোলার উদ্দেশ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার একটি পরিকল্পনার ঘোষণাও দেয়া হয়। এতে করে ইসরাইলের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও ভারতের পণ্য উন্নয়ন সক্ষমতার মিশ্রণ ঘটবে। তারা বাণিজ্য, পর্যটন, গ্যাস ও অন্যান্য বিষয়ে বেশ কয়েকটি চুক্তিতেও স্বাক্ষর করেন। এ ছাড়া, নিজেদের মধ্যকার ব্যাক্তিগত বন্ধুত্ব মজবুত করার দিকেও জোর দেন দুই নেতা।
এদিকে, আন্তর্জাতিক সমপর্ক বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক অধ্যাপক বিজয় প্রসাদের মতে, ফিলিস্তিনের সঙ্গে ভারতের সমপর্কে এখনো টানাপড়েন রয়ে গেছে। তিনি বলেন, ভারত সরকারের ওপর এ বিষয়ে ব্যাপক চাপ রয়েছে- বিশেষ করে আরব দেশগুলো থেকে। যে দেশগুলো ভারত ও ভারতীয়দের জ্বালানি ও কর্মসংস্থান সরবরাহ করে। ভারত বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি ডলারের প্রকল্প বিষয়ক সহায়তা প্রদান করে। মোদি ফিলিস্তিনে এমন একটি প্রকল্পের উদ্বোধন করতেই গিয়েছেন। এই সফর প্রমাণ করে যে, ফিলিস্তিনকে অগ্রাহ্য করা ভারতের পক্ষে সহজ হবে না।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বিএনপি উন্নয়ন করতে পারে না লুটপাট করে খেতে পারে

খালেদার অর্থদণ্ড স্থগিত, জামিনের শুনানি রোববার

দুর্নীতি সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি

ভারত কি তার প্রতিবেশীদের হারাচ্ছে?

চট্টগ্রাম কারাগারে প্রেমিক জুটির বিয়ে

বিচার বিভাগের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ বেড়েছে, সভা সমাবেশের অধিকার সীমিত

বেসরকারি ব্যাংক নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভীতি

১০ টাকা কেজিতে চাল পাবে ৫০ লাখ পরিবার

নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় দেড় বছর

মিছিল নয়, কালো পতাকা প্রদর্শন করবে বিএনপি

জারের ‘দূষিত’ পানির রমরমা ব্যবসা

মাদক সরানোর অভিযোগে ২ এসআই ক্লোজড

ডিভোর্স কার্যকর হলো না শাকিব-অপুর

শিক্ষা প্রশাসনের ৩২ কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি

আমাদেরসময় ডট কমকে তারেকের স্ত্রীর আইনি নোটিশ

চীনকে বিনিয়োগকারী করতে বিএসইসিতে প্রস্তাব জমা দিলো ডিএসই