ইডকলের কার্যক্রম নিয়ে বিব্রত মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটি

দেশ বিদেশ

কাজী সোহাগ | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, শনিবার
ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)-এর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিব্রত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটি। একইসঙ্গে বিব্রত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও। সংসদীয় কমিটির সদস্যরা জানান, বাজার দরের চেয়ে ইডকলের জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। তাদের কার্যক্রমে জনগণ ক্ষুব্ধ। অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ করে থাকে ইডকল। বিষয়টি হয়তো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অবহিত নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, বিভিন্ন বৈঠকে ইডকলের কার্যক্রম নিয়ে জবাব দিতে গিয়ে তাকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। গত ২২শে অক্টোবর সংসদ সচিবালয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ইডকল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই বৈঠকের কার্যবিবরণী সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়। এতে ইডকল নিয়ে মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটির সদস্যদের ক্ষোভের বিষয়টি উঠে আসে। কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে বৈঠকে কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, ইডকলের মাধ্যমে গত অর্থবছরে ১ হাজার ৩শ’ ৫৮ কোটি টাকার কাজ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জন্য আরো ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ৫৬টি এনজিও’র মাধ্যমে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। মূলত ইডকলের বরাদ্দ আসে এমপিদের নামে। কিন্তু এমপিদের মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং সুপারভাইজিংয়ের কোনো অথরিটি নেই। তাই আপাতত তাদের কোনো সম্পৃক্ততাও নেই। কিন্তু জনপ্রতিনিধি হিসেবে সম্পূর্ণরূপে জবাবদিহিতা এমপিদের। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে কিভাবে এ প্রকল্পতে সম্পৃক্ত করা যায় তা চূড়ান্ত হওয়া প্রয়োজন। মন্ত্রণালয় যে বরাদ্দ দেয় তার ৫০ ভাগ কাজ করে ইডকল। বাইরে থেকে যে জিনিসগুলো ৩০ হাজার টাকায় কেনা যায় তা ইডকল থেকে ৫৬ হাজার টাকায় কেনা হচ্ছে। তাই এর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, ইডকলের কার্যক্রমে নানা রকম মতবিরোধ আছে এবং পত্রিকান্তরেও তা প্রকাশ পাচ্ছে। যা এই কমিটির জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। যদি একই জিনিস অন্যত্র কমমূল্যে পাওয়া যায় তা সরজমিন পরিদর্শনপূর্বক একটি সঠিক সিদ্ধান্তে আসা প্রয়োজন। সচিবকে এটা দেখতে হবে। মন্ত্রণালয়কে এর দায়িত্ব নিতে হবে। ভবিষ্যতে কমিটির সদস্যরা এর জন্য জবাবদিহি করবে না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, ইডকল একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইডকল কোম্পানি পরিচালিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুশাসন অনুযায়ী মন্ত্রণালয় শুধু জেলা প্রশাসকদের কাছে অর্থের বরাদ্দ দিয়ে থাকে। জেলা প্রশাসকরা আবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের কাছে অর্থের বিভাজন করে থাকেন। তিনি জানান, শর্ত অনুযায়ী ইডকলের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের চুক্তি হয়। বাস্তবায়ন অগ্রগতির বিষয়টি দেখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। শ্রেডা মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি করে থাকে। তিনি বলেন, পণ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নির্ধারণ করে থাকে। মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ে কিছুই করণীয় নেই। তিনিও ইডকল কোম্পানির কার্যক্রম নিয়ে অসন্তুষ্ট বলে কমিটিকে অবহিত করেন। কারণ বিভিন্ন বৈঠকে ইডকলের কার্যক্রম নিয়ে জবাব দিতে গিয়ে তাকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। তিনি ইডকলের পণ্য ও কার্যক্রম নিয়ে সংসদীয় কমিটির একটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ কামনা করেন। কমিটির সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল বলেন, উপজেলাসমূহে ইডকল হতে যে সোলার প্যানেল পাওয়া যাচ্ছে বাইরে তার চেয়ে কমমূল্যে উন্নতমানের সোলার প্যানেল কেনা সম্ভব। তাহলে কেন বেশি মূল্যে কিনে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে। কমিটির অপর সদস্য বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, বাজার দরের চেয়ে ইডকলের জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। তাদের কার্যক্রমে জনগণ ক্ষুব্ধ। অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ করে থাকে ইডকল। কমিটির অপর সদস্য আবদুর রহমান বদি বৈঠকে বলেন, ইডকল কোম্পানি এত নিম্নমানের কাজ বেশি মূল্যে করছে তা হয়তো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অবহিত নয়। তাছাড়া ইডকল কি কি শর্তে কাজ করছে তা জানা নেই। তাই তিনি ইডকল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন। তার নির্বাচনী এলাকায় সোলার প্যানেলের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হচ্ছে বলে জানান। সভাপতি মহোদয়কে একটি সংসদীয় প্রতিনিধি দল তার নির্বাচনী এলাকা টেকনাফ-সেন্টমার্টিনে সোলার প্যানেলের নিম্নমানের কাজ পরিদর্শনের অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, কাজ শেষ করার পর পরই আবার এগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চুলাগুলো ঠিকমতো দেয়া হয়নি। ডিজাইন ঠিক হয়নি। ভালো ডিজাইন দেয়ার জন্য তিনি ইডকলকে অনুরোধ জানান। এ পর্যায়ে কমিটি সভাপতি বলেন, ইডকল কোম্পানির কাছে জানা দরকার যে তারা তাদের পণ্যের মূল্য কমাতে পারবে কিনা। এছাড়া যেসব এনজিও কমমূল্যে সোলার প্যানেল সরবরাহ করতে পারে তাদের মাধ্যমে কাজ করানো সম্ভব কিনা? তিনি বলেন, যদি ইডকল তাদের মূল্য কমাতে না পারে প্রয়োজনে সংসদীয় কমিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে ইডকলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে। এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ইডকল এভাবে কাজ করলে আলোকিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। দাম বেশি, মান খারাপ  এবং এর দায়িত্ব কার এটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসময় সচিব বলেন, সোলারের নীতিমালা কাবিটা ও টিআর নীতিমালা একই রূপ। কিন্তু ইডকলকে তিনি সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করেন না। তবে বিতর্কিত কোম্পানিদের দিয়ে কাজ না করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

কলেজে এসকেলেটর বিলাস, ৪৫৪ কোটি টাকার প্রকল্প

ইইউয়ে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

ফাইনালে বাংলাদেশ হাথুরুকেও জবাব

আইভীর অবস্থা স্থিতিশীল, দেখতে গেলেন কাদের

শামীম ওসমানের বক্তব্যে তোলপাড় নানা প্রশ্ন

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘সভাপতি হলে তুই মাত করে দিবি’

চট্টগ্রামে বেপরোয়া অর্ধশত কিশোর গ্যাং

তুরাগতীরে লাখো মুসল্লির জুমার নামাজ আদায়

দু’দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা

পিয়াজের কেজি এখনো ৬৫-৭০ টাকা

নির্বাচন চাইলে সরকার আপিল বিভাগে যেতো

‘বাংলাদেশ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে’

‘শাসকগোষ্ঠীর নির্মম শিকলে বন্দি মানুষ’

ফেনীতে সাড়ে ১৩ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

ছেলেকে হত্যার পর মায়ের স্বীকারোক্তি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী নিখোঁজ