আইডিয়াল স্কুলে আবারও অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির চেষ্টা

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, শনিবার
রাজধানীর আইডিয়াল স্কুলে গত কয়েক বছরের মতো এবারও অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে তৎপরতা শুরু করেছে গভর্নিং বডির কয়েকজন সদস্য। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত একটি অসাধু চক্র এবং একজন অভিভাবক নেতা। এতে স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ গভর্নিং বডির কয়েকজন সদস্যের নিষেধের পরও ভর্তি করতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে এ চক্রটি। এ নিয়ে স্কুলের অভিভাবকসহ শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকায় পোস্টারিং হয়েছে। কয়েকজন অভিভাবক দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ করেছেন।

সূত্র মতে, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে সকল শাখায় মোট আসন ছিল ৮০০। ইতিমধ্যেই লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছে শিশুরা। ফলে আর কোনো আসন খালি নেই। বিষয়টিতে এবার সার্বক্ষণিক নজর রাখছে দুর্নীতি দমন কমিশন। তবে তাই বলে বসে নেই ভর্তি বাণিজ্যে জড়িতরা। ইতিমধ্যেই অবৈধভাবে ভর্তির জন্য প্রভাবশালীদের সুপারিশ নিয়ে তালিকা জমা দিয়েছেন। একজন সদস্যই এক হাজার ভর্তি করাতে চান বলে চাপ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা। আর অবৈধ ভর্তির জন্য যে তদ্বির তার সংখ্যা অন্তত দুই হাজার। প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সরকারের যুগ্ম সচিব আবু হেনা মোরশেদ খান, অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম ছাড়াও গভর্নিং বডির একাধিক সদস্য অবৈধভাবে ভর্তি করতে নারাজ। ক্ষমতাসীন দলের একজন গভর্নিং বডির সদস্যে ‘অন্তত এক হাজার ভর্তি চাই’ এমন ঘোষণায় প্রতিবাদে গভর্নিং বডির অন্যান্য সদস্যরা এই অবৈধ ভর্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এরমধ্যে এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে পোস্টার ও লিফলেট বিলি করাছেন। এসব ঘটনায় বছরের শুরুতেই মারাত্মক শিক্ষা সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশের নামি এ প্রতিষ্ঠানটি। অভিভাবকরা বলছেন, সাবেক একজন নেতার তদ্বিরের জন্যই সমস্যা জটিল হচ্ছে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সদস্য। সভাপতিসহ অন্যরা না চাইলেও সে এবং তার কিছু লোকজন  ইতোমধ্যে প্রায় দেড় হাজার অভিভাবকের কাছ থেকে এক লাখ থেকে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে আন্দোলন শুরু করেছেন অভিভাবকরা। তারা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শাখায় ব্যানার পোস্টার লাগিয়ে মিছিল প্রতিবাদ করেছেন। সভাপতি আবু হেনা মোরশেদ খান স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, সরকারের নীতিমালার বাইরে কোনো ভর্তি করা চলবে না।  আর স্কুলের অধ্যক্ষ ড. শাহান ভর্তির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সিদ্ধান্ত না হওয়ার পর্যন্ত এ বিষয়ে কথা বলা সমুচিত হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ভর্তি নিয়ে আমি খুব ঝামেলায় আছি। তবে চাপ থাকলেও সরকারের আইনের বাইরে কিছু করতে রাজি নন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও গভর্নিং বডির সদস্য গোলাম আশরাফ তালুকদার। তিনি বলেন, ভর্তি নীতিমালার বাইরে এবার কিছু হবে না। কারণ দুদক থেকে আমাদের সব তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় অবৈধভাবে ভর্তির কোন সুযোগ নেই। যারা তদ্বির করছেন তারা ভুয়া বলে জানান তিনি। যার বিরুদ্ধে অবৈধ ভর্তির অভিযোগ সেই জাহিদুল ইসলাম টিপুকে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি। অভিভাবকরা জানান, কলোনি কোটা নিয়ে এতোদিন কোন আপত্তি না থাকলেও এবার এ কোটা বাতিলের দাবি তুলেছেন অভিভাবকরা। এই কোটা নিয়ে গভর্নিং কমিটি ও অভিভাবক নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ ভর্তি বাণিজ্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ফেনীতে সাড়ে ১৩ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

ছেলেকে হত্যার পর মায়ের স্বীকারোক্তি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী নিখোঁজ

নাখালপাড়ায় নিহত এক ‘জঙ্গি’ কাজেম আলী স্কুলের ছাত্র

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র খুন

অর্থমন্ত্রীর গাড়ি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে পথচারীদের ওপর, আহত ৩০

রেকর্ড গড়া জয় বাংলাদেশের

নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

জিয়াউর রহমানের সমাধিতে খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা

স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন গ্রেপ্তার

আইভীকে হাসপাতালে দেখে আসলেন ওবায়দুল

তিস্তা কূটনীতিতে চোখ ঢাকার

ভারতের পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলোর অব্যাহত সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ

শাহজালালে বৈদেশিক মুদ্রাসহ দুই যাত্রী আটক

ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ফেলানী হত্যার রিট শুনানি ফের পেছালো

যশোরে বিএনপি নেতা অমিতের বক্তব্যে তোলপাড়