৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা

এক্সক্লুসিভ

সংসদ রিপোর্টার | ১২ জানুয়ারি ২০১৮, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:২৭
নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি আরো জানান, ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। ওই সময়ের মধ্যে ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ ব্রান্ডিং বাস্তবায়ন হবে। গতকাল সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর-পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। সরকারি দলের সদস্য এম আব্দুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, বিদ্যুৎ উপাদনের মহাপরিকল্পনায় তরল জ্বালানিভিত্তিক বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৯ শতাংশ থেকে ২০৪১ সালে এক শতাংশে নামিয়ে আনার কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুতায়নের জন্য সৌরশক্তিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে গ্যাস, এলএনজি, নবায়ণযোগ্য জ্বালানি এবং নিউক্লিয়ার এনার্জিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। একই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সঠিক সিদ্ধান্ত যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সিস্টেম লস সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ডিপিডিসি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় অন্যান্য বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিতে বিদ্যুৎ চুরি বন্ধের লক্ষ্যে সকল এনালগ মিটার অপসারণ করে ডিজিটাল প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
খনিজ সম্পদের সন্ধান: তরীকত ফেডারেশনের মহাসচিব এমএ আওয়ালের প্রশ্নের জবাবে খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বেশকিছু খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) এবং পেট্রোবাংলার অনুসন্ধান কার্যক্রমের ফলে দেশে এ পর্যন্ত উন্নতমানের বিটুমিনাস, পীট কয়লা, চুনাপাথর, সাদামাটি, কাঁচাবালি, কঠিনশীলা, নূড়িপাথর, নির্মাণ বালি ও ভারি খনিজ সম্পদ আবিষ্কৃত হয়েছে। একই প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, খনিজসম্পদ আহরণের ক্ষেত্রে দেশে ভিন্ন ভিন্ন আইন ও বিধিবিধান রয়েছে। দেশের আনশোর ও অফশোর এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, উত্তোলন ও বিপণনের জন্য বাংলাদেশ গ্যাস আইন-২০১০, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম আইন-২০১৬, ন্যাশনাল এনার্জি পলিসি-১৯৯৬ এবং এ সংক্রান্ত বিধি-বিধান রয়েছে। তেমনি অন্যান্য খনিজ সম্পদের ক্ষেত্র খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন আইন-১৯৯২ এবং খনিজ সম্পদ বিধিমালা-২০১২ রয়েছে বলে তিনি জানান।
চলতি বছরেই গ্যাসের ঘাটতি দূর: চলতি ২০১৮ সালের মধ্যেই গ্যাসের ঘাটতি দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। সরকারি দলের সদস্য বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানিয়েছেন, গ্যাসের ঘাটতি দূর হলে সারকারখানাসহ সকল খাতে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। একই প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ ও আবাসিক ইত্যাদি খাতে গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং তার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় বর্তমানে বেশ কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ৫টি সারকারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে অধিক দক্ষতাসম্পন্ন ৩টি সারকারখানায় সরবরাহ (শাহজালাল, কাফকো ও যমুনা) চালু রয়েছে। গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির প্রচেষ্টার পাশাপাশি গ্যাসের বর্ধিত চাহিদা মেটানোর জন্য এলএমজি আমদানির কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

কারাবন্দি বাবাকে দেখে ফেরার পথে প্রাণ গেল ছেলের

আদালতের এজিপি ফেন্সিডিলসহ আটক

ফেনীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা খুন

বিএনপি নেতা কামরুল ঢালীর বিরদ্ধে দুদকে মামলা

সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত

পদ্মা সেতুর ৫৬ শতাংশ কাজ শেষ

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন ইয়াং হি লি

আইভীর সিটিস্ক্যান ও এমআরআই সম্পন্ন, রাতে প্রেস ব্রিফিং

‘যথাসময়ে সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেব’

পর্নো তারকা অলিভিয়ার মৃত্যু

বিরোধীদের নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচনা শুরু করছে পাকিস্তান সরকার

অধিভুক্তদের ঢাবির পরিচয়পত্র নয়

ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট

ময়মনসিংহে কলেজ ছাত্র নিহতের ঘটনায় মামলা

কাতার ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারবে?

যুক্তরাষ্ট্রে অচলাবস্থার নেপথ্যে