যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন

দেশ বিদেশ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:০১
বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দেয়ার জন্য বার বার চাপ দেয় স্বামী। এ নিয়ে প্রায়ই স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে হয় স্ত্রীকে। শুক্রবার রাতেও যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হয় গৃহবধূ সীমা বেগম। একপর্যায়ে স্বামী ও তার আত্মীয় স্বজন নিয়ে শিকলে বেঁধে বেধড়ক পেটাতে থাকে সীমাকে। ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের হরিনাপাটি গ্রামে। মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় গতকাল সকালে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায় স্বামী ও তার আত্মীয় স্বজন।
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ সীমা বেগম (১৯) হরিনাপাটি গ্রামের সেলিম মিয়ার কন্যা। ঘটনার পর থেকে নির্যাতনকারী স্বামী কাওসার মিয়া (৩০) পলাতক রয়েছে। স্থানীয় পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় বছর খানেক আগে হরিনাপাটি গ্রামের সেলিম মিয়ার কন্যা সীমা বেগমের সঙ্গে একই গ্রামের আলতাব আলীর মধ্যপ্রাচ্য ফেরত পুত্র কাওসার মিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। প্রথম দিকে মাস দু’য়েক সংসার ভালোভাবেই চলছিল। পরে সংসারে শুরু হয় অশান্তি। যৌতুকসহ নানা অজুহাতে সীমা বেগমকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে স্বামী কাওসার। একপর্যায়ে স্বামীর অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুই বার বাড়ি থেকে পিতার কাছে চলে আসে সীমা। পরে দুই বারই ক্ষমা চেয়ে স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে যায় স্বামী কাওসার। কিন্তু এর পরও স্ত্রীকে নির্যাতন বন্ধ করেনি স্বামী কাওসার। শুক্রবার রাতে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পিতার বাড়িতে চলে যেতে চাইলে কাওসার, তার ভাই ও বোনসহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজন মিলে স্ত্রী সীমা বেগমকে দরজা বন্ধ করে শিকল দিয়ে বেঁধে কাঠের রোল দিয়ে মারধরসহ নানাভাবে রাতভর নির্যাতন করে। শ্বশুর বাড়ির লোকজনের প্রচণ্ড মারধরে সীমার পুরো শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়।
গতকাল সকালে আহত গৃহবধূকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায় কাওসারের আত্মীয় স্বজনরা। আহত গৃহবধূর পিতা সেলিম মিয়া জানান, মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরেই তার মেয়ের জামাই শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল। যৌতুকের আবদার মেটাতে না পারায় শুক্রবার রাতে তার মেয়েকে শেকল দিয়ে বেঁধে কাঠের রোল দিয়ে মারধর করে কাওসার মিয়া। পরে এসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেয়ার হুমকি দেয় সে। সুনামগঞ্জ সদর হাসাপাতালের দায়িত্বরত এক চিকিৎসক জানান, গৃহবধূকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, সারা শরীরে তার নির্যাতনের চিহ্ন। তাকে বেশ কিছু দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে। স্থানীয় ইউপি সদস্য শওকত আলী বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অনেক দিন ধরেই কলহ চলছিল, মেয়েটি নাকি তার বাপের বাড়ি যেতে চাচ্ছিল, এজন্য স্বামী তাকে মারধর করেছে বলে শুনেছি। এ ব্যাপারে কাওসার মিয়ার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে পাওয়া যায়নি। সদর থানার ওসি মো. শহিদুল্লাহ বলেন, থানায় অভিযোগ দেয়া হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

কারাবন্দি বাবাকে দেখে ফেরার পথে প্রাণ গেল ছেলের

আদালতের এজিপি ফেন্সিডিলসহ আটক

ফেনীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা খুন

বিএনপি নেতা কামরুল ঢালীর বিরদ্ধে দুদকে মামলা

সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত

পদ্মা সেতুর ৫৬ শতাংশ কাজ শেষ

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন ইয়াং হি লি

আইভীর সিটিস্ক্যান ও এমআরআই সম্পন্ন, রাতে প্রেস ব্রিফিং

‘যথাসময়ে সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেব’

পর্নো তারকা অলিভিয়ার মৃত্যু

বিরোধীদের নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচনা শুরু করছে পাকিস্তান সরকার

অধিভুক্তদের ঢাবির পরিচয়পত্র নয়

ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট

ময়মনসিংহে কলেজ ছাত্র নিহতের ঘটনায় মামলা

কাতার ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারবে?

যুক্তরাষ্ট্রে অচলাবস্থার নেপথ্যে