ডিএনসিসিতে প্রার্থী নিয়ে বিএনপি-জামায়াত দূরত্ব কমেনি

প্রথম পাতা

কাফি কামাল | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:০৮
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উপনির্বাচনে আজকেই দলের মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বিএনপি। ডিএনসিসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তারই ধারাবাহিকতায় আজ রাতে দলের নীতি-নির্ধারক ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন তিনি। মেয়র প্রার্থী মনোনয়নকে প্রধান এজেন্ডা করে আহূত এ বৈঠকেই বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত মঙ্গলবার নয়া পল্টনে সাংবাদিকদের কাছে এমন তথ্য জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আগামী শনিবার দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আমাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।’ এদিকে জোটবদ্ধ রাজনীতি করলেও ডিএনসিসি উপনির্বাচনে তফসিল  ঘোষণার আগেই নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে জামায়াত। বিষয়টি বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে যেমন ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে তেমনি টানাপড়েন তৈরি করেছে ২০ দলে।
সোমবার অনুষ্ঠিত ২০ দলীয় জোটের বৈঠকেও বিষয়টি উঠেছিল। জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন জোট শরিকদের কেউ কেউ। বৈঠকে উপস্থিত জামায়াতের প্রতিনিধি বলেছিলেন, ‘জোটের সিদ্ধান্ত তার দল মেনে নেবে। তবে প্রার্থীর বিষয়টি তার পক্ষে সেখানেই ফয়সালা দেয়া সম্ভব নয়। তিনি দলের নেতাদের কাছে বৈঠকের বার্তা পৌঁছে দেবেন।’ তবে সে বৈঠকের শুরুতেই শরিক দলের নেতারা জোটগতভাবে একক প্রার্থীর পক্ষে মতামত ও খালেদা জিয়ার ওপর প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দেন। পরদিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ আলাদা দুইটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘২০ দলের সভায় জোটগতভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জোট নেতারা খালেদা জিয়াকে প্রার্থী নির্বাচনের দায়িত্ব দিয়েছেন। ডিএনসিসি নির্বাচনে মেয়র প?দে ২০ দলীয় জোটের একজন অভিন্ন প্রার্থী হবেন।’ কিন্তু সুতোয় ঝুলছে মেয়র পদে জোটগতভাবে অভিন্ন প্রার্থী দেয়ার বিষয়টি। কারণ বৈঠকের পরও নিজ দলের প্রার্থী প্রশ্নে অনড় অবস্থানে রয়েছে জামায়াত। দলটির মহানগর উত্তরের আমীর সেলিম উদ্দিন ঘরোয়াভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, এখনই সব কিছুর ফায়সালা করতে চায় জামায়াত। তাই তারা বলছে, ডিএনসিসিতে আমরা অংশ নেব না। আমরা চাই সংসদ নির্বাচনে আমাদের ন্যায্য হিস্যা। ৭০টি আসন তারা এখনই নিশ্চিত করতে চায়। এর মধ্যে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের আসনও রয়েছে। বিশেষ করে সিলেট-১ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানের ব্যাপারে তারা ছাড় দিতে নারাজ। অন্যদিকে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের অনেকেই চাচ্ছেন যা হওয়ার এখনই হোক। সংসদ নির্বাচনের আগে ঝামেলা দলের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ যেমন হেফাজতের দাবির কাছে অসহায়-বিএনপিও জামায়াতের কাছে। উল্লেখ্য, নানা ইস্যুতে বেশকিছু দিন ধরেই বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।
এদিকে ডিএনসিসি উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও আওয়ামী লীগ-বিএনপি কোনো দলই ঘোষণা করেনি মেয়র পদে প্রার্থীর নাম। এ ব্যাপারে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, ডিএনসিসি নির্বাচনে সরকারের আন্তরিক প্রশ্ন এবং সংশয় রয়েছে তাদের। তা ছাড়া কৌশলগত কারণেই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে চায় তারা। তবে গতরাতে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক দল, নির্বাচনমুখী দল। নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। সারা দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে বিএনপি অংশ নিয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনেও আমরা অংশ নিতে চাই। কিন্তু সরকারই ঠিক করবে তারা সত্যিকার অর্থে নির্বাচন করতে চায় কিনা? তারা যদি ফলাফল নিয়ে কোনো কৌশল নিতে চায় সেটা কিন্তু ভিন্ন কথা। দলের প্রার্থী চূড়ান্তকরণ নিয়ে গয়েশ্বর রায় বলেন, আজকে (শনিবার) আমাদের দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক রয়েছে। বিষয়টি আজই চূড়ান্ত হতে পারে। ওদিকে ডিএনসিসি উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনার টেবিলে সবার উপরে রয়েছে বিগত নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। দলের সবুজ সংকেত পাওয়ার আগে প্রচারণার মাঠে মুখ খুলেননি তিনি। তবে নেতাকর্মীদের আলোচনা ও সমর্থকদের মুখে মুখে ফিরছে তার নাম। এ ছাড়া দলের সহ প্রকাশনা সম্পাদক ও এমবিএ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব শাকিল ওয়াহেদ সুমন মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Abdullah, Bangladesh

২০১৮-০১-১৩ ০৮:৩৯:৫৭

সত , দক্ষ , ধার্মিক ও যোগ্য রাজনীতিক হিসেবে সেলিম সাহেব অন্য সকল নেতাদের চেয়ে যোগ্য বলে আমি মনে করি ! তাই তাঁকে মূল্যায়ন করা উচিত !!

Ahmed

২০১৮-০১-১৩ ১৯:১১:৪৫

Every party has right to nominate their own candidate. Jamaat is a democratic, well organised, honest, qualified and intelligent party in the country. I support all of the above valuable comments. People want a new leadership in Bangladesh.

milon

২০১৮-০১-১৩ ০৪:২৬:২৫

সবার চেয়ে জামায়াতের সেলিম উদ্দিনই ভালো

robiul

২০১৮-০১-১৩ ০৩:০৮:১৭

জাময়াতে স্হানীয় নির্বাচনে তাদের শক্তি প্রদর্শন করা দদরকার তাহলে তাদের মূল্যায়ন করবে দুই দল।

Amir

২০১৮-০১-১৩ ০২:৪৮:১৫

Jamater parti onek Balo jamatke dewa ucit

Mushahid

২০১৮-০১-১৩ ০১:১৪:১৯

জামায়াতের প্রার্থী উচ্চ শিক্ষিত,সৎ এবং মেধাবী। বিএনপির উচিত জামায়াতের প্রার্থী কে মেনে নেয়া।

kazi

২০১৮-০১-১২ ২২:৩৬:৫৮

জামাতের জন সমর্থন বিএনপির অর্ধেক হলেও জামাতের আদেশে বিএনপিকে চলতে হত।

Md Hasanuzzaman

২০১৮-০১-১২ ১৪:২২:২৭

আগামী জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাই যেতে চাইলে,বিএনপির উচিত জামায়াতের প্রার্থীকে সমর্থন করা।কারণ বাংলাদেশের মানুষ বিএনপি আর আওয়ামীলীগ কে অনেক দেখেছে। তবে এখন তারা ভিন্ন দল ও ভিন্ন মত এবং এক ভিন্ন ব্যাক্তিত দেখতে চাই।

আপনার মতামত দিন

কলেজে এসকেলেটর বিলাস, ৪৫৪ কোটি টাকার প্রকল্প

ইইউয়ে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

ফাইনালে বাংলাদেশ হাথুরুকেও জবাব

আইভীর অবস্থা স্থিতিশীল, দেখতে গেলেন কাদের

শামীম ওসমানের বক্তব্যে তোলপাড় নানা প্রশ্ন

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘সভাপতি হলে তুই মাত করে দিবি’

চট্টগ্রামে বেপরোয়া অর্ধশত কিশোর গ্যাং

তুরাগতীরে লাখো মুসল্লির জুমার নামাজ আদায়

দু’দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা

পিয়াজের কেজি এখনো ৬৫-৭০ টাকা

নির্বাচন চাইলে সরকার আপিল বিভাগে যেতো

‘বাংলাদেশ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে’

‘শাসকগোষ্ঠীর নির্মম শিকলে বন্দি মানুষ’

ফেনীতে সাড়ে ১৩ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

ছেলেকে হত্যার পর মায়ের স্বীকারোক্তি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী নিখোঁজ