দাপট দেখাতে গিয়ে বিপাকে ইউএনও

বাংলারজমিন

নড়াইল প্রতিনিধি | ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, রোববার
নড়াইলে বিচারক এখন নিজেই বিচারের সম্মুখীন। লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা খানম ক্ষমতার দাপট দেখাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন। লোহাগড়া পৌর এলাকার মুরগির ফার্ম ভেঙ্গে ফেলা ও ফার্ম মালিককে ১ মাসের জেল দেয়ার ঘটনায় আগামী ১৮ই জানুয়ারি আদালতে স্ব-শরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালত ও সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়া পৌরসভার সরকার পাড়ার নওশের আলীর স্ত্রী রেজিনা খাতুন সনেট আক্তার নিজ বাড়িতে একটি মুরগির খামার করেছেন। প্রতিবেশী মঞ্জুরুল হক মোল্যা ব্যক্তিগত আক্রোশে ওই খামার বন্ধের জন্য নানাভাবে কূটকৌশল আঁটতে থাকেন। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীনের কাছে মুরগির খামার বন্ধের জন্য আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করেন মুরগির খামারের দুর্গন্ধে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আবেদন পেয়েই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীন ওই মুরগির খামার উচ্ছেদে সক্রিয় হয়ে উঠেন। প্রথমে নোটিশের মাধ্যমে খামার উচ্ছেদের চেষ্টা করেন। খামার ভেড়ে ফেলার জন্য মালিক রেজিনা খানম সনেট আক্তারকে চাপ দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এহেন আচরণে সন্দেহ হওয়ায় রেজিনা খানম সনেট আক্তার আদালতের আশ্রয় নেন। ২০১৭ সালের ৩০শে অক্টোবর ইউএনও সহ ৭ জনকে বিবাদী করে সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। মামলায় মুরগির ফার্মের মালিক সনেট আক্তার বিবাদীপক্ষের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রার্থনা করেন, যাতে তার মুরগির ফার্ম ভাঙতে না পারে। বিজ্ঞ আদালত লোহাগড়া ইউএনও সহ ৭ জন বিবাদীকে ১৪ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। ২০১৭ সালের ১লা নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে বিধি সম্মতভাবে ইউএনও সহ সকলে ওই নোটিশ গ্রহণ করেন। এ নোটিশ পেয়ে ক্ষুব্ধ হন লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীন। ওইদিনই দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওই মুরগির খামারে ভাঙচুর চালান। ফার্মের মালিকের কোনো অনুনয়-বিনয় ও অনুরোধে তার মন গলেনি। আদালতের আদেশকে তুচ্ছ করে ভেঙে দেন খামার। এমনকি সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ এনে ফার্ম মালিক সনেট আক্তারকে নির্বাহী ক্ষমতা বলে ১ মাসের জেল দেন। এক সপ্তাহ হাজত বাসের পর সনেট আক্তার জামিনে মুক্ত হন। এদিকে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ফার্মে ভাঙচুর ও মালিককে জেল দেয়ার ঘটনায় আবারও আদলাতের শরণাপন্ন হন ফার্ম মালিক সনেট আক্তার। আদালত তার নালিশের বিবরণ জেনে আগামী ১৮ই জানুয়ারি স্বশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীনকে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন