আমতলীর ৪০ স্কুলে পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান

বাংলারজমিন

আবু সায়ীদ খোকন, আমতলী (বরগুনা) থেকে | ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, রোববার
আমতলী উপজেলার ৪০টি পরিত্যক্ত ভবনে চলছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। ১৫টি বিদ্যালয় ভবনের অবস্থা খুবই নাজুক ও ৬টি বিদ্যালয় ভবন খারাপ। জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান চলছে। ১৫টি বিদ্যালয়ের ভবনের অবস্থা খুবই নাজুক ও ৬টি বিদ্যালয় ভবনের অবস্থা খারাপ। এ জরাজীর্ণ ভবনগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে পরিত্যক্ত ভবনগুলোতেই মধ্যেই চলছে পাঠদান। ভবনের এ অবস্থা হওয়ায় বিদ্যালয় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গত বছর নভেম্বর মাসে আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস পরিত্যক্ত ভবন ঘোষণা করা বিদ্যালয়গুলো হলো গেরাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য টেপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব চন্দ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমতলী একে হাইসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর পশ্চিম চরচিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব কেওয়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমতলী লোচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুলাইর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমতলী এমইউ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডালাচারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব হলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব তারিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খেকুয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হালিমা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব হরিমৃত্যুঞ্জয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর-পূর্ব কুকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য শাখারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য কৃষ্ণনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেকান্দারখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর-পশ্চিম চিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ কাঁঠালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর-পূর্ব টেপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর-পশ্চিম টেপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব কলাগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর রাওঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘোপখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ আমতলী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ পূর্ব আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর রাওঘা সততা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্দ্রা চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর রাওঘা কেওয়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর-পশ্চিম তক্তাবুনিয়া মমতাজ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব তারিকাটা এসটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চাউলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভবন খুবই নাজুক বিদ্যালয়গুলো হলো পূর্ব গুলিশাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর-পশ্চিম চিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব চরকগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ ঘোপখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ গুলিশাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর ঘটখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম নাচনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাওড়া লোদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাতাকাটা নুরুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভায়লাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাইঠা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ পাতাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর-পশ্চিম চরচিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ-পূর্ব চিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ভবন খারাপ বিদ্যালয়গুলো হলো গোজখালী বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব চাওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উল্টাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাজীপুর বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরচিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কুকুয়া গোজখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
শিক্ষক ও অভিভাবকের অভিযোগ নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ভবন নির্মাণ করায় অল্প দিনের মধ্যে ভবনগুলো ভগ্ন দশায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগের অর্থায়নে এ ভবনগুলো ১৯৮৮ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়ে নির্মাণ করা হয়। ভবনগুলোর ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। রড বেরিয়ে গেছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুয়ে পানি পড়ছে। কক্ষের ভেতরের দেয়ালে ফাটল রয়েছে। দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ছে।
আমতলী একে হাইসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর সোনখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উত্তর-পশ্চিম চরচিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, ভবনের অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ। ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পরছে। ভিম থেকে পলেস্তরা খসে পড়ে লোহার রড বেরিয়ে গেছে। টিনের চালার টিন ফুটো হয়ে গেছে।
উত্তর-পশ্চিম চরচিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শ্রাবনী, চাঁদনী, মাজহারুল, আরিফ হোসেন, শাকিল ও মীম জানায়, প্রতিদিন ভবনের পলেস্তরা খসে পড়ছে। ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে। এ জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাস করার সময়ে আতঙ্কে থাকতে হয়, কখন আবার ছাদের পলেস্তরা ভেঙে মাথায় পড়ে। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দ্রুত নতুন ভবনের দাবি জানায়। ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফিরোজা বেগম বলেন, জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে। আমতলী একে হাই সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান মো. আবদুল মান্নান সিকদার বলেন, ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ঠাসাঠাসি করে পাঠদান করাতে হচ্ছে।
আমতলী সরকারী প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম জিল্লুর রহমান বলেন, জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুদের পাঠদান করাতে যেমন পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।
আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মজিবুর রহমান পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদানের কথা স্বীকার করে বলেন, পরিত্যক্ত ভবনের তালিকা করে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে জমা দিয়েছি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

কারাবন্দি বাবাকে দেখে ফেরার পথে প্রাণ গেল ছেলের

আদালতের এজিপি ফেন্সিডিলসহ আটক

ফেনীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা খুন

বিএনপি নেতা কামরুল ঢালীর বিরদ্ধে দুদকে মামলা

সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত

পদ্মা সেতুর ৫৬ শতাংশ কাজ শেষ

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন ইয়াং হি লি

আইভীর সিটিস্ক্যান ও এমআরআই সম্পন্ন, রাতে প্রেস ব্রিফিং

‘যথাসময়ে সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেব’

পর্নো তারকা অলিভিয়ার মৃত্যু

বিরোধীদের নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচনা শুরু করছে পাকিস্তান সরকার

অধিভুক্তদের ঢাবির পরিচয়পত্র নয়

ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট

ময়মনসিংহে কলেজ ছাত্র নিহতের ঘটনায় মামলা

কাতার ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারবে?

যুক্তরাষ্ট্রে অচলাবস্থার নেপথ্যে