অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, রোববার
সাহিত্যের অন্বেষণকে মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়ন এবং যৌক্তিকতা বোধকে শাণিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে সাহিত্য চর্চায় নিয়োজিত থেকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে আজ এক অস্থিরতা বিরাজ করছে। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য গ্রাস করে নিতে চাচ্ছে সকল শুভবোধকে। এই অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে লড়তে হলে আমাদের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হতে হবে। আর এজন্য সাহিত্য চর্চার কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন-১৪২৪’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাহিত্য মানুষকে যুক্তিবাদী ও সংবেদনশীল করে তোলে। বহুমাত্রিক সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে সহায়তা করে। তিনি আরো বলেন, সভ্যতা বিকশিত হয়েছে মানুষের সৃজনশক্তিতে। আর এই সৃজনশীলতার বাহন হচ্ছে ভাষা। আর তাই সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশে সাহিত্যের ভূমিকা অপরিসীম। সাহিত্যচর্চা মানুষের মধ্যে শুভবোধের বিকাশ ঘটায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের অমিত সম্ভাবনার দ্বারকে উন্মোচিত করে। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে। অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে লড়তে শেখায়। যে সমাজের সাহিত্য যত ঋদ্ধ, সেই সমাজ তত বেশি সভ্য। আমাদের বাংলা সাহিত্যের ভিত্তিও অনেক সুদৃঢ়। আর সে কারণেই বাংলা ভাষা আজ বিশ্বের অন্যতম মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত। তিনি বলেন, বাঙালিরা কারো কাছে কখনো মাথা নত করে না, মাথানত করতে জানে না। কাজেই বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করেই আমাদের চলতে হবে। আমরা বাঙালি এটি ভুলে গেলে চলবে না। আজকে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাঙালির অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির আদান-প্রদানের মাধ্যমে আমাদের জানার পরিধি আরো বিস্তৃত হবে। আমাদের সাহিত্য আরো ঋদ্ধ হবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় আরবী এবং রোমান হরফে বাংলা লেখা চাপিয়ে দেয়ায় পাকিস্তানি শাসকশ্রেণির চক্রান্তেরও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২১-এর রক্তরাঙা পথ বেয়েই বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন এবং স্বাধিকারের চেতনা ধীরে ধীরে এক দুর্বার গতি লাভ করে। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ইউনেস্কো কর্তৃক ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণায় তার সরকার এবং কানাডা প্রবাসী সালাম, রফিকদের মহৎ অবদানের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য কানাডা প্রবাসী সালাম ও রফিকসহ কয়েকজন বাঙালি উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার জাতিসংঘে প্রস্তাব উত্থাপন করে। ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আজ সারাবিশ্বের সকল নাগরিকের সত্য ও ন্যায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রেরণার উৎস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক এমিরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বর্ষীয়ান সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন, নিখিল ভারত বঙ্গসাহিত্য সম্মেলনের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত ঘোষ, সহ-সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য, ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের সহ-সভাপতি সত্যম রায় চৌধুরী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর কবি শামসুর রাহমানের একটি কবিতা অনুষ্ঠানে আবৃতি করেন এবং আয়োজক কমিটির প্রধান সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু স্বাগত বক্তৃতা করেন। বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ভারত, জাপান এবং জার্মানি থেকে আগত প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করছেন। বাংলাদেশ অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই সাহিত্য সম্মেলনের যৌথ আয়োজক বাংলা একাডেমি, নিখিল ভারত বঙ্গসাহিত্য কেন্দ্র এবং ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

কারাবন্দি বাবাকে দেখে ফেরার পথে প্রাণ গেল ছেলের

আদালতের এজিপি ফেন্সিডিলসহ আটক

ফেনীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা খুন

বিএনপি নেতা কামরুল ঢালীর বিরদ্ধে দুদকে মামলা

সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত

পদ্মা সেতুর ৫৬ শতাংশ কাজ শেষ

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন ইয়াং হি লি

আইভীর সিটিস্ক্যান ও এমআরআই সম্পন্ন, রাতে প্রেস ব্রিফিং

‘যথাসময়ে সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেব’

পর্নো তারকা অলিভিয়ার মৃত্যু

বিরোধীদের নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচনা শুরু করছে পাকিস্তান সরকার

অধিভুক্তদের ঢাবির পরিচয়পত্র নয়

ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট

ময়মনসিংহে কলেজ ছাত্র নিহতের ঘটনায় মামলা

কাতার ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারবে?

যুক্তরাষ্ট্রে অচলাবস্থার নেপথ্যে