যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন

সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে সাড়ে ১৫ শতাংশ

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ২:১২
২০১৭ সালে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ও মৃত্যুর হার দুই-ই বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান সংগঠনটির নেতারা। বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালে সর্বমোট ৪ হাজার ৯শ’ ৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হন ৭ হাজার ৩শ’ ৯৭ জন। আহত হন ১৬ হাজার ১শ’ ৯৩ জন। ২০১৬ সালে দুর্ঘটনা ঘটে ৪ হাজার ৩ শ’ ১২টি আর নিহত হয় ৬ হাজার ৫৫ জন।
এ হিসাবে ২০১৭ সালে দুর্ঘটনা বেড়েছে সাড়ে ১৫ শতাংশ। আর মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পেয়েছে সাড়ে ২২ শতাংশ। দুর্ঘটনায় সাড়ে ৪২ শতাংশ পথচারীকে চাপা, ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১১ দশমিক ৯ শতাংশ খাদে পড়ে, ২ দশমিক ৮ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সংঘটিত হয়।
সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে আমরা এই পরিসংখ্যান তৈরি করেছি। এর বাইরেও হতাহত আছে। কারণ, অনেক সড়ক দুর্ঘটনার খবরই গণমাধ্যমে আসে না।
অনুষ্ঠানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অতীতে মহামারীতে অনেক লোক মারা যেত। বর্তমান সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা একটি মহামারী। এ মহামারী কমাতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সংগঠন ‘ফুয়ারা’র সভাপতি ইকরাম আহম্মেদ বলেন, মহাসড়কগুলোতে ডিভাইডার দিয়ে আলাদা করে দেয়া গেলে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটবে না। এতে সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ কমে আসবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৭ সালে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান। ওই বছর ১ হাজার ৬শ’ ৩৫টি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান দুর্ঘটনাকবলিত হয়। এর বাইরে ১ হাজার ৪শ’ ৭৫টি মোটরসাইকেল, ১ হাজার ২শ’ ৪৯টি বাস, ১ হাজার ৭৪টি অটোরিকশা, ৮শ’ ২৪টি নছিমন-করিমন, ২শ’ ৭৬টি হিউম্যান হলার, ৩শ’ ২২টি ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং ২শ’ ৬২টি কার, জিপ বা মাইক্রোবাসের মতো ব্যক্তিগত যানবাহন দুর্ঘটনাকবলিত হয়েছে।
পরিসংখ্যানে বলা হয়, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে ৪শ’ ৫০টি দুর্ঘটনায় ৫শ’ ২০ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪শ’ ৬৬টি দুর্ঘটনায় ৫শ’ ৩৫ জন, মার্চে ৪শ’ ৭২টি দুর্ঘটনায় ৫শ’ ৬ জন, এপ্রিল মাসে ৩শ’ ৭৭টি দুর্ঘটনায় ৪শ’ ১৮ জন, মে মাসে ৪শ’ ৩১টি দুর্ঘটনায় ৫শ’ ৩৯ জন, জুনে ৪শ’ ২টি দুর্ঘটনায় ৫শ’ ৩ জন, জুলাইয়ে ৩শ’ ৮০টি দুর্ঘটনায় ৪শ’ ২৫ জন, আগস্টে ৩শ’ ৪৪টি দুর্ঘটনায় ৩শ’ ৯১ জন, সেপ্টেম্বরে ৩শ’ ৯৪টি দুর্ঘটনায় ৪শ’ ৬৬, অক্টোবরে ৪শ’ ২৬টি দুর্ঘটনায় ৪শ’ ৬৫ জন, নভেম্বরে ৪শ’ ৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪শ’ ৩৭ জন এবং ডিসেম্বরে ৪শ’ ৩০টি দুর্ঘটনায় ৫শ’ জন নিহত হন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৮-০১-১৩ ১৯:৫৭:১৮

এটাই স্বাভাবিক । লোক সংখ্যা বাড়ছে গাড়ি বাড়ছে তার সাথে তাল মিলিয়ে দুর্ঘটনা ও বাড়বে। তবে বৃদ্ধির হার কম করার জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স দিবার আগে ড্রাইভিং ট্রেনিং বাধ্যতামূলক করা যায়। সংক্ষিপ্ত ট্রেনিং অনেক উপকারী হবে।

আপনার মতামত দিন

কারাবন্দি বাবাকে দেখে ফেরার পথে প্রাণ গেল ছেলের

আদালতের এজিপি ফেন্সিডিলসহ আটক

ফেনীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা খুন

বিএনপি নেতা কামরুল ঢালীর বিরদ্ধে দুদকে মামলা

সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত

পদ্মা সেতুর ৫৬ শতাংশ কাজ শেষ

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন ইয়াং হি লি

আইভীর সিটিস্ক্যান ও এমআরআই সম্পন্ন, রাতে প্রেস ব্রিফিং

‘যথাসময়ে সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেব’

পর্নো তারকা অলিভিয়ার মৃত্যু

বিরোধীদের নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচনা শুরু করছে পাকিস্তান সরকার

অধিভুক্তদের ঢাবির পরিচয়পত্র নয়

ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট

ময়মনসিংহে কলেজ ছাত্র নিহতের ঘটনায় মামলা

কাতার ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারবে?

যুক্তরাষ্ট্রে অচলাবস্থার নেপথ্যে