ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ

‘প্লেয়ার বাই চয়েজ’ই স্থায়ী হচ্ছে

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:২৯
ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে ২০১২-২০১৩ মৌসুমে হঠাৎ করেই আসে দলবদল নিয়ে নতুন নিয়ম। নতুন নিয়মের নাম-‘প্লেয়ার বাই চয়েজ’। লটারি বা নিলামে দলগুলো ক্রিকেটারদের দলে টেনে থাকে। তাতে কোনো ক্রিকেটারই নিজেদের ইচ্ছামতো টাকায় দল বদল করতে পারে না। গ্রেডিং পদ্ধতিতে ঠিক করে দেয়া হয় ক্রিকেটারদের মূল্যও। সেই সময় সাবেক থেকে বর্তমান ক্রিকেটাররা এ পদ্ধতিতে লীগের দলবদল পদ্ধতি ধ্বংস হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছিলেন।
আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে অনেক ক্রিকেটারই শঙ্কা প্রকাশ করে প্রকাশ্যে প্রতিবাদও করেন। তবে ক্রিকেটারদের অসন্তোষের মুখে খুব বেশি দিন এ নিয়ে দলবদল করা সম্ভব হয়নি ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) এর পথে। গেল বছর ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ ফের মাঠে গড়ায় উন্মুক্ত দল বদল পদ্ধতিতে। এতে ক্রিকেটারদের মধ্যে ফিরে আসে স্বস্তি। কিন্তু এক মৌসুম ঘুরতে না ঘুরতে ফের প্রিমিয়ার লীগ দলবদল প্লেয়ার বাই চয়েজ পদ্ধতি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন সিসিডিএমের নয়া চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ। এমনকি একেকবার একেক পদ্ধতির পরিবর্তে প্লেয়ার বাই চয়েজকেই স্থায়ী করার পরিকল্পনা রয়েছে নতুন কমিটির। মুঠোফোনে তিনি দৈনিক মানবজমিনকে বলেন, ‘আমরা দল বদল পদ্ধতি হিসেবে প্লেয়ার বাই চয়েজকে স্থায়ী করা যায় কিনা তা নিয়ে  বিবেচনা করবো। এ নিয়ে আমরা বোর্ডের সঙ্গে কথা বলবো, আলোচনা করে দেখবো। আমার মনে হয় বার বার পরিবর্তন না করে একটি পদ্ধতি হলে বেশ ভালো হয়।’
সূচি অনুযায়ী ৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে গড়াবে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ। ২০শে জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ‘প্লেয়ার বাই চয়েজ’ বা লটারি পদ্ধতির দল বদল। এরই মধ্যে ক্লাব গুলোকে সাতটি গ্রেডে ২২৭ জন ক্রিকেটারকে ভাগ করে একটি খসড়া তালিকাও প্রদান করা হয়েছে। সেখানে আইকন, ‘এ প্লাস’, ‘এ’, ‘বি প্লস’, ‘বি’ এভাবে সি পর্যন্ত ৭টি গ্রেডিং করা হয়েছে। আইকন গ্রেডিংয়ে সর্বোচ্চ মূল্য ৩৫ লাখ ও সি গ্রেডিংয়ে সর্বনিম্ন সাড়ে তিন লাখ টাকা পাবেন ক্রিকেটাররা।
ঠিক করা দাম নিয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যে চাপা অসন্তোষও কম নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া এক পেসার বলেন, ‘কথা বলতে গেলেই তো শাস্তি হয়। আমাদের এসোসিয়েশনও (কোয়াব) নিশ্চুপ। কী করবো বলেন? গতবার আমি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ১৫ লাখ টাকা পেয়েছি। এবার আমাকে যে গ্রেডে রাখা হয়েছে তাতে ৮ লাখ টাকা পাবো। এমন অনেক ক্রিকেটারই প্লেয়ার বাই চয়েজ নিয়ে রাগে ফুঁসছেন। কিন্তু বোর্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়াতে সরাসরি মন্তব্য করতে চাইছে না।’ গ্রেডিংয়ে টাকার পরিমাণ নিয়ে ক্রিকেটারদের  অসন্তোষ প্রসঙ্গে সিসিডিএম চেয়ারম্যান কাজী ইনাম বলেন, ‘গ্রেডিংটা শেষবার যা হয়েছিল সেটির চেয়েও বেড়েছে। আমরা আগের বারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই এবার করার চেষ্টা করেছি। এমনকি অনেক ক্রিকেটার কিন্তু আগের চেয়েও বেশি পাবে।’
প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগের উপার্জন দিয়েই অনেক ক্রিকেটারের সংসার চলে।  তাই ‘সি’ গ্রেডে মাত্র সাড়ে তিন লাখ টাকা অনেক কম কিনা এ বিষয়ে সিসিডিএম চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেখেন অনেক ক্রিকেটারই কিন্তু উন্মুক্ত পদ্ধতিতে এরচেয়ে অনেক কম টাকায় খেলে। এখন কিন্তু সেটি হচ্ছে না। যদি উদাহরণ দিয়ে বলি গতবছরে নতুন দল খেলাঘর ক্রিকেটারদের জন্য যে খরচ করেছে এ বছর ড্রাফট হওয়ার কারণে সেটি দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। যেমন রবিউল ইসলাম রবি গতবছর পেয়েছিল ৫ লাখ টাকা। এবার  গ্রেডিংয়ে আসাতে সে পাবে ৮ লাখ টাকা। আমি মনে করি এতে কোনো ক্রিকেটারই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।’  
অন্যদিকে সিসিডিএম’র নয়া সদস্য সচিব আলী হোসেন প্লেয়ার বাই চয়েজের মাধ্যমে ক্রিকেটাররা চুক্তি মোতাবেক শতভাগ টাকা নিশ্চিত পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘অনেক ক্রিকেটার উন্মুুক্ত পদ্ধতি দলবদল করে সব টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করে। প্লেয়ার বাই চয়েজ করলে তারা কিন্তু শতভাগ টাকা নিশ্চিত পাবে। খেলা শুরুর আগে ৫০ শতাংশ টাকা, শুরুর পর ২৫ ও শেষে ২৫ শতাংশ টাকা দলগুলোকে দিতেই হবে। আর একটা বিষয় আমাদের ক্লাবের কথাও ভাবতে হবে। কিছু বড় ক্লাব ছাড়া সবারতো এত টাকা খরচ করার ক্ষমতা নেই। আবার ক্রিকেটাররাও যেন না ঠকে সেটিও খেয়াল রেখেছি আমরা।’
আইকন খেলোয়াড় হিসেবে রাখা হয়েছে সাতজনকে। এর মধ্যেপাঁচজনের মূল্য ধরা হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা করে। আর সাত জনের মূল্য ঠিক করা হয়েছে ২৫ লাখ করে। শীর্ষ পাঁচ জন হলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আর পরের সাত জন হলেন ইমরুল কায়েস, মোস্তাফিজুর রহমান, নাসির হোসেন, রুবেল হোসেন, এনামুল হক বিজয়, মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন কুমার দাস।
এদের পরেই সবচেয়ে আছেন মুমিনুল হক। তার দাম ধরা হয়েছে ২৩ লাখ টাকা। মোসাদ্দেক সাইফুদ্দীন আর মোহাম্মদ মিঠুন পাবেন ২২ লাখ টাকা করে। ‘এ‘ প্লাস গ্রেডে ২৪ জনের মধ্যে ২০ জনের মূল্য ঠিক করা হয়েছে ২০ লাখ টাকা করে। এতে সৌম্য সরকারকে রাখা হয়েছে এ তালিকায় শুভাগত হোম, আল আমিন জুনিয়রদের মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে। ২০ লাখ বা তার ওপরে পাবেন মোট ৩১ জন।
শুধু ‘এ’ গ্রেডে রাখা হয়েছে ২৭ জনকে। যাদের মধ্যে রাজিন সালেহ, সাদমান ইসলামের দাম রয়েছে সবচেয়ে কম ১২ লাখ টাকা করে। আবু হায়দার রনি, সোহাগ গাজীর মতো ৯ জন পাবেন ১৮ লাখ টকা করে। এ তালিকায় থাকা মোহাম্মদ আশরাফুলের দাম ধরা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। তবে বি প্লাস গ্রেডে নাম থাকলেও মেহরাব হোসেন জুনিয়র ও মো. শরিফুল্লাহর দাম ধরা হয়েছে ১৪ লাখ টাকা। চার জনের দাম উল্লেখ আছে ১৩ টাকা।
আইকন খেলোয়াড়দের দাম: টাকা (লাখে)
মাশরাফি বিন মর্তুজা    ৩৫
মুশফিকুর রহীম    ৩৫
সাকিব আল হাসান    ৩৫
তামিম ইকবাল        ৩৫
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ    ৩৫
ইমরুল কায়েস        ২৫
মুস্তাফিজুর রহমান    ২৫
মেহেদি হাসান মিরাজ    ২৫
নাসির হোসেন        ২৫
লিটন কুমার দাস    ২৫
এনামুল হক বিজয়    ২৫
রুবেল হোসেন        ২৫

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

কলেজে এসকেলেটর বিলাস, ৪৫৪ কোটি টাকার প্রকল্প

ইইউয়ে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

ফাইনালে বাংলাদেশ হাথুরুকেও জবাব

আইভীর অবস্থা স্থিতিশীল, দেখতে গেলেন কাদের

শামীম ওসমানের বক্তব্যে তোলপাড় নানা প্রশ্ন

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘সভাপতি হলে তুই মাত করে দিবি’

চট্টগ্রামে বেপরোয়া অর্ধশত কিশোর গ্যাং

তুরাগতীরে লাখো মুসল্লির জুমার নামাজ আদায়

দু’দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা

পিয়াজের কেজি এখনো ৬৫-৭০ টাকা

নির্বাচন চাইলে সরকার আপিল বিভাগে যেতো

‘বাংলাদেশ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে’

‘শাসকগোষ্ঠীর নির্মম শিকলে বন্দি মানুষ’

ফেনীতে সাড়ে ১৩ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

ছেলেকে হত্যার পর মায়ের স্বীকারোক্তি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী নিখোঁজ