ইজতেমায় মুসল্লিদের ঢল

প্রথম পাতা

মহিউদ্দিন অদুল ও এম.এ হায়দার সরকার, টঙ্গী থেকে | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৫৪
মুসল্লির বাঁধ ভাঙা স্রোত। বিশ্ব ইজতেমার বিস্তীর্ণ প্রান্তর জুড়ে মানুষ আর মানুষ। চারদিকে কাতারের পর কাতার। নেই ছোট-বড়, সাদা-কালো ভেদাভেদ। গতকাল টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের শুরুর দিন এভাবে জুমার নামাজ আদায় করেছেন লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। শীত উপেক্ষা করে শিশু-কিশোর, যুবক-বৃদ্ধ, দেশি-বিদেশি সবাই এক জায়গায় হাজির হন আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য।
ইজতেমা শুরুর আগেই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এক মুসল্লি মারা যান। তার নাম  
কাজী আজিজুল হক (৬৫)। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান মাগুরা শালিখা উপজেলার খালিশপুর থেকে আসা এই মুসল্লি। একই রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় ইজতেমা এলাকায় মারা গেছে মামুন ওরফে মনা (৩৩) নামে অপর এক যুবক।
গতকাল জুমাবার ফজর নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাবলিগ অনুসারীদের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। সকালে জর্দানের মাওলানা শায়েখ ওমর খতিব প্রথম বয়ান শুরু করেন। তাঁবুতে অবস্থানকারী মুসল্লিরা তার বয়ান শুনেন। এরপর বিরতি দেয়া হয়। আর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মুসল্লির সংখ্যা। বড় জামাতে জুমার নামাজ আদায় করার জন্য আশপাশের এলাকার লোকজন জায়নামাজ নিয়ে ইজতেমা ময়দানে আসতে থাকে। বাস-ট্রেনে ও নৌকা দিয়ে তারা আসেন ইজতেমা এলাকায়। তারপর ইজতেমায় ঢুকার সবগুলো রাস্তায় নামে মুসল্লিদের ঢল। জুমার নামাজের পর আবার শুরু হয় ঘরে ফেরার যুদ্ধ।
দুপুর দেড়টায় জুমার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ১৬০ একর এলাকার ইজতেমা মাঠে মুসল্লিদের স্থান সংকুলান হয়নি। তাই আশপাশের সড়ক ও  মহাসড়কে মুসল্লিরা নামাজে দাঁড়িয়ে যান। যার যা আছে, তাই নিয়ে নামাজে দাঁড়ান তারা। কারো হাতে জায়নামাজ, কারো হাতে চট, কারো হাতে পত্রিকা। তা বিছিয়ে দীর্ঘ কাতারে নামাজ আদায় করেন তারা।
এদিকে বিদেশি মেহমানরা নামাজ আদায় করেন তাদের জন্য নির্ধারিত শেডে। গাজীপুর জেলা প্রশাসনের হিসাবে গতকাল সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৭১ দেশের সাড়ে চার হাজার বিদেশি মেহমান ইজতেমা ময়দানে আসেন। এর মধ্যে মালয়েশিয়ার নাগরিক রয়েছে ১০০০ জন।
জুমার নামাজে ইমামতি করেন কাকরাইল মসজিদের খতিব মাওলানা জোবায়েরুল হাসান। জুমার পরে আবার বয়ান শুরু হয়। বয়ান করেন বাংলাদেশের মুরুব্বি মাওলানা মোহাম্মদ হোসাইন। বাদ আছর বয়ান করেন মাওলানা বাসেত। বাদ মাগরিব বয়ান করেন বিশ্ব ইজতেমার সুরা সদস্য মাওলানা রবিউল হক। অবশ্য অন্যান্য বছর ইজতেমার প্রথমদিন বাদ মাগরিব বয়ান করতেন ভারতের মুরুব্বি মাওলানা সাদ কান্দলভীর। এবার তার বক্তব্য নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের পর বাংলাদেশে আসলেও তিনি কাকরাইল মসজিদেই অবস্থান করছেন। তবে ওই বিতর্কের কোনো রেশ ইজতেমা মাঠে পড়েনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নীলফামারী জেলা সদর থেকে এবার ইজতেমায় আসে বেশ কয়েকটি দল। তাদের এক দলে রয়েছে ২৯ সদস্য। তারা ৬ নম্বর রোডের ১০ নম্বর খিত্তায় ২৭০৭ খুঁটির কাছে অবস্থান নেন। তাদের একজন বয়োবৃদ্ধ মো. জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, নীলফামারী সদর থেকে অন্তত ৩০টি দল ইজতেমায় এসেছে। আমরা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য খুশি মনে ইজতেমায় আসি। আমাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে শীতের কারণে একটু ঠাণ্ডাজনিত রোগে ভুগছি। এখানে সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় অনেকগুলো মেডিকেল ক্যাম্প করেছে। সেখানে গিয়ে ওষুধও নিয়েছি।
স্বাস্থ্যক্যাম্পে মানুষের ভিড়: মুসল্লিদের একটা বড় অংশই বয়োবৃদ্ধ। রয়েছে শিশুও। গত কয়েকদিন ধরে চলা শৈত্যপ্রবাহে গাড়িতে চড়ে দূর-দূরান্ত থেকে এসে খোলা মাঠে তাঁবু টানিয়ে থাকায় তাদের অনেকে ঠাণ্ডাজনিত রোগে ভুগছে। এর মধ্যে রয়েছে সর্দি, জ্বর, নিউমোনিয়া ইত্যাদির প্রকোপ। তারা ভিড় করছে বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্পগুলোতে। গতকাল সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও মেডিকেল কলেজের স্থাপিত ক্যাম্পে চিকিৎসার জন্য মানুষের ভিড় দেখা গেছে।
এক ক্যাম্পে চিকিৎসা নেয়া শেরপুরের বাসিন্দা পঁয়ষট্টি ঊর্ধ্ব গোলাম মোস্তফা বলেন, ঠাণ্ডায়  গাড়িতে চড়ে আসায় শ্বাস কষ্টটা বেড়েছে। বেড়েছে কাশিও। এজন্য এক ক্যাম্পে গিয়ে ওষুধ নিয়েছি।
কন্ট্রোল রুম থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ: ইজতেমায়  আগত লাখ লাখ মুসল্লির নিরাপত্তা বিধান ও প্রয়োজনীয় সেবা দেয়ার জন্য সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ইজতেমা এলাকায় স্ব স্ব কন্ট্রোল রুম খুলেছে। এসব কন্ট্রোল রুম থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সেবা বণ্টনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে পরিস্থিতি। টেলিফোন শিল্প সংস্থার (টেশিস) মাঠে কন্ট্রোল রুম খোলে পুলিশ। ইজতেমা মাঠে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পুলিশ সেখান থেকে ইজতেমার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ওয়াচ টাওয়ার থেকে চলছে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম। এছাড়া মন্নু টেক্সটাইল মিল এলাকায় র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সেখানে রয়েছে গাজীপুর জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কন্ট্রোল রুম।
বিদেশি মেহমানদের বিশেষ আপ্যায়ন: বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মেহমানদের জন্য মাঠের পশ্চিম-উত্তর কর্নারে নির্মাণ করা হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের আপ্যায়ন ব্যবস্থা। ইংলিশ ও আরবদের জন্য রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন তাঁবু। যেখানে টেলিফোন ও ইন্টারনেট সুবিধা থেকে শুরু করে রয়েছে সকল ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা। খাবারের ক্ষেত্রেও করা হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন আয়োজন। সকালের নাস্তায় রয়েছে স্যুপ, ডিম রুটির পাশাপাশি দুপুর ও রাতের জন্য বিরিয়ানি। এসব রান্নার জন্য ২ শতাধিক জিম্মাদার রয়েছে বলে জানান মেহমান খানার জিম্মাদার মো. আজিজুল হক।
মুসল্লিদের মধ্যে বিভিন্ন সংগঠনের পানি সরবরাহ:  ইজতেমা ময়দানে আসা-যাওয়ার পথে মুসল্লিদের পানির পিপাসা নিবারণের জন্য গতকাল ইজতেমা ময়দানের আশপাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে খাবার পানি সরবরাহ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

কলেজে এসকেলেটর বিলাস, ৪৫৪ কোটি টাকার প্রকল্প

ইইউয়ে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

ফাইনালে বাংলাদেশ হাথুরুকেও জবাব

আইভীর অবস্থা স্থিতিশীল, দেখতে গেলেন কাদের

শামীম ওসমানের বক্তব্যে তোলপাড় নানা প্রশ্ন

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘সভাপতি হলে তুই মাত করে দিবি’

চট্টগ্রামে বেপরোয়া অর্ধশত কিশোর গ্যাং

তুরাগতীরে লাখো মুসল্লির জুমার নামাজ আদায়

দু’দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা

পিয়াজের কেজি এখনো ৬৫-৭০ টাকা

নির্বাচন চাইলে সরকার আপিল বিভাগে যেতো

‘বাংলাদেশ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে’

‘শাসকগোষ্ঠীর নির্মম শিকলে বন্দি মানুষ’

ফেনীতে সাড়ে ১৩ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

ছেলেকে হত্যার পর মায়ের স্বীকারোক্তি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী নিখোঁজ