সব শেষ, এখন লাশের অপেক্ষা

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে | ১২ জানুয়ারি ২০১৮, শুক্রবার
অনেক স্বপ্ন ছিল। ছেলে বিদেশ গিয়ে টাকা পাঠাবে। সংসারে আর দুঃখ কষ্ট থাকবে না। ছেলের টাকায় চিকিৎসা হবে। এতে বড় ছেলের নষ্ট হয়ে যাওয়া দুটি চোখ স্বাভাবিক দৃষ্টি ফিরে পাবে। তাই সাড়ে সাত লাখ টাকা ঋণ করে আদরের সন্তানকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন বৃদ্ধ বাবা।
কিন্তু একটি দুর্ঘটনা সব কিছু শেষ করে দিয়েছে। বাকরুদ্ধ পিতা এখন সন্তানের লাশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ বাংলাদেশির মধ্যে নিহত মতিউর রহমান বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তার পাসপোর্ট নাম্বার এএফ ৮২৯৭৯২৮। বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বারদীর আনন্দবাজার, নুনেরটেক গ্রামে। মতিউরের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। মতিউর রহমান ২৩ মাস আগে আল ফাহাদ কোম্পানিতে মাসিক ৬০০ রিয়েল বেতনে সৌদি আরবে গিয়েছিল। অসচ্ছল পরিবারকে সহায়তা করতে সাড়ে ৭ লাখ টাকা খরচ করে তাকে বিদেশে পাঠান বৃদ্ধ বাবা মোহাম্মদ আলী। বিদেশে যাওয়ার পর মতিউর নিজের খরচে খেয়ে পরে দেশে অল্প কিছু টাকা পাঠাতে পারতো। কিন্তু ঋণের টাকা পরিশোধ না হওয়ার আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় সে মারা যায়।
৬ই জানুয়ারি সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে ৮০০ কিলোমিটার দূরে ইয়ামেন সীমান্ত এলাকার জিজান প্রদেশে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে মতিউর রহমান নিহত হন। সে জিজান প্রদেশের আল ফাহাদ কোম্পানির পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিল। নিহত অন্যদের সঙ্গে মতিউরের লাশ জিজানের একটি মর্গে রাখা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রমতে, ৫ ভাই বোনের মধ্যে মতিউর রহমান সবার ছোট। তার আয়ের টাকায় তাদের সংসার চলতো। তার বাবা মোহাম্মদ আলী বৃদ্ধ, তার বড় ভাই রোশন আলীর একটি চোখ নষ্ট। চিকিৎসার অভাবে দুটি চোখই নষ্ট হওয়ার পথে। অপর ভাই কাজ করতে পারে না বলে তাদের পরিবার জানিয়েছে। নিহত মতিউরের বাবা মোহাম্মদ আলীর একটাই দাবি, তার ছেলের লাশটি যেন ফিরে পান। মতিউরের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা ও আর্থিক সাহায্য কামনা করেন তিনি। কিন্তু ঋণের টাকা পরিশোধের দায়িত্ব কে নেবে, সংসারই বা চলবে কিভাবে? এই চিন্তায় নিহত মতিউরের বৃদ্ধ মা বাবা অনেকটা বাকরুদ্ধ।
সরজমিনে মতিউরের গ্রামের বাড়ি নুনেরটেক গ্রামে গিয়ে দেখা যায় পুরো বাড়ি জুড়ে শোকের ছায়া। স্বজনদের চোখে মুখে হতাশার ছাপ। কথা হয় মতিউরের বাবা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে। তিনি জানান, তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন মতিউর। তিনি কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না। বড় ছেলে রওশন আলীর একটি চোখ নষ্ট। বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী বলেন স্ত্রী, সন্তান, নাতি নাতনিদের নিয়ে কি করে সংসার চলবে। কিভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করবো। বাড়ির দলিল দিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা এবং বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সুদের বিনিময়ে ৫ লাখ টাকা কিভাবে পরিশোধ করবো কোনো উপায় দেখছি না। একটু সুখের আশায় ঋণ করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। এখন আমাদের সামনে শুধুই অন্ধকার।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

manik

২০১৮-০১-১২ ০০:১৩:০৪

হায় রে বিদেশ!!!

সোয়েব

২০১৮-০১-১১ ১৩:৫২:৫১

আমি মোটেও ভেবে পাইনা ৭লাখ টাকা ঋন করে মাত্র ৬০০ রিয়াল মাসিক বেতনে কিভাবে মানুষ বিদেশে যায়? ঐ ৭ লাখ টাকা দিয়ে দেশে কিছু করলেওতো ভাল হইতো। আমাদের দেশের মানুষের বিবেক বলতে কিছুই নেই। আর কিছুই বলার নেই।

তন্ময়

২০১৮-০১-১১ ১১:৪৬:০০

অনেক খারাপ লাগছে মতিউর এর পরিবারের জন্য

আপনার মতামত দিন

কারাবন্দি বাবাকে দেখে ফেরার পথে প্রাণ গেল ছেলের

আদালতের এজিপি ফেন্সিডিলসহ আটক

ফেনীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা খুন

বিএনপি নেতা কামরুল ঢালীর বিরদ্ধে দুদকে মামলা

সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত

পদ্মা সেতুর ৫৬ শতাংশ কাজ শেষ

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন ইয়াং হি লি

আইভীর সিটিস্ক্যান ও এমআরআই সম্পন্ন, রাতে প্রেস ব্রিফিং

‘যথাসময়ে সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেব’

পর্নো তারকা অলিভিয়ার মৃত্যু

বিরোধীদের নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচনা শুরু করছে পাকিস্তান সরকার

অধিভুক্তদের ঢাবির পরিচয়পত্র নয়

ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট

ময়মনসিংহে কলেজ ছাত্র নিহতের ঘটনায় মামলা

কাতার ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারবে?

যুক্তরাষ্ট্রে অচলাবস্থার নেপথ্যে