গাজীপুর বিএনপিতে বিরোধ

দেশ বিদেশ

ইকবাল আহমদ সরকার, গাজীপুর থেকে | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, শনিবার
 গাজীপুর মহানগর প্রতিষ্ঠার পর অর্ধযুগ পার হলেও বিএনপি তাদের মহানগর কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি। যদিও  তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ আরো কয়েক বছর আগেই মহানগর কমিটি গঠন করে দলের নেতাকর্মীদের অনেক বেশি উজ্জীবিত করেছেন। মহানগরে বিএনপি এখনো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে মেয়াদ উত্তীর্ণ পৌর আর থানা কমিটি দিয়ে। সামনেই গাজীপুর সিটি নির্বাচন এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ওই দু’টি নির্বাচনের আগেই বিএনপি’র মহানগর কমিটি ঘোষণার দাবি রয়েছে দলের নেতাকর্মীদের। তবে বিগত কয়েক বছর আন্দোলন সংগ্রামে যারা মাঠে ছিলেন, ত্যাগী এবং যারা অনেকগুলো মামলার আসামি হয়েছেন তারা যোগ্যতম পদ পেতে আগ্রহী।
অচিরেই কমিটি ঘোষণা হচ্ছে আর সে কমিটিতে দলের কঠিন সময়ে রাজপথে থাকা অনেক ত্যাগী নেতার বদলে অনেকটা গা বাঁচিয়ে তুলনামূলক সুবিধাজনকভাবে দলের মধ্যে থাকা নেতাদের অনেকে মূল নেতৃত্বের বিভিন্ন পদ পেতে যাচ্ছেন, এমন আলোচনাই রয়েছে তৃণমূল পর্যায়ে। তারা আরো বলছেন, মহানগর বিএনপি’র নেতৃত্বের মধ্যে থাকা বিরোধ ঘুচিয়ে কমিটি গঠনসহ দলের কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারলে, বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে গাজীপুর বিএনপি পড়বে আরো কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। সামনের সিটি ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আন্দোলনে পিছিয়ে পড়ার শংকায় রয়েছেন দলের তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সর্থকগণ।
দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, গাজীপুর মহানগর বিএনপিতে মূলত দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এমএ মান্নান এবং সাবেক সংসদ সদস্য হাসান উদ্দীন সরকার ও জেলা সভাপতি ফজলুল হক মিলনকেন্দ্রিক দু’টি বলয় রয়েছে। বিগত কয়েক বছরে গাজীপুর বিএনপি নেতাদের মাঝে সবচেয়ে  বেশিদিন কারাভোগ করেছেন এবং সবচেয়ে বেশি মামলার আসামি হয়েছেন সিটি মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান। তিনি ছাড়াও তার ছেলে মঞ্জুরুল করিম রনি ও পরিবারের সদস্যরা বিগত সময়ের নাশকতার মামলায় আসামি হয়েছেন। বিগত ’১৪ সালের নির্বাচনকেন্দ্রিক ও পরবর্তীতে আন্দোলন-সংগ্রাম ও মিছিল-মিটিং এ যারা সবচেয়ে বেশি সাহসিকতার সঙ্গে রাজপথে ছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা, অন্তত ১০টি মামলার আসামি সুরুজ আহম্মেদ। শোনা যাচ্ছে মহানগরের যে নতুন কমিটি আসছে তাতে সুবিধাজনক অবস্থানে নেই সুরুজ আহম্মেদ। তেমনিভাবে সাবেক ছাত্রনেতা, যুবদল নেতা ও বিএনপি নেতাদের মধ্যে মান্নান সমর্থক হিসেবে যারা বেশি পরিচিত তাদের বেশির ভাগই এবার কোণঠাসা হয়ে যাচ্ছেন মহানগর কমিটিতে। এর কারণ হিসেবে অধ্যাপক মান্নান সমর্থরা বলছেন, স্যার বিশেষ কোনো কারণে মহানগর কমিটিতে আমাদের স্থান করে দিতে জোরালো ভূমিকা না নেয়ায় আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। উনি যদি আন্তরিকভাবে চান তাহলে অতীতের রাজনীতি, ত্যাগ ও আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকার অবদানে অবশ্যই ওনার সমর্থক সবাই যোগ্যতম স্থান পাবে। নতুবা বঞ্চিত হওয়ার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ত্যাগী নেতাদের বদলে কমিটির মূল পদগুলোতে ঠাঁই হবে সুবিধাবাদি নেতাদের। অপরদিকে, হাসান উদ্দীন সরকার সমর্থরা বলছেন, অবশ্যই অতীত কর্মকাণ্ডসহ সবকিছু বিবেচনা করেই আগামীতে দলকে দ্রুত এগিয়ে নিতে যোগ্য নেতাদের দিয়েই দলের হাই কমান্ড থেকে গাজীপুর মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হবে।
বিএনপি’র একাধিক সূত্র বলছে, দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান পদে থাকার কারণে এবার অধ্যাপক এমএ মান্নান গাজীপুর মহানগরের সভাপতির দায়িত্ব নিতে পারছেন না। যদিও ফজলুল হক মিলন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদে থাকার পরও দায়িত্বে রয়েছেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি পদে। মহানগর বিএনপি’র সভাপতি পদে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য হাসান উদ্দীন সরকার ও শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দীন সরকারের নাম রয়েছে নেতাকর্মীদের মুখে মুখে। আবার শেষ পর্যন্ত অধ্যাপক মান্নান ও পেয়ে যেতে পারেন মহানগর সভাপতির পদ। বিএনপি’র মহানগর সাধারণ সম্পাদক পদে ডা. মাজহারুল আলমসহ বেশ কয়েকজনে নেতার নাম থাকলেও জাসাস কেন্দ্রীয় নেতা শিল্পপতি সোহরাব উদ্দীনের নাম অনেকটাই নিশ্চিত বলে দাবি করছেন তিনি নিজে এবং তার অনুসারীগণ। লন্ডনে থাকা দলের নেতার মুখ থেকেও তিনি গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছেন বলে প্রচার রয়েছে। সোররাব উদ্দীনের অপর বড় ভাই শিল্পপতি নুরুল ইসলাম বাবুল আগামী সংসদ নির্বাচনে ঢাকার একটি আসন থেকে বিএনপি’র টিকিটে নির্বাচন করছেন এমন প্রচারও রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নেতা এবং গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মাঝে যারা ত্যাগী নেতা ছিলেন তাদেরও কয়েকজন গাজীপুরের  নেতাকেন্দ্রিক বলয় ও গ্রুপভিত্তিক রাজনীতির কারণে আগামী মহানগর কমিটিতে অনেকটা উপেক্ষিত হচ্ছেন বলে কয়েকজন নেতাই শঙ্কা প্রকাশ করছেন। আর সেরকম হলে আগামীদিনে আসন্ন নির্বাচন ও আন্দোলন সংগ্রামে গাজীপুর বিএনপি আরো পিছিয়ে পড়বে বলেই তাদের ধারণা। এছাড়াও মহানগর বিএনপিতে নেতাকেন্দ্রিক যে দু’টি বলয় বা ধারা রয়েছে তাদের সমন্বয় করে দল গুছাতে পারলেই আগামীদিনে রাজনীতির ফসল নিজেদের ঘরে তোলার আশা করতে পারে। বর্তমান অবস্থা টিকে থাকলে সামনের দু’টি নির্বাচন আর আন্দোলনে গাজীপুরে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে বিএনপি’র।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

কলেজে এসকেলেটর বিলাস, ৪৫৪ কোটি টাকার প্রকল্প

ইইউয়ে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

ফাইনালে বাংলাদেশ হাথুরুকেও জবাব

আইভীর অবস্থা স্থিতিশীল, দেখতে গেলেন কাদের

শামীম ওসমানের বক্তব্যে তোলপাড় নানা প্রশ্ন

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘সভাপতি হলে তুই মাত করে দিবি’

চট্টগ্রামে বেপরোয়া অর্ধশত কিশোর গ্যাং

তুরাগতীরে লাখো মুসল্লির জুমার নামাজ আদায়

দু’দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা

পিয়াজের কেজি এখনো ৬৫-৭০ টাকা

নির্বাচন চাইলে সরকার আপিল বিভাগে যেতো

‘বাংলাদেশ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে’

‘শাসকগোষ্ঠীর নির্মম শিকলে বন্দি মানুষ’

ফেনীতে সাড়ে ১৩ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

ছেলেকে হত্যার পর মায়ের স্বীকারোক্তি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী নিখোঁজ