বার্সেলোনায় যত ব্রাজিলিয়ান

খেলা

স্পোর্টস ডেস্ক | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, শনিবার
সদ্য ১৪৫ মিলিয়ন পাউন্ডের রেকর্ড মূল্যে লিভারপুল থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ফিলিপ্পে কুটিনহো। তার লিভারপুল ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দেয়ার পিছনে অনেককিছুই অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে। যেমন- অর্থ, সাফল্য, ইতিহাস, বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাবের হয়ে খেলতে পারার সম্মান অর্জন। কুটিনহো এমন এক ক্লাবে যোগ দিলেন, যে ক্লাবে ফুটবল ইতিহাসের সেরা কয়েকজন খেলোয়াড় খেলেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই  ব্রাজিলের ফুটবলার। কুটিনহোর আগে বার্সেলোনায় খেলা ৩২ জন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের একটি তালিকা করা হয়েছে।
এদের মধ্যে কয়েকজনের নাম একেবারেই অপরিচিত। অন্যরা ফুটবল ইতিহাসের বিখ্যাত খেলোয়াড়।
ফউস্তো দোস সান্তোস (১৯৩১-৩২): বিশ শতকের শুরুর দিকে তিনি ব্রাজিলের অন্যতম সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ছিলেন।
জাগুয়ার (১৯৩১-৩২): ফউস্তোকে নিয়ে ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের বার্সেলোনায় যোগদানের প্রচলন শুরু করেন এ গোলরক্ষক। বার্সেলোনার হয়ে তিনি টানা ৩২ ম্যাচ খেলেন।
লুসিদিও বাতিস্তা (১৯৪৭-৪৯): তিনি প্রথম কোনো ব্রাজিলের খেলোয়াড় যে বার্সার সঙ্গে চিরস্থায়ী চুক্তি করেন।
এভারিস্তো ডি মাসেদো (১৯৫৭-৬২): বার্সেলোনার প্রথম কোনো ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা তিনি। ২২৬ ম্যাচে গোল করেন ১৭৮টি। পরপর দু’বার লা লিগার শিরোপা জিতেন।
ওয়াল্টার মাচাদো (১৯৬৬-৬৭): তাকে ‘সিলভা বাতাতা’ বলে ডাকা হতো। ব্রাজিলের হয়ে ১৯৬৬ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ খেলে বার্সায় যোগ দেন।
মারিনহো পেরেজ (১৯৭৪-৭৬): বার্সেলোনায় খেলা এ ব্রাজিলিয়ান পরবর্তীতে স্পোর্টিং লিসবনের কোচ হন। তার হাত ধরেই বার্সা তারকা লুইস ফিগো গড়ে উঠেন।
বায়ো (১৯৭৭-৭৯): বার্সার হয়ে দু’মৌসুম খেলেছেন। দু’বারই শিরোপা জিতেছেন।
রবার্তো ডিনামাইট (১৯৮০): তিনি বার্সা পরবর্তী জীবনের জন্য বিখ্যাত। তিনি ভাস্কো দা গামা ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পরবর্তীতে রাজনীতি করেছেন।
ক্লেও (১৯৮২): একটি ম্যাগাজিনে অর্ধনগ্ন ছবি দেয়ায় বার্সায় খেলা এ ব্রাজিলিয়ানকে সমকামিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। পরে তাকে বাদ দিয়ে আর্জেন্টাইন তারকা দিয়েগো ম্যারাডোনাকে নেয় বার্সা।
অ্যালোইসিও পিরেস (১৯৮৮-৯০): ব্রাজিলের এ ডিফেন্ডার বার্সার হয়ে কোপা দেল রে এবং কাপ উইনার্স কাপ শিরোপার স্বাদ নেন।
রোমারিও (১৯৯৩-৯৫): ব্রাজিলের এ স্ট্রাইকার দেশের হয়ে ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয় করেন। বার্সার হয়ে ৮২ ম্যাচে ৫৩ গোল করেন তিনি।
জিওভান্নি (১৯৯৬-৯৯): ব্রাজিলের এ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বার্সায় যোগ দিয়ে প্রথম মৌসুমেই কাপ উইনার্স কাপ জয় করেন।
রোনালদো (১৯৯৬-৯৭): ১৩.২ মিলিয়ন পাউন্ডের রেকর্ড মূল্যে বার্সায় যোগ দেন রোনালদো। বার্সেলোনার হয়ে ৪৯ ম্যাচে ৪৭ গোল করেন। ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি।
সনি অ্যান্ডারসন (১৯৯৭-৯৯): ব্রাজিলের হয়ে এ স্ট্রাইকার দু’বছর খেলেন। কিন্তু কোচ ভ্যান গালের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে বার্সেলোনা ছাড়েন তিনি।
রিভালদো (১৯৯৭-২০০২): তার সময়ে তিনি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন ছিলেন। ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেন। বর্ষসেরা ব্যালন ডি’অর পুরস্কারও জেতেন তিনি।
থিয়াগো মোত্তা (২০০১-০৭): বার্সেলোনার হয়ে ১৪২ ম্যাচ খেলেছেন মোত্তা। ২০০৬ চ্যাম্পিয়ন্স লীগে বার্সার একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন।
ফ্যাবিও রোচেমবাক (২০০১-০৩): ২০০০-এর শুরুর দিকে বার্সার খারাপ সময়ে মাঝমাঠে অনুজ্জ্বল ছিলেন তিনি।
জিওভান্নি (২০০২-০৩): ১৯ মিলিয়ন পাউন্ডে গ্রেমিও থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেন তিনি।
রোনালদিনহো (২০০৩-০৮): সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন রোনালদিনহো। ২০০৫-এ ব্যালন ডি’অর জিতেন। দু’বার লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপার স্বাদ নেন তিনি।
জুলিয়ানো বেলেত্তি (২০০৪-০৭): পায়ের জাদুতে বার্সায় স্মরণীয় বেলেত্তি। ২০০৬ চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে তার গোলেই জয় পায় বার্সা।
সিলভিনহো (২০০৪-০৯): তার সময়ে সিলভিনহো বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন। বার্সার হয়ে তিনটি লীগ শিরোপা এবং দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা জেতেন তিনি।
এডমিলসন (২০০৪-০৮) : মোত্তা, বেলেত্তি, সিলভিনহো এবং রোনালদিনহোর সঙ্গে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার এডমিলসন- এ পাঁচ ব্রাজিলিয়ান বার্সেলোনাকে সে সময় সেরা ক্লাবে পরিণত করেন।  
হেনরিক (২০০৮-১২): বার্সার হয়ে তিনি অনুজ্জ্বল ছিলেন। চার বছরে তিনবার ধারে অন্য ক্লাবে খেলেছেন।
কেইরিসন (২০০৯): ১২.৬ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যে তাকে দলে নেয় বার্সা। কিন্তু ন্যু ক্যাম্পে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি।
দানি আলভেজ (২০০৮-১৬): ডিফেন্স এবং আক্রমণ দু’বিভাগেই দুর্দান্ত দানি আলভেজ। বার্সার হয়ে ৩টি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ এবং ছয়টি লা লিগা শিরোপা জিতেছেন তিনি।
ম্যাক্সওয়েল (২০০৯-১২): বার্সায় আলভেজের মতো নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি ম্যাক্সওয়েল। ২০১২-তে বার্সা ছেড়ে পিএসজিতে যোগ দেন।
আদ্রিয়ানো কোরেইয়া (২০১০-১৬): গার্দিওলা কোচ থাকাকালীন তিনি বার্সায় খেলতেন। এখন তুর্কি ক্লাব বেসিকতাসের হয়ে খেলেন।
নেইমার (২০১৩-১৭): বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় এখন নেইমার। বার্সেলোনায় মেসি ও সুয়ারেজের সঙ্গে মিলে দুর্দান্ত খেলেছেন। ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের রেকর্ড মূল্যে গত বছর বার্সেলোনা থেকে পিএসজিতে যোগ দেন।
রাফিনহা (২০১৩-বর্তমান) : বার্সেলোনায় যে পাঁচজন ব্রাজিলিয়ান খেলেন রাফিনহা তাদের মধ্যে একজন।
ডগলাস (২০১৪-বর্তমান): সাও পাওলো থেকে মাত্র ৩.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে তাকে দলে নেয় বার্সা। এখন তিনি বেনিফিকায় খেলেন।
মারলন (২০১৭-বর্তমান): ২২ বছর বয়সী এ ডিফেন্ডারকে গত গ্রীষ্মে ফ্লুমিনেস থেকে কিনে নেয় বার্সা। ধারে ফরাসি ক্লাব নিসের হয়ে খেলছেন তিনি।
পাউলিনহো (২০১৭-বর্তমান): টটেনহ্যাম হটস্পার থেকে পাউলিনহোকে দলে ভেড়ায় বার্সা। মাঝমাঠের এ খেলোয়াড় গোল করতেও পারদর্শী।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

কলেজে এসকেলেটর বিলাস, ৪৫৪ কোটি টাকার প্রকল্প

ইইউয়ে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

ফাইনালে বাংলাদেশ হাথুরুকেও জবাব

আইভীর অবস্থা স্থিতিশীল, দেখতে গেলেন কাদের

শামীম ওসমানের বক্তব্যে তোলপাড় নানা প্রশ্ন

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘সভাপতি হলে তুই মাত করে দিবি’

চট্টগ্রামে বেপরোয়া অর্ধশত কিশোর গ্যাং

তুরাগতীরে লাখো মুসল্লির জুমার নামাজ আদায়

দু’দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা

পিয়াজের কেজি এখনো ৬৫-৭০ টাকা

নির্বাচন চাইলে সরকার আপিল বিভাগে যেতো

‘বাংলাদেশ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে’

‘শাসকগোষ্ঠীর নির্মম শিকলে বন্দি মানুষ’

ফেনীতে সাড়ে ১৩ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

ছেলেকে হত্যার পর মায়ের স্বীকারোক্তি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী নিখোঁজ