সরকারের চার বছর পূর্তি আজ

উন্নয়ন এগিয়ে নিতে সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ জানুয়ারি ২০১৮, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৫৩
নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ক্ষমতার পাঁচ বছরে পা রাখছে সরকার। ২০১৪ সালের এই দিনে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট। ওই বছরের ৫ই জানুয়ারির অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে বিতর্ক থাকলেও সরকার বলছে সংবিধান সমুন্নত রাখতে ওই নির্বাচনের ফলে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে। শুরুর দিকে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে অস্বস্তি আর বিরোধী জোটের আন্দোলন কর্মসূচিতে সরকার চাপে থাকলেও পরবর্তী বছরগুলোতে সে চাপ সামলে নানামুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। সরকারের চতুর্থ বছরটিও ছিল অনেকটা স্বস্তির। বিরোধী জোটের জোরালো আন্দোলন কর্মসূচি না থাকায় নিজেদের ছকেই বছর পার করেছে সরকার।
টানা নয় বছর ক্ষমতায় থাকায় সরকারের শেষ সময়ে আলোচনায় আছে এই সময়ে উন্নয়নের হিসাবনিকাশ আর সামনের জাতীয় নির্বাচনের বিষয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সামনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনই সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, সরকার পরিচালনায় সাফল্যের পাশাপাশি কিছু ভুল-ত্রুটিও রয়েছে। সামনের দিকে এসব শুধরে উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন তারা। গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সরকারের চার বছরপূর্তির সাফল্য-ব্যর্থতার মূল্যায়ন করে বলেছেন, আমাদের অনেক সফলতা আছে, ত্রুটি নেই 
- এটিও বলা যাবে না। এদিকে সরকারের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সারা দেশে আয়োজিত উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। সরকারের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এতে গত চার বছরের সরকারের অর্জনের চিত্র তুলে ধরবেন। শেষ বছরে সরকারের পরিকল্পনার বিষয়ও থাকবে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে। এদিকে সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্য তুলে ধরতে আজ রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, দ্বিতীয় মেয়াদে বর্তমান সরকার অর্থনীতি, অবকাঠামো, কূটনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলসহ বেশকিছু বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগকে সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিদায়ী বছরে মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে সরকার সারা পৃথিবীর প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে চালসহ দ্রব্যমূল্যে সাধারণ মানুষের অস্বস্তি, গুম, খুন ও হেফাজতে মৃত্যুসহ মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি রোধ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের ব্যর্থতা রয়েছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এছাড়া, মুক্ত রাজনীতি চর্চার ক্ষেত্রে বাধা রয়েছে বলে সরকারের শুরু থেকে অভিযোগ করে আসছে বিরোধী দলগুলো।
উন্নয়নকাজ এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী: সারা দেশে উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মেলায় আজকে যারা সম্পৃক্ত রয়েছেন তাদের বলবো যে কাজগুলো আমরা করতে পেরেছি এবং যে কাজগুলো ভবিষ্যতে করার পরিকল্পনা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে সেগুলো সম্পর্কে যেমন জনগণকে সচেতন করা দরকার তেমনি আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় তার জন্য সকলের সহযোগিতা একান্তভাবে দরকার। এই উন্নয়ন যেন অব্যাহত থাকে সেই লক্ষ্য নিয়েই এই উন্নয়ন মেলার সূচনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে সকল জেলা-উপজেলায় অনুষ্ঠিত উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করেন। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া, এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই উন্নয়ন মেলা নিয়ে একটি ভিডিও তথ্যচিত্র পরিবেশিত হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বরগুনা, ঝিনাইদহ, হবিগঞ্জ, গাইবান্ধা ও চাঁদপুর জেলার স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সরকার প্রতিটি গ্রামকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবো। যে স্বপ্ন একদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেখেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর এই দেশকে গড়ে তোলার জন্য জাতির পিতা মাত্র সাড়ে ৩ বছর সময় পেয়েছিলেন। এত স্বল্প সময়ে কোনো যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল কিনা তার জানা নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই অসাধ্য সাধন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তার মতো বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ছিল বলেই এটা সম্ভব হয়েছিল। তিনি বলেন, যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি জাতির পিতা যখন উন্নয়নের কাজ শুরু করেন যার সুফল দেশবাসী পেতে শুরু করে ঠিক সে সময়েই জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। জাতির পিতাকে হত্যার পরই এদেশে অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখলের রাজনীতি শুরু হয়। যারা এই ক্ষমতা দখলকারী তারা ক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করার জন্য একের পর এক ক্যু ঘটিয়ে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা-সামরিক অফিসার এবং সৈনিক হত্যা করেছে। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ বঞ্চিত এবং শোষিত থেকে গেছে। তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। নিজেদের ভাগ্য গড়ায় ’৭৫ পরবর্তী শাসকগোষ্ঠী যতটা ব্যস্ত ছিলেন দেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে তারা কিছুই করেননি। সরকারের লক্ষ্যই তৃণমূল মানুষের জীবনমান উন্নয়ন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে যদি অর্থনৈতিকভাবে উন্নত করতে হয় তবে, শুধু ধনিক শ্রেণিকে আরো ধনী বানানোর প্রয়োজন নেই। বরং যারা একেবারে তৃণমূলে পড়ে আছে, অবহেলিত রয়েছে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হবে। গ্রামের জনগণের প্রাপ্য সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা দিতে হবে এবং গ্রামের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী ও মজবুত করতে হবে, অর্থ প্রবাহ বৃদ্ধি করতে হবে। গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নে সরকার ৫ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ইতিমধ্যে ৫ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যার সুফল দেশের মানুষ পাচ্ছে।
আর্মি স্টেডিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: ‘পিতার স্বপ্নে কন্যার আহ্বানে কোটি মানুষের মিছিল চলেছে মুক্তির অভিযানে’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে সরকারের ৪ বছর পূর্তি এবং এ সময়ের উন্নয়ন ও সাফল্যগাথাকে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। শুক্রবার আর্মি স্টেডিয়ামে এ অনুষ্ঠান বিকাল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলবে। তবে দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য দুপুর ২টায় আর্মি স্টেডিয়ামের গেট খুলে দেয়া হবে। জাঁকজমকপূর্ণ এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালার ফাঁকে ফাঁকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রামাণ্যচিত্র অনুষ্ঠানস্থলে বড় পর্দায় প্রদর্শন করা হবে। সাংস্কৃতিক পর্বে মুক্তিযুদ্ধকালীন গণসংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও দেশের গানসহ ব্যান্ডসংগীত পরিবেশিত হবে। শিল্পকলা একাডেমির সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দিয়ে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে দেশের বিখ্যাত ব্যান্ডদল সোলস, চিরকুট, দলছুট এবং ব্যান্ডশিল্পী জেমস ব্যান্ডসংগীত পরিবেশন করবেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৮-০১-১২ ০৩:৪৮:১৬

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলেও বিএনপি এবার ক্ষমতায় যাবে না। আ লীগই সরকার গঠন করবে। তবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না সত্য। তবে পর পর সরকারী ক্ষমতায় ফিরে আসতে হলে ছাত্র/যুব সংগঠন গুলিতে আগাছা দূর করতে হবে। ব্যাংক লুটের কঠোর বিচার করতে হবে ভর্তুকি বন্ধ করে। দুর্নীতিবাজ আমলাদের কঠোর ভাবে দুদকের সহায়তায় দমন করে রাখতে পারলে বিএনপি কখনও ক্ষমতায় যেতে পারবে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসে নেগেটিভ ভোটে। জনপ্রিয়তায় নয়।

আপনার মতামত দিন

ফেনীতে সাড়ে ১৩ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

ছেলেকে হত্যার পর মায়ের স্বীকারোক্তি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী নিখোঁজ

নাখালপাড়ায় নিহত এক ‘জঙ্গি’ কাজেম আলী স্কুলের ছাত্র

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র খুন

অর্থমন্ত্রীর গাড়ি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে পথচারীদের ওপর, আহত ৩০

রেকর্ড গড়া জয় বাংলাদেশের

নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

জিয়াউর রহমানের সমাধিতে খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা

স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন গ্রেপ্তার

আইভীকে হাসপাতালে দেখে আসলেন ওবায়দুল

তিস্তা কূটনীতিতে চোখ ঢাকার

ভারতের পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলোর অব্যাহত সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ

শাহজালালে বৈদেশিক মুদ্রাসহ দুই যাত্রী আটক

ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ফেলানী হত্যার রিট শুনানি ফের পেছালো

যশোরে বিএনপি নেতা অমিতের বক্তব্যে তোলপাড়