ভারতে প্রধান বিচারপতিকে ৪ বিচারকের চ্যালেঞ্জ

প্রথম পাতা

মানবজমিন ডেস্ক | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৪৭
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের চারজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি দেশটির প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করে এক নজিরবিহীন সংবাদ সম্মেলন করেছেন। প্রধান বিচারপতি যে উপায়ে মামলা বণ্টন করছেন তা নিয়ে অসন্তুষ্ট এই চার বিচারপতি। সরাসরি প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি না করলেও তারা বলেছেন, প্রধান বিচারপতিকে অভিশংসন করা বা না করার সিদ্ধান্ত জাতিই নেবে। এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
খবরে বলা হয়, দুই মাস আগে প্রধান বিচারপতির কাছে নিজেদের আপত্তির কথা ব্যক্ত করে চিঠি লিখেছেন তারা। গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো প্রধান বিচারপতি কনিষ্ঠ বিচারপতিদের দেয়ায় আপত্তি জানান তারা।
পাশাপাশি, বিচারপতি বিএইচ লয়ার রহস্যজনক মৃত্যু সম্পর্কিত মামলার বিচারিক দায়িত্ব  বণ্টন নিয়ে আপত্তি থাকার কথাও জানান তারা। বিচারপতি লয়া আলোচিত সোহরাবউদ্দিন ‘ফেক এনকাউন্টার’ (ভুয়া বন্দুকযুদ্ধ) মামলার দায়িত্বে ছিলেন।  
তারা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির একটি ঐতিহ্যগতভাবে স্বীকৃতি হলো তিনি হলেন ‘রোস্টারে’র প্রধান। তিনি কোন বিচারপতি বা বেঞ্চকে কোন মামলার দায়িত্ব দেবেন তা নির্ধারণ করে দেন। এটি আসলে তার উচ্চপদস্থ কর্তৃত্বের স্বীকৃতি নয়। তিনি হলেন সমপদমর্যাদার বিচারকদের মধ্যে প্রথম জন। এর চেয়ে বেশি কিছু নন, কমও নন।’
যে বিচারপতিরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা হলেন- বিচারপতি চলেমেশ্বর, বিচারপতি গগৈ, বিচারপতি লোকুর ও বিচারপতি কুরিয়ান জোসেফ। তারা দাবি করেন, তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন, কারণ ‘বিচার বিভাগ পক্ষপাতমুক্ত না হলে, গণতন্ত্র টিকবে না’।
তারা কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, মেডিকেল কলেজে ভর্তি জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলাটি বিচারপতি চলেমেশ্বরের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ পাঁচ-বিচারপতি সম্বলিত একটি বেঞ্চে পাঠান। ওই বেঞ্চে ছিলেন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র এবং তারা চার বিচারপতি। কিন্তু প্রধান বিচারপতি ওই মামলা ৭ নম্বর আদালতে পাঠিয়ে দেন।
তারা আরো বলেন, সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বিচার বিভাগের কিছু অনির্দিষ্ট অনিয়মকে তারা সামনে আনতে চেয়েছেন। তাদের অভিযোগ, তাদের চিঠি পাওয়া সত্ত্বেও, প্রধান বিচারপতি মিশ্র পরিস্থিতি সঠিক পথে আনতে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তাদের চিঠির প্রত্যুত্তরও দেননি প্রধান বিচারপতি। তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েও সাক্ষাৎ পাননি।
বিচারপতি চলেমেশ্বর বলেন, আমরা সবাই মিলে প্রধান বিচারপতিকে বোঝানোর চেষ্টা করি যে, কিছু বিষয় শৃঙ্খলার মধ্যে নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তারা বলেন, সমপ্রতি বিচার বিভাগে অনেক ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ঘটনা ঘটেছে।
চার বিচারপতির সংবাদ সম্মেলনের আগে আলাদাভাবে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে, বিচারপতি বিএইচ লয়ার রহস্যজনক মৃত্যু একটি গুরুতর ইস্যু। তারা মহারাষ্ট্র সরকারকে এই মৃত্যু সংক্রান্ত সকল নথিপত্র সোমবারের মধ্যে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারপতি লয়া মৃত্যুর সময় সোহরাবুদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে ভুয়া পুলিশি বন্দুকযুদ্ধের মাধ্যমে হত্যার ঘটনা তদন্ত করছিলেন।
চার বিচারপতি বলেন, বিচারপতি লয়ার মৃত্যুর তদন্ত দাবি করে একটি পিটিশন ১০ নম্বর কোর্টে পাঠানো হয়েছে। প্রধান বিচারপতি নিজের নেতৃত্বাধীন কোনো বেঞ্চ ছাড়া শীর্ষ চার বেঞ্চে এই মামলার কার্যভার প্রেরণ করেননি।
বিচারপতি চার জন স্বীকার করেন যে, তাদের আহূত সংবাদ সম্মেলন নজিরবিহীন। তারা বলেন, এটি একটি বিস্ময়কর নজির। আমরা খুশিমনে এটি করছি না। জাতির উদ্দেশ্যে কথা বলা ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ ছিল না।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

কলেজে এসকেলেটর বিলাস, ৪৫৪ কোটি টাকার প্রকল্প

ইইউয়ে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

ফাইনালে বাংলাদেশ হাথুরুকেও জবাব

আইভীর অবস্থা স্থিতিশীল, দেখতে গেলেন কাদের

শামীম ওসমানের বক্তব্যে তোলপাড় নানা প্রশ্ন

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘সভাপতি হলে তুই মাত করে দিবি’

চট্টগ্রামে বেপরোয়া অর্ধশত কিশোর গ্যাং

তুরাগতীরে লাখো মুসল্লির জুমার নামাজ আদায়

দু’দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা

পিয়াজের কেজি এখনো ৬৫-৭০ টাকা

নির্বাচন চাইলে সরকার আপিল বিভাগে যেতো

‘বাংলাদেশ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে’

‘শাসকগোষ্ঠীর নির্মম শিকলে বন্দি মানুষ’

ফেনীতে সাড়ে ১৩ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

ছেলেকে হত্যার পর মায়ের স্বীকারোক্তি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী নিখোঁজ