কঙ্গোতে বন্যায় ৪৫ জনের মৃত্যু

বিশ্বজমিন

অনলাইন ডেস্ক | ১১ জানুয়ারি ২০১৮, বৃহস্পতিবার
ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় কঙ্গোতে কমপক্ষে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় রেড ক্রসের তথ্যমতে, বাস্তুচ্যুত হয়েছে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ। ৩রা জানুয়ারি থেকে টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘরবাড়ি ভাঙ্গাসহ ভূমিধ্বস সৃষ্টি হয়েছে।

কিনশাসা শহরের নিবাসী তাশিমস বাদিবাঙ্গা আত্মীয়ের শেষকৃত্যে অংশগ্রহন করতে গিয়ে আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমার বোন তার পাঁচ সন্তানকে হারিয়েছেন। তাকে কিছুতেই সান্তনা দেওয়া যাচ্ছে না।’বন্যায় আক্রান্ত এভারিস্তে কাযাদি বলেন, ‘আজ আমাদের এই চেয়ারগুলো ছাড়া আর কিছুই নেই। বাড়িতে না থাকলে আমি আমার সন্তানদের হারাতাম।’

এদিকে, বন্যার ফলে চলমান কলেরা প্রদুর্ভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বন্যার পরে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব, ঘনবসতি এবং অনুন্নত স্যানিটেশনের জন্য কিনশাসাতে দ্রুত কলেরা ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, গত বিশ বছরে এটি কঙ্গোতে হওয়া সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। জুলাই মাস থেকে শুরু হয় কলেরার প্রাদুর্ভাব। এরপর দেশটির ২৬টি প্রদেশের ২৪টিতে তা ছড়িয়ে পড়ে। এতে এ যাবত মারা গেছেন কমপক্ষে ১১৯০ জন। আর হৃদয়বিদারক এই ঘটনা প্রতিরোধে তেমন কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ডক্টর্স উইদাউট বর্ডার্স এর জিন লিয়োলঙ্গো জানান, গত কয়েক সপ্তাহে গড়ে কলেরা সংক্রমনের ২০টির মতো ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। কিন্তু এখন তারা প্রতি সপ্তাহে একশোর বেশি পাচ্ছেন এবং শুধু কিনশাসাতেই তারা ৪৫০টির বেশি ঘটনা নথিভুক্ত করেছেন। ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের বন্যাপ্রবন এই শহরের অবকাঠামো খুবই দুর্বল। বৃষ্টি হলেই বন্যা দেখা যায়। সরকারের পক্ষ থেকে গত সপ্তাহের বন্যার জন্য অননুমোদিত বসতির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতাকে দায়ী করছে।

সরকারে পক্ষ থেকে দুইদিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। কিনশাসার ফুনা জেলায় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।  দেশটির অন্য অংশ বন্যাকবলিত হয়ে এর আগে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হয়েছে ৯২ জন । 

[পিসি/এইচএম]



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন