সাতকানিয়ায় একটি ব্রিজের জন্য ৪ হাজার মানুষের দুর্ভোগ

বাংলারজমিন

আফজালী রহমান, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে | ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, রোববার
বার বার প্রতিশ্রুতি আর পরিদর্শনের পরও হাতিয়ার খালের ধ্বসে পড়া ব্রিজটি পুনঃনির্মাণের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। ব্রিজ না থাকায় সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের নতুন পাড়া, মাজুদ চৌধুরী পাড়া, ডাক্তার সাহেবের পাড়া, মাইজ পাড়া ও পার্শ্ববর্তী সোনাকানিয়া ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া, ডিলার পাড়া, হাতিয়ারকুল, মাঝের পাড়ার প্রায় ৪ হাজার মানুষ যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাতিয়ার খালের উপর নির্মিত জিটি জরাজীর্ণ হয়ে ধসে পড়ে। ব্রিজ থাকাকালীন প্রতিদিন শত শত গাড়ি যোগে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করতো। যান চলাচল না থাকায় স্থানীয় শিক্ষার্থীরা ২ কিলোমিটার হেঁটে মির্জাখীল উচ্চ বিদ্যালয়, মির্জাখীল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গারাংগিয়া আলীয়া মাদরাসা, গারাংগিয়া রব্বানী মহিলা ফাযিল মাদরাসা, সাতকানিয়া সরকারি কলেজ সাতকানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। তাছাড়া পাহাড়ি এলাকার মৌসুমের কৃষি পণ্য ঝুঁকি নিয়ে মাথায় করে এ ব্রিজ দিয়ে পারাপার করছে চাষিরা।
হুমকির মুখে রয়েছে মাজুদ চৌধুরী পাড়া, নতুন পাড়াসহ সরকারি ও বেসরকারি অগণিত প্রতিষ্ঠান। হাতিয়া খাল খরস্রোতা হওয়ার কারণে এ ব্রিজের ২ তীর বর্ষা মৌসুমে বারবার ভেঙে যায়। ব্রিজ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প পথ না থাকায় স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের সমস্যা বর্তমানে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রিজটি ধসের কয়েক বছর পার হলেও তা পুনঃনির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। নিরুপায় হয়ে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে ধসে পড়া ব্রিজের পাশেই বাঁশ ও কাঠ দিয়ে দেড় ফুট প্রস্থের একটি সাঁকো নির্মাণ করে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকো ভেঙে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। মির্জাখীল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমন বড়ুয়া জানান, ব্রিজ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ২ কিলোমিটার পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে আসে। প্রায় সময় তাদের স্কুলে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়। ব্রিজটি একবার পাকা হবে বলে শুনেছিলাম। এখনও পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ নেজাম উদ্দিন বলেন, হাতিয়ার খালের ব্রিজটি সম্পূর্ণ খালে ধসে গেছে। জরুরি প্রয়োজনে এলাকার জনগণ একটি কাঠের সাঁকো দিয়ে বর্তমানে যাতায়াত করছেন। ব্রিজটি নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটার নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ একটু আন্তরিক হলেই দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন